
নিজস্ব প্রতিনিধি
রাজপথে আন্দোলন করার শপথ নিয়ে বিএনপি নেতারা বলেছেন, কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এর বিকল্প নেই। দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রার আগে আজ সোমবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই মতবাদ ব্যক্ত করেন নেতারা।
শোভাযাত্রার আগে দলীয় নেতাদের বক্তৃতার জন্য একটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করা হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র নেতাগণ।
আজ বিএনপির নেতাকর্মীরা ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি তার রুহের মাগফেরাতের জন্য মোনাজাত করেন।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন ও দোয়া মাহফিল করা হয়। এ ছাড়া শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচিও আয়োজন করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আজ শোভাযাত্রার আগে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা যদি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে চাই এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে আমাদের ত্যাগ শিকার করে রাজপথে এসে স্বোচ্চার হয়ে এই স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। সবাই রাজি আছেন?’
এ সময় হাজার হাজার নেতাকর্মী সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে চিৎকার করেন। ফখরুল বলেন, ‘আমরা সেই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে অবশ্যই বেগম জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো। বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে এবং গণতন্ত্র ফিরে আনবে।’

মহাসচিব আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখে, প্রায় ২৬ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পাঁচশর উপর নেতাকর্মীদের গুম করে, হাজার হাজার নেতাকর্মীদের নিহত এবং আহত করে এই সরকার ভেবেছে গণতন্ত্র এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন তারা পদদলিত ও দমন করতে পারবে। কিন্তু আজকের এই উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, তারা গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন দমন করতে পারবে না।’
এ সময় আর ও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবদীন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ। মির্জা ফখরুল উদ্বোধণ ঘোষণার পর শোভাযাত্রা বের করে বিএনপি।
এতে আরও অংশ নেন আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুল হাই, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামা ওবায়েদ, মাহবুবে রহমান শামীম, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান, আবদুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ইশরাক হোসেন, নবী উ্ল্লা নবী, আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, সাদেক খান, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, আনোয়ার হোসেইন, হাসান উদ্দিন সরকার, আফরোজা আব্বাস, জেবা খান, নিপুন রায় চৌধুরী, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, হাসান জাফির তুহিন, সালাউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, আবুল কালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
শোভাযাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিই ছিলো নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। নেতাকর্মীদের একটি অংশের বুকে খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত টি-শার্ট পরা ছিল। আরেক অংশের গায়ের টিশার্টে ছিল জিয়াউর রহমনানের ছবি। এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি পরেছিলেন নেতাকর্মীরা।
শোভাযাত্রার ট্রাকের ওপর দলীয় সংগীত পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে রেকর্ড করা বিভিন্ন সঙ্গীতও বাজায় কর্মীরা। মহানগর বিএনপির উত্তর-দক্ষিণের মুক্তিযোদ্ধা দল, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, মৎসজীবীদল, তাঁতী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে ফকিরাপুল থেকে নাইটেঙ্গল রেস্তারাঁ পর্যন্ত গোটা সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতা-কর্মীরা দলীয় পতাকা ও লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।
শোভাযাত্রায় একটি ট্রাকে মশারি টানানো হয়। সেই ট্রাকের ব্যানারে লেখা ছিল, ডেঙ্গু মশা নির্মূলে সরকার ব্যর্থ। এছাড়া ঘোড়ার গাড়ি, ঢোল, সাউন্ড বক্স, নানা রংঙের বেলুন, ছোট ছোট কয়েকটি ট্রাক নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের শোভাযাত্রায় অংশ নিতে দেখা যায়।
বিকেল ৩টার দিকে শোভাযাত্রা শুরু হলেও নেতাকর্মীরা দুপুর ১২টা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে এসে অবস্থান নিতে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটাই রাজধানীতে বিএনপির সবচেয়ে বড় উপস্থিতি। গত বছর দলের প্রতিবার্ষিকীর দিনে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে লাখ লাখ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসভা করেছিল বিএনপি।



