বিদেশ ফেরত ছেলেকে আনতে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন বাবা-মা

395

নিজস্ব প্রতিনিধি
রাত পোহালেই বিদেশ থেকে দেশে আসা প্রিয় সন্তাননের মুখ দেখবে বাবা-মা। স্বপন আজ আসবে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। দেশে থাকা সন্তান কালামের প্রতি বৃদ্ধ বাবা মায়ের ইচ্ছা চট্টগ্রাম বিমান থেকে নামার পর যেন সন্তানকে বুকে জড়িয়ে সবার আগে দেখতে পাই।
রাত পোহালেই ভোর! পূর্ব আকাশে সূর্য উঠার আগেই হয়তো কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পথে মাইক্রোবাসে যাত্রা করলেন দেশে থাকা কালাম, দুই নাতি (স্বপনের ছেলে রাশেল ও রণি)কে নিয়ে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে বাবা-মায়ের দু চোখে শুধুই ছায়ার মত ভাসছে প্রিয় স্বপনের মুখ! বার বার প্রশ্ন আর কত দুর বিমান বন্দর? আমার স্বপন বিমান থেকে নিরাপদে নেমেছেতো? মহুর্তের মধ্য সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান গড়িয়ে মিরসরাইয়ের নিজামপুর এলাকায় তাদের বহন করা মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মহুর্তেই আগুনে দগ্ধ হয়ে চলে গেলে না ফেরার দেশে। দেখা হয়নি প্রিয় সন্তানের মুখ। এই দিকে প্রবাসী সন্তান অপেক্ষায় আছে বাবা মা ভাই আসছে! মা আর কত দূর? বাবা মায়ের সাথে আসা আহত কালাম কিভাবে স্বপনকে বলবে মা নেই! বাবা ও নেই! তখনো গাড়ির ভিতরে দাউ দাউ করে জ্বলছে মা কুলসুম বৃদ্ধ বাবা রহমানের দগ্ধ দেহ!
ছেলে আবুল কালাম কান্নার জন্য কথা বলতে পারছিলো না। শুধু হাউমাউ করে কাঁদছে। তাঁর দুই ভাতিজা (স্বপনের দুই ছেলে) রাশেল ও রণিকে নিয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে গেলেন। সেখানে কথা হয় তাঁর সাথে। আবুল কালাম বলেন, প্রথমে একটি গাড়ির পেছনে ধাক্কা দেয় মাইক্রোবাসটি। এরপর সেই গাড়ির সাথে আটকে অনেক দুর চলে যাই। তারপর দেখি গাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। কিভাবে মাইক্রো থেকে নামলাম, দুই ভাতিজাকে নামালাম কিছুই বলতে পারছিনা। চোখের সামনে মা-বাবা আগুনে পুড়ে গেল বাঁচাতে পারলাম না বলে আবারো কাঁদতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদোশী ইভান ও রিয়াদ বলেন, জীবনে অনেক দুর্ঘটনা অগ্নিকান্ড দেখেছি। কিন্তু এমন ঘটনা আর চোখে পড়েনি। মহুর্তের মধ্যে জীবন্ত মানুষগুলো পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। তাঁরা প্রথমে বাঁচতে অনেক চিৎকার করেছে। ভয়াবহ আগুনের কারণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিজামপুর বাজারের ব্যবসায়ী আশিষ জানান, সকাল ৭ টার সময় দোকান খুলে দোকানের উত্তর দিক থেকে একটি শব্দ শুনতে পাই। কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখি মাইক্রোবাসটি জ্বলছে। হুড়োহুড়ি করছে মানুষ। জলন্ত অবস্থায় ৪জনকে বাঁচাতে পারলেও দগদগ করে আগুনে পুড়ছিল
ভেতরে থাকা ৩ যাত্রী। তিনি জানান, চোখের সামনে তিন তিনটা তাজা প্রাণের করুণ মৃত্যু দেখে উপস্থিত অনেকেইে শোকে স্তব্দ হয়ে পড়েন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here