মিরসরাইয়ে কোন্দলের জেরে যুবলীগ কর্মীকে জবাই করে হত্যা

15

 

মিরসরাই প্রতিনিধি

দলীয় আন্তঃকোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা জবাই করে খুন করেছে শহিদুল ইসলাম আকাশ (২২) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে।
গত সোমবার (১৯ সেপ্টম্বর) সন্ধ্যায় নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী মামুন ও তার বাহিনীর হাতে খুন হন শহিদুল ইসলাম আকাশ (২৮) নামে এক যুবলীগ কর্মী। প্রকাশ্যে জনসম্মুখে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এলাকায়। নিহত আকাশ উপজেলার ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী। এছাড়া সে হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামের মানত মিঝি বাড়ির নুরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। হামলার পর রাত ৯ টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মামুন বাহিনীর প্রধান মামুন ও তার লোকজন আকাশকে কুপিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিহত শহিদুল ইসলাম আকাশের বাবা নুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী মামুন টাকার বিনিময়ে মানুষ হত্যা করে। তাকে ২লাখ টাকা দিয়ে যদি বলা হয় কাওকে খুন করতে সে তাকে খুন করে। আমার ছেলেকেও টাকার বিনিময়ে মামুনের নেতৃত্বে ইকবাল, মোতালেব সহ ৭/৮জন মিলে আমার ছেলেকে খুন করেছে।
এদিকে ঘটনার ১দিন অতিবাহিত হলেও থানায় কোন মামলা হয়নি। থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত আকাশের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন এজাহার জমা দেয়া হয়নি। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নুর হোসেন মামুন জানান, হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত একাধিক ব্যাক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি। তবে তাদের কাওকে এখনো আইনের আওতায় আনা সম্বব হয়নি। সকলেই গা ডাকা দিয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে শহিদুল ইসলাম আকাশের লাশের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাপন করা হবে বলে পরিবারসূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় বারইয়ারহাট-করেরহাট সড়কের চিনকিরহাট বাজারে যুবলীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম আকাশের মালিকানাধীন নাজমা টিম্বার এন্ড ফার্ণিচার মার্ট’এ বসে ব্যবসায়িক কাজ করছিলেন। এসময় স্থানীয় ইসলামপুর গ্রামের সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির মামুনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোতালেব (৩২) সহ ৭/৮ জন হামলা চালায় আকাশের উপর। হিঙ্গুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম জানান, শহিদুল ইসলাম আকাশ ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি হিঙ্গুলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ছিলেন।

হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামুনের নামে বহু মামলা রয়েছে এলাকায় সে চিহ্নীত সন্ত্রাসী। ২০১৮ সালেও আকাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিল মামুন। গতবার জানে মারতে না পারলেও এবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে তাকে।

হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোনা মিয়া জানান, আমি খুনের ঘটনা সম্পর্কে সঠিক এখনো জানি না।
এছাড়া জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নূর হোসেন মামুন বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নারী-নির্যাতনসহ ১০টি মামলা রয়েছে। ইতি পূর্বে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ৫দিন আগে সে জামিনে এসেছে। এখন শুনছি সে আকাশকে হত্যা করেছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here