মিরসরাই-সীতাকুণ্ডে পানি সরবরাহে চাই সমন্বিত প্রকল্প

192

মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের শিল্পাঞ্চলে পানি সরবরাহের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করে কমপ্রিহেনসিভ প্রকল্প নিতে বলেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চল ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যত তাড়াতাড়ি প্রকল্প নেবেন, ডিপিপি নেবেন, তত তাড়াতাড়ি প্রকল্প পাস হবে। একনেকে অনুমোদন হবে।

চট্টগ্রামের মন্ত্রীদের সঙ্গে বসে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

সার্কিট হাউসের সামনের শিশুপার্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি স্বাধীন দেশ। ইজারা চুক্তি অনুযায়ী ২৫ বছর টাকা কামানোর সুযোগ দেব কেন? দায়িত্ব নিতে হবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, মিরসরাইতে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। শিল্প কারখানায় ফ্রেশ ওয়াটার সাপ্লাইয়ের উদ্যোগ নেব। এতদিন ওয়াসা গৃহস্থালি পানি দিত, এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পানি দেবে। ওয়াসা স্টাডি করবে পানির উৎস সম্পর্কে। বেজা ব্যয় বহন করবে স্টাডির।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, নগরে ৪০টি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান আছে। সমন্বয়ের জন্য অনেক সভা করেছি। প্রকল্প গ্রহণের আগে সমন্বয় করতে হবে। নয়তো ফলপ্রসূ হবে না।

ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, মিরসরাই-সীতাকুণ্ডে চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রস্তুত। দেশে ওয়াটার গ্রিড করতে হবে। ডিপিপি তৈরি করে আমরা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবো।

বেজার নির্বাহী সদস্য মো. হারুনুর রশিদ জানান, মিরসরাইতে ৩০ হাজার একরজুড়ে ৩ মাসের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান হয়ে যাবে। ১৫০ বিনিয়োগকারীকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়ে গেছে। ২৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত। ১৩৫ কোটি লিটার পানি লাগবে। ৬৫০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ওয়াসার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। পানি সরবরাহ না হলে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব মুখ থুবড়ে পড়বে। ২০৪১ সালে ১৫ লাখ মানুষ বাস করবে মিরসরাইতে। সেখানে বন্দর হবে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর প্রকৃতির উপহার।

এসএম আবু তৈয়ব বলেন, চীনের মতো সুপরিকল্পিতভাবে মিরসরাই স্পেশাল ইকোনমিক জোনকে সাজাতে হবে।

তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা সৈয়দ এম তানভির বলেন, আগামীতে ৭০০ বিলিয়ন ডলারে ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসবে ৪০ শতাংশ। মিরসরাই ইকোনমিক জোন এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। ৫০০ একর জায়গা বিজিএমইকে দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ অ্যাপারেল জোনে ডায়িং, ওয়াশিং প্ল্যান্টে পানি লাগবে দিনে সাড়ে ৬ কোটি লিটার। ৯০ শতাংশ পানি রিইউস হবে। খুব তাড়াতাড়ি পানির ব্যবস্থা না হলে ফ্যাক্টরি উৎপাদনে যেতে পারবে না।

জিপিএইচের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর অত্যন্ত খুশি। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছি। কম দামে পণ্য পেয়ে দেশের মানুষ খুশি। এখন বড় সমস্যা পানির। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ। একদিন বন্ধ থাকলে ১২শ কোটি টাকার ক্ষতি।

সীতাকুণ্ডে শিল্পকারখানা পানি ছাড়া বেশি দিন টিকবে না। বৃষ্টির পানি সাগরে চলে যায়। ছোট বাঁধ দিয়ে সংরক্ষণ করা যায় না। স্লুইসগেটগুলো অকার্যকর হয়ে আছে।

চেম্বার পরিচালক একেএম আকতার হোসাইন বলেন, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে যে আমদানি অনুমোদন (আইপি) নিতে পারতাম সেটি ঢাকা থেকে নিতে হচ্ছে। একটি আইপি পেতে ১৫ দিন লাগে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here