চিকিৎসকদের ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণে’ খালেদা জিয়া : ডা. জাহিদ

71

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণে’ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের কেবিনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

 

রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ স্বাস্থ্যের অবস্থা জানাতে গিয়ে গণমাধ্যমকে ডা. জাহিদ এ তথ্য জানান।

অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডাম কেবিনে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিতসাধীন আছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘গতকালকের মতো আজও উনার অবস্থা একই আছে। বাট কিছুটা… যে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে তার পরে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তার মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে গতকাল সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের বিশেষ চিকিৎসক অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিতসাধীন আছেন। অধ্যাপক সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড আগে থেকে তার এই চিকিতসা কার্য্ক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছেন। গতকাল ভর্তি হওয়ার পর মেডিক্যাল বোর্ডের একটি বৈঠক হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ।

তিনি বলেন, ‘গতকাল ভর্তি হওয়ার পরে ম্যাডামের বেশকিছু পরীক্ষা মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শক্রমে করা হয়েছে। ওইসব পরীক্ষার রিপোর্ট আসা শুরু করেছে। মেডিক্যাল বোর্ড আজ (রোববার) সন্ধ্যায় কোনো একটা সময়ে বসবেন এবং রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে উনার পরবর্তী পর্যায়ে যে চিকিৎসা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা নেবেন। তবে প্রাথমিকভাবে মেডিক্যাল বোর্ড গতকাল একদফা বসে যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার সেটা নিয়েছেন। সকাল বেলাও বোর্ডের কয়েকজন সদস্য উনার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উনার কিছু অসুস্থতা ছিলো… যার জন্য নিয়মিত চেকআপের পাশাপাশি কিছু উপসর্গ দেখা দিয়েছিলো। যার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী তাকে এখানে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, সেই চিকিৎসাতে উনি মোটামুটি রেন্সপনস করছেন।’

হাসপাতালে খালেদা জিয়া কতদিন থাকতে পারেন- জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘এটা মেডিক্যাল বোর্ডের ডিসিশনের ওপর নির্ভর করবে, উনার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। কাজেই এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।

৭৭ বছর বয়েসী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভারসহ নানা রোগে ভুগছেন। অসুস্থতার মধ্যে গুলশানের ‘ফিরোজা‘য় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছিল। পরে তার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শক্রমে শনিবার এভারকেয়ারে ভর্তি হন বিএনপির চেয়ারপারসন।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘রোগীর অসুস্থতা সম্পর্কে মিডিয়াতে বলা ঠিক না। খালি এইটুকু জানানো যেতে পারে যে, উনার কিছু শারীরিক অসুস্থতা, উনার হার্টের জটিলতা, উনার লিভারের জটিলতা, উনার কিডনির জটিলতা– এগুলো ছিলো, আছে… আপনারা জানেন। সেগুলোর কোনো কোনোটা একটু বৃদ্ধি পেয়েছিলো, সেজন্য উনার চেকআপ ও চিকিৎসার জন্য উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘উনি কেবিনেই আছেন। কিন্তু কেবিনে উনার জন্য স্পেশালিস্ট এমআইএসটি নার্স-ডাক্তার সাহেবরা… দেয়ার টেকিং কেয়ার অফ। কেবিনে মানে এমনি শুয়ে থাকার তা না। সি ইজ আন্ডার স্ট্রিক সুপারভেশন।’

জাহিদ জানান, অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিক্যাল বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা হচ্ছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুর উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিন, অধ্যাপক শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক জিয়াউল হক এবং অধ্যাপক সাদেকুল ইসলাম।

এছাড়া লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমানসহ অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিএনপি চেয়ারপারসনের মেডিক্যাল বোর্ডে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী শর্মিলা রহমান সিঁথি। লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান সবসময় খোঁজ রাখছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ।

এর আগে সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here