মিরসরাইয়ের চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র সাকিব হত্যাকান্ডের চার বছর এখনো অধরা প্রধান আসামী সরোয়ার

249

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্র ফারহান সাবিক হত্যাকান্ডের ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আদৌ গ্রেফতার হয়নি মামলার প্রধান আসামী। মামলার অগ্রগতি নিয়ে হতাশায় ভুগছে সাকিবের পরিবার। তারা বিচারের আর্তি নিয়ে এখনো ঘুরছে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে।


বৃহস্পতিবার (২০ জুন) মামলার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার ও বিচার কাজ দ্রæত শেষ করার দাবিতে মিরসরাই প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাকিবের পরিবার ও তার সহপাঠীদের সংগঠন ‘সাকিব স্মৃতি সংসদ’।
ওইদিন সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাকিবের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম রুবেল। এসময় সাকিব স্মৃতি সংসদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত, সহ-সভাপতি পার্থ ঘোষ, অর্থ সম্পাদক তানভীর হোসেন স্বদেশ, সদস্য নাইমুর রহমান জিসান, মহিউদ্দিন রাশেদ।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ জুন মিরসরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ফারহান সাকিবকে অপহরণের পর জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপর মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় সাকিবের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম রুবেল বাদী হয়ে ওই বছর ১১ জুন একটি হত্যা মামলা (যার নম্বর ৯/১৫ দায়ের করেন। ইতোমধ্যে এ হত্যাকান্ডের চার বছর পার হয়ে গেছে। অথচ এখনো ধরা পড়েনি প্রধান আসামী সরোয়ার উদ্দিন। এত বছর পর সুবিচার না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সাকিবের পরিবার।
মামলার আদ্যপান্ত ঘেঁটে জানা যায়, পুলিশ ঘটনার পরপর ধুম ইউনিয়নের উত্তর মোবারকঘোনা গ্রামের মোস্তফা কামালের পুত্র হোসনে মোবারক রুবেল, করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিন অলিনগর গ্রামের কামাল উদ্দিন মেম্বারের পুত্র শহিদুল ইসলাম ও ধুম ইউনিয়নের উত্তর মোবারকঘোনা আদর্শ গ্রামের মৃত আবু তাহেরের পুত্র মীর হোসেনকে। এদের মধ্যে রুবেল জামিনে বেরিয়ে গেছে। এছাড়া মামলার অন্যতম প্রধান আসামী কাজী সরোয়ার উদ্দিন ও অপু চন্দ্র নাথ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।


সাকিবের সহপাঠীদের সংগঠন ‘সাকিব স্মৃতি সংসদ’ এর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত জানান, এমন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ৪ বছরে সুরাহা হয়নি, যা অবাক হওয়ার বিষয়। সবচেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় হলো মামলার প্রধান আসামী সরওয়ারকেও আদৌ গ্রেফতার করা হয়নি। প্রধান আসামী গ্রেফতার হলে হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন হতো।
নিহত সাকিবের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন, ভাইকে হারানোর বেদনা প্রতিনিয়ত আমাদের কাঁদায়। আমি মামলার প্রধান আসামী সরওয়ার ও অপর আসামী অপুকে দ্রত গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ জুন অপহরণের ১২ জুন দুপুরে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের নয়টিলা মাজার পাহাড়ের গহিন জঙ্গল থেকে সাকিবের দ্বিখন্ডিত লাশ উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। হত্যার পর তার লাশ পাহাড়ের প্রায় ৪০০ ফুট নীচে ফেলে দেয় অপহরণকারীরা। সাকিব উপজেলার ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়নের উত্তর মোবারকঘোনা গ্রামের নাছির আহম্মদের ৫ সন্তানের মধ্যে ৩য়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here