বেপরোয়া বাসটি চালাচ্ছিল বদলি ড্রাইভার, মালিকও লাপাত্তা

75
ট্রেন আসতে দেখে হাতের ইশারায় গাড়ি থামান ট্রাফিক কনস্টেবল মনিরুল। তার ইশারায় সামনের সিএনজি অটোরিকশাটি থেমে গেলেও আচমকা ঢুকে পড়ে বেপরোয়া একটি বাস। পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দুই অটোরিকশাকে ঠেলে দেয় চলন্ত ট্রেনের দিকে। পলকেই ঘটে যায় মারাত্মক দুর্ঘটনা। ট্রেনটি দুমড়ে মুচড়ে নিয়ে যায় রেললাইনে উঠে যাওয়া গাড়ি দুটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ট্রাফিক কনস্টেবল মনিরুল। পরে গুরুতর আহত আরও দুজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে।
শনিবার (৪ ডিসেম্বর) জাকির হোসেন রেল ক্রসিংয়ে এভাবেই ফিল্মি স্টাইলে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তবে এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বাসের চালক, হেলপার ও মালিক।
রেলওয়ে পুলিশের নির্ভরশীল একটি সূত্র জানায়, ৭ নম্বর রুটের চলাচলকারী ঘাতক বাসটির মালিক সীতাকুণ্ড এলাকার মো. শহীদ। বাসটি তিনি তুলে দেন চালক আকবরের (ছদ্মনাম) হাতে। প্রায় দুই মাস আগে আকবর অন্য আরেকজনকে বাসটি চালাতে দেন। এভাবেই হাত বদলে বেপরোয়া হয়ে ওঠে সেই বাস।
রেলওয়ে থানার ওসি নাজিম উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তথ্যের সঙ্গে বর্তমান বাস মালিকের ঠিকানার মিল রয়েছে। তবে বাসচালকের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায় নি।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও কেউ আটক হয়নি। তাছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ।
জানা গেছে, ৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে বাস মালিক শহীদুলের সন্ধানে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। কিন্তু এর আগেই বাসা থেকে পালিয়ে যান শহীদুল। সব মিলিয়ে জাকির হোসেন রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন বাসের মালিক, দুই চালক, হেলপার, রেলক্রসিংয়ের গেটম্যানসহ মোট ৫ জন।
প্রসঙ্গত, ৪ ডিসেম্বর সকালে নগরীর জাকির হোসেন রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় নিহত হন ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল মো. মনিরুল ইসলাম (৪৫), ডালিয়া কনস্ট্রাকশনের সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার বাহাউদ্দিন সোহাগ (২৮) ও পাহাড়তলী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সারতাজ উদ্দীন শাহীন (১৯)। এ ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে পুলিশ ও পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here