গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই : মোশাররফ

47

 

এই সরকারের হাত থেকে দেশকে, জনগণকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, এই সরকারকে যত দ্রুত বিদায় করা যায়, এ দেশের জনগণ এবং দেশের জন্য ততই মঙ্গল।

 

তিনি বলেন, এই সরকারকে হটিয়ে এদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ। এজন্য দেশে গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া এ দেশের সকল ক্ষেত্রে সকল হয়েছেন। এ জন্য আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ভয় পায়। দেশের জনগণকে ভয় পায়।

আজকে আমরা দিবা সন্ধিক্ষণে রয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে সেটা কেউ বলতে পারবে না। একই সাথে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। বিএনপি যে বিভাগীয় কর্মসূচি দিয়েছিল এই সরকার, পুলিশ বাহিনী, সরকারের পেটুয়া বাহিনী বাধা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সকল বাধা উপেক্ষা করে প্রতিটি কর্মসূচি জনগণ সফল করেছে।

তিনি বলেন, আজকে একমাত্র দাবি এই সরকারের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করা। কোনো স্বৈরাচার সরকার আপসে ক্ষমতা ছাড়েনি।

মোশারফ হোসেন বলেন, এদেশের মানুষ আইয়ুব খানকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করেছে। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকেও দেশের মানুষ গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করেছে। সময় অতি সন্নিকটে, এদেশের মানুষ আজকে ঐক্যবদ্ধ ইনশা আল্লাহ অনতিবিলম্বে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করব, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনব এবং এদেশে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, তারা দুর্নীতি করে লুটপাট করে মেগা প্রজেক্টের নামে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছিল, আবার গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছে, অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। আজকে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি এই সরকার ঠেকাতে পারছে না। তাদের সিন্ডিকেট, তাদের ব্যবসায়ীরা এদেশের মানুষের পকেট থেকে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করার জন্য আজকে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, বিএনপি দেশের আপামর জনগণকে নিয়ে যে আন্দোলন করছে, সেই আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে সুপরিকল্পিতভাবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছিল। জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্র হয়েছে আপনারা জানেন। আজ থেকে ১৬ বছর আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার রহমানকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে বিতারিত করা হয়েছিল। তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছিল। অসুস্থ করা হয়েছিল। আমি জেনে শুনে বলছি, তাকে অসুস্থ করা হয়েছিল। অতঃপর লোক দেখানোর জন্য তাকে বাইরে আনা হয়েছে। তবে মুক্তি দেয়া হয়নি। আজ আমাদের একটাই দাবি গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি।

শহীদ জিয়া বীর উত্তম একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন নতুন মুক্তিযোদ্ধা তৈরির ফ্যাক্টরির নাম বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। এ সরকার বেআইনিভাবে মুক্তিযোদ্ধা উৎপাদন করেছে। তারা একদিন পালিয়ে যাবে। সেই দিন, যেদিন এই সরকার পালাবে, আর সেদিন ওই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা পালিয়ে যাবে। কারণ আসল আর নকল একসাথে চলতে পারে না। পাঁচ বছর, দশ বছর বয়সে কখনো মুক্তিযোদ্ধা হয় না। আমরা দেশের সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা চাই।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জিম হোসেন আলাল বক্তব্য রাখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here