কোটা আন্দোলনের নেতা মামুনকে ছাত্রলীগের মারধর

198

ঢাবি প্রতিনিধি

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে গ্রন্থগারের সামনে কথা বলছিলেন মামুন। এ সময় হঠাৎ করেই ছাত্রলীগের ১০-১৫ জন জুনিয়র কর্মী মামুনের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার শরীরের একাধিক স্থান থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নিয়ে যায় মামুনকে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি প্রক্টর অফিসে আছেন। সূত্রের তথ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মী রাইসুলের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। রাইসুল ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসের অনুসারী

হামলার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি লাইব্রেরিতে পড়ছিলাম। এমন সময় শুনি কেউ একজন ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেখানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা হাসান আল মামুন আহত অবস্থায় পড়ে আছে। তবে কি কারণে মারা হয়েছে তারা জানি না। এর ৫-১০ মিনিট পর গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের স্লোগান ধরতে দেখা গেছে।

গ্রন্থাগারের সামনে উপস্থিত সায়েম নামে এক শিক্ষার্থী জানান, এক মিনিট ধরে মারধর করা হয় মামুনকে। এরপরই হামলকারীরা এদিক-সেদিক পালিয়ে যায়। সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নুর দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মামুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দোষীদের শাস্তি চান তারা।

আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ঘটনার বিচার দাবি করে বর্তমানে তারা প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করছেন। সেখানেই কথা চলছে। মামুন বলেন, ডাকসু নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র হলের বাইরে করার দাবিতে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ছিল আমাদের। সবাই মিলে একসঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল। আমি আগে চলে আসায় গ্রন্থাগারের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় হঠাৎ করেই সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাইসুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা করে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, আমার নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে মধুতে আছে। তারা হামলা করেনি। তাদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হতে পারে

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা বিষয়টি অবহিত হয়েছি। আমাদের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা সেখানে গেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

এর আগে গত বছরের জুলাইলে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতা–কর্মীরা। ওই সময় তাদের এক নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রলীগ অজ্ঞাত স্থানে রাখার অভিযোগও উঠে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here