দুই সুন্দরীকে নিয়ে আলোচনার ঝড়

264


গণমাধ্যম এবং সামাজিকমাধ্যমগুলোতে রীতিমতো ট্রলের হিড়িক পড়েছে দুই নারীকে নিয়ে। একজনের আগ্রাসী আচরণ আরেকজনের খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিমানে মাদক সেবন। এ দুই নারীর অদ্ভুত কাণ্ডের পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ফেসবুকে অনেকেই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও এবং মাদকসেবী নারীর ছবি শেয়ার করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা এবং শাস্তি চেয়েছেন। যাদের নিয়ে এতো তোলপাড় চলছে তাদের একজন চট্টগ্রামের মেয়ে বিমানের কেবিন ক্রু সৈয়দা মাসুমা মুফতি। অন্যজন নারীর সামী ফারদিন তবে পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন ফ্লাইটের পূর্বে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার তথ্য গোপন করায় মাসুমা মুফতিকে গত রবিবার গ্রাউন্ডেড image করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

বিমানে প্রতিটি ফ্লাইট ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই পাইলট ও ক্রুরা মাদক গ্রহণ করেছেন কিনা, বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডোপ টেস্ট করা হয়। কিন্তু ঘটনার সময় কেবিন ক্রু মাসুদা মুফতি মাদক সেবন করেও বিষয় গোপন করে ফ্লাইটে আসেন। পরে ডোপ টেস্টে তার মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিমানের নিয়ম অনুযায়ী ডোপ টেস্টে প্রমাণ মিললে কোনও ব্যক্তিকে পরবর্তী ৯০ দিন কোনও ডিউটি না দেওয়ার বিধান রয়েছে। মাসুদা মুফতির ডোপ টেস্টের তথ্য ডিজিএম নুরুজ্জামান রঞ্জু ফ্লাইট শিডিউল বিভাগকে জানাননি। তাই দায়িত্বে অবহেলা ও মাসুদা মুফতির মাদক সেবনের তথ্যটি গোপন করায় নুরুজ্জামান রঞ্জুকে গ্রাউন্ডেড করা হয়।

সারা দেশে যখন মাসুমাকে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি ঠিক সেই মুহূর্তে সৈয়দা মাসুমা মুফতির অন্ধকার জীবনের সন্ধানে নেমেছে দেশের গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার তার বাসার কড়া নজর রয়েছে তাদের। ঢাকায় থাকাকালীন মাসুমা মুফতি কাদের সঙ্গে মেলামেশা করেন, কাদের সঙ্গে রাতে আড্ডা দেন, সেই খবরও পেতে শুরু করেছেন তারা।

সুন্দর চেহারা এবং আকর্ষণীয় ফিগারের কারণে মাসুমাকে দিয়ে সব সময় বিজনেস ক্লাসে ডিউটি করানো হতো। সেই সুযোগে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, বিচারপতি, সাংবাদিকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এদের মধ্যে কার কার সঙ্গে তিনি অভিজাত এলাকায় রাতের পার্টিতে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের আগের রাতে এ ধরনের কোনো পার্টিতে অংশগ্রহণ করেছেন কিনা তার খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

মাসুমা মুফতি মদ্যপ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ডিউটি করার সাহস দেখালো কিভাবে গোয়েন্দাদেরে এমন প্রশ্নের জবাবে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারছে না বিমান কর্মকর্তারা। এ প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটেও বিমানের যেসব স্টাফ ডিডটি করবেন তাদের সবার ডোপ টেস্ট করার পরামর্শ দেয়া হয়।

অপরদিকে ঢাকার মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকার স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে নিয়ম ভেঙে ‘সরকারদলীয় এমপির মেয়ে’দাবি করে উল্টো ট্রাফিক সার্জেন্টকে হুমকি দেওয়ায় ফেসবুকে সামী ফারদিন নামের এক নারীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তুমূল সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভিডিওতে ওই নারীকে সার্জেন্ট ঝোটন সিকদারকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে দেখা গেছে। এমনকি ওই নারী তাকে ‘দুই টাকার চাকর’ বলতেও ছাড়েননি।

মঙ্গলবার দুপুরে ভিডিওটি শেয়ার করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সার্জেন্ট ঝোটন সিকদার। সেখানে তিনি ওই নারীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন- ‘এই ভদ্র মহিলা মিরপুর ১৩ নম্বর স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে তার প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৬-৯৩৪৭) ডাবল লেনে পার্কিং করে রেখেছেন। তার গাড়ির জন্য পেছনের গাড়িগুলো আসতে পারছে না। প্রচণ্ড জ্যাম লেগে আছে। তাকে অনেকবার সবিনয় অনুরোধ করলাম, আপু আপনার গাড়ির ড্রাইভারকে ডেকে দ্রুত গাড়িটি সরিয়ে পেছনের গাড়িগুলো আসার সুযোগ দিন এবং জ্যামমুক্ত করেন। কিন্তু না, তিনি আমার কোনো কথা তো শুনলেনই না বরং আমাকে খারাপ ভাষায় গালাগালি করেন এবং সঙ্গে বলেন তুমি সরকারের দুই টাকার চাকর, আমাকে চেনো তুমি? কার গাড়ি জানো এটা? আরও অনেক খারাপ কথা!’

আইন লঙ্ঘন করার ভিডিও নেয়ার সময় সার্জেন্ট ঝোটন সিকদারকে ওই নারী বলেন- ‘এই কার গাড়ির ছবি তোলো? এটা সরকারি দলের লোকের গাড়ি। কার গাড়ির ছবি তোলো? বেশি কইরো না! তোমার মতো সার্জেন্ট কয় টাকা বেতনে চাকরি করে? কয় টাকা বেতনে চাকরি করে তোমার মতো সার্জেন্ট? আমরা প্রধানমন্ত্রীর লোক, ঠিক আছে? যদি সাহস থাকে আমার বাবা জাতীয় কমিটির সদস্য, আমার বাবা এমপি, ঠিক আছে? তোমার মতো হাজারটা সার্জেন্ট…ঠিক আছে? কয়টাকা বেতনে চাকরি করো?…’ এভাবে বলতে শোনা যায়।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ফেসবুকে অনেকেই ওই নারীর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে তার কঠোর শাস্তি চেয়েছে এবং সার্জেন্ট ঝোটন সিকদারের এই সাহসিকতার জন্যে অনেকে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ফেসবুকে মনিরুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, সাব্বাস ট্র্যাফিক সার্জেন্ট ঝোটন সিকদার। সাহসিকতাপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

আবার অনেকেই তার পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

সূত্র সিভয়েস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here