এবার বাড়ছে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম, চাপে পড়বে ব্যবসায়ীরা

189

 

লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজারে দাম বেড়েছে ডিজেল, কেরোসিন ও এলপি গ্যাসের। এখন আবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। পোশাক শিল্প খাতে জুন পর্যন্ত নেওয়া রপ্তানি আদেশে ক্ষতি সামলাতে গিয়ে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে স্বাভাবিক অবস্থায় এক কার্গো এলএনজি আমদানিতে ২৫০ থেকে ২৭০ কোটি টাকার মতো খরচ হতো। বর্তমানে একই পরিমাণ এলএনজিবাহী কর্গো আমদানিতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। প্রায় পাঁচ গুণ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে এলএনজি।

গ্যাস ট্যারিফ আদেশের (২০১৯) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলার খরচ ৯ টাকা ১৫ পয়সা ধরে সংস্থাটির জন্য এ বাবদ ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাটিকে নির্ধারিতের চেয়েও অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছরে সরকার ১০ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এ সময়ে বিদ্যুতের পাইকারি দাম বেড়েছে ১১৮ শতাংশ। খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে ৯০ শতাংশ। দেশে সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি। ওই সময় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, এলএনজি আমদানিতে যে পরিমাণ খরচ তা মেটানোর মতো যথেষ্ট সামর্থ্য নেই পেট্রোবাংলার। আগামী মাসে এক কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ অর্থ পেট্রোবাংলার পক্ষে যোগান দেয়া কষ্টসাধ্য। কারণ পেট্রোবাংলার কাছে যে উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল, সরকার সেখান থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গিয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে তার প্রভাব পড়বে বিদ্যুতেও। দেশে সরবরাহকৃত মোট গ্যাসের বড় একটি অংশ যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে অন্তত ১ হাজার ৪০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের প্রয়োজন হয়। গ্যাস সংকটে বর্তমানে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় পিডিবি চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি হিসেবে ১৬ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৯ হাজার কোটি টাকা। তাই বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ খসড়া চূড়ান্ত হওয়া সাপেক্ষে দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে চলতি মাসেই।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের সাথে কোনো ধরণের আলাপ করা হয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্প মালিক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মহানগর নিউজকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ইতোমধ্যে আমাদের খরচ বেড়েছে। আমরা বাজেট সংকোচন করে শিল্প-কারখানা পরিচালনা করছি। এরমধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ার ইঙ্গিত পেয়ে চিন্তায় পড়েছি। আমরা আগামী বছরের জুন পর্যন্ত অর্ডার নিয়েছি। এখন সব রকমের খরচ বাড়ছে। এরমধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়াটা চিন্তার বিষয়।’

শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পোশাক শিল্প মালিকরা করোনায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আমাদের অনেক অর্ডার আছে। তবে অর্ডারগুলোর মূল্য খুবই কম। তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখার লড়াই চলছে। এরমধ্যে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহণ খরচ বেড়েছে। এদিকে আবার অফডক চার্জও বেড়েছে। এখন যদি গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বাড়ে আমাদের ক্ষতির সম্মূখীন হতে হবে। এমতাবস্থায় ঠিকঠাক মতো পোশাক শিল্প কারখানার মালিকরা বেতন-ভাতা নিতে না পারলে শ্রম অসন্তোষ দেখা দিবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here