অস্ত্র হাতে ভাইরাল সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

7

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিদেশী অস্ত্র হাতে ছবি ভাইরাল হওয়া ছাত্রলীগ নেতা আবু বক্কার সিদ্দিকী ওরফে রাতুলকে (৩০) রাজশাহী থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতার রাতুল পাবনার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও সদ্য বিলুপ্ত হওয়া পাবনা জেলা ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক। স্থানীয়ভাবে এলাকার মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি এবং আধিপত্য বিস্তারের জন্য ছাত্রলীগ নেতা রাতুল ফেসবুকে বিদেশী অস্ত্র হাতে ছবি দিয়েছিলেন। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি নিজের কাছে পিস্তল রাখতেন। ফেসবুকে ছবি দেয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল- যাতে সকলে তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের কথাটি জানেন এবং তিনি নিজেকে বড় ধরণের সন্ত্রাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

রাতুলের বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের গাবগাছি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে।

ছাত্রলীগ নেতা রাতুলকে গ্রেফতারের পর গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে র‌্যাব-৫ রাজশাহী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন র‌্যাব-৫ রাজশাহীর অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান তালুকদার।

তিনি বলেন, ফেসবুকে বিদেশী অস্ত্র হাতে ছবি ভাইরাল হওয়া পাবনার রাতুলকে রাজশাহী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাতুলকে ধরার জন্য বেশ কয়েক দিন থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল র‌্যাব-৫। এরপর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন গ্র্যান্ড তোফা হল বিল্ডিং থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন সাগরপাড়া মহল্লার একটি পুরনো পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান তালুকদার বলেন, রাতুলের ওই ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই তিনি গা ঢাকা দেন। বিদেশী পিস্তল হাতে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে আলোচনায় আসতে চেয়েছিলেন রাতুল। তার ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাতুলের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এর একটিতে দেখা যায়, হাতে পিস্তল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন রাতুল। একটিতে দেখা যায়, শুধু হাতের ওপর পিস্তল এবং অপরটিতে গুলিসহ আছেন রাতুল। তবে গত বৃহস্পতিবার ছবিগুলো আলোচনায় আসে। যা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রাতুল স্বীকার করেন, এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি নিজের কাছে সব সময় পিস্তল রাখতেন। তিনি পাবনায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

ফেসবুকে ছবি দেয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল- যাতে সকলে তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের কথাটি জানেন এবং তিনি নিজেকে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here