ছেলে-নাতনির সঙ্গে আলিম পাশ করলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান

45

লেখাপড়ার যে কোনো বয়স নেই ৬০ বছর বয়সে তা প্রমাণ করলেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী আছালং ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ছেলে ও নাতনির সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে তিনি আলিম পাশ করেছেন।

মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তাইন্দং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।

শুধু তিনিই নন, চলতি বছরে তার বড় মেয়ের ঘরের বড় নাতি মো. নাজমুল হাসান জিপিএ ৪-৬৭ এবং ছোট মেয়ে মাহমুদা সিরাজ জিপিএ ৪-১৭ পেয়ে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে। একমাত্র ছেলে হাফেজ নেছারুদ্দীন আহমদ জিপিএ ৪-০০ পেয়ে চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেছে।

এছাড়াও বড় মেয়ের ঘরের নাতনি তবলছড়ি ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে জিপিএ-৩.৭৬ পেয়ে দাখিল পাশ করেছে।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সব ধরনের ভয়, সংকোচকে পেছনে ফেলে খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-২.১৪ পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বাবা-ছেলে-মেয়ের পাশের খবরে আনন্দের বন্যা বইছে সীমান্ত ঘেঁষা আচালং ইসলামপুর এলাকার মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়িতে। এ সময় প্রতিবেশী ও স্বজনরা অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসেন তাদের বাড়িতে। স্বজনদের কেউ কেউ নিয়ে আসেন ফুল ও মিষ্টি। তার বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশীরা। তাদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা ছোট মেয়ে মাহমুদা সিরাজ বাবার এ সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় যে সাফল্য এনে দিতে পারে তার অনন্য দৃষ্টান্ত আমার বাবা। আমাদের ভাই-বোনের ফলাফলের চেয়ে বাবার ফলাফলে আমরা গর্বিত।

দীর্ঘ বিরতির পর লেখাপড়ার তাগিদ অনুভব করলেন কেন- জানতে চাইলে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার কোনো বয়স নেই। ফলাফল ঘোষণার পর ছেলে-মেয়ে আর নাতির সঙ্গে নিজের কৃতিত্বের খবর পাওয়ার সময়টা আমার জীবনের সবচেয়ে সুখকর মুহূর্ত, এটা কখনো ভুলে যাবার মতো নয়।

নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যাবার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সবাই চাইছে আমি লেখাপড়া অব্যাহত রাখি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here