মিরাকল গার্ডেন, মরুর বুকে ফুলের বাগান

872

 

ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে মরুভূমিতেও ফুল ফোটানো যায়- ডেভিড রস’র এই বিখ্যাত উক্তিটি এখন আর শুধু বইয়ের পাতায় নেই। ভালবাসা আর অতিযত্নে এই অসম্ভবকেই সম্ভব করা হয়েছে। মরুভূমির বুকে গড়ে উঠেছে ফুলের বাগান। মরুভুমির উত্তপ্ত বালিতে যেখানে গাছ খুঁজে পাওয়াটা দুষ্কর, সেখানে বাগান তো কল্পনাতীত। দুবাই সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেটিই বাস্তব রূপ পেয়েছে।

তাক লাগানো অনেক কিছুই করেছে দুবাই। বিশ্বের সর্বোচ্চ দালান হিসেবে গিনেজ বুকে স্থান করে নিয়েছে দুবাইয়ের ‘বুর্জ খলিফা’। তেমনি চমক লাগানো আরো অনেক রেকর্ডের মাঝে রয়েছে ‘মিরাকল গার্ডেন’ নামক বিশাল এই ফুলের বাগানটি। ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডেতে যাত্রা শুরু করে ‘মিরাকল গার্ডেন’। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুলের বাগান।

উপর থেকে পানি ঢালছে কেউ যেন

৭২০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে ১৫ কোটি ফুল গাছের সমারোহ আসলেই এক বিস্ময়কর ঘটনা(Miracle )। বিশ্বের বৃহত্তম এই ফুলের বাগানটি দুবাইয়ের দুবাইল্যান্ডের কাছে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ সড়কে অবস্থিত। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি যেন এক স্বর্গক্ষেত্র। বাগানটি সাজানো হয়েছে নানা রকম রঙিন ফুলের গাছ দিয়ে। এখানে ব্যবহৃত ফুলের অনেকগুলোই এ বাগানে প্রথম লাগানো। ভরা মৌসুমে বাগানটি যেন রূপ নেয় ফুলের সাগরে।

আরব আমিরাতের শীতকালীন সময়ের পাশাপাশি গরমের মৌসুমের কিছুটা সময় অর্থাৎ প্রতি বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মিরাকল গার্ডেন পর্যটকদের জন্য খোলা রাখা হয়। বাকি সময়ে অত্যধিক গরম আর সংস্করার কাজের জন্য বন্ধ রাখা হয় বাগানটি। প্রতি মৌসুমে নতুন নতুন ডিজাইনে নতুনভাবে সাজিয়ে বাগানটিকে পর্যটকদের জন্য উম্মুক্ত করা হয়। এমন সব চমৎকার সাজসজ্জা বা নতুনত্ব আনা হয়- যার ফলে নিয়মিত দর্শনার্থীদের অনেকেও চিনতে পারেন না বা বলতে পারেন না গত বছর এ ফুলের বাগান কেমন ছিলো? যার ফলে প্রতিনিয়ত এ বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে।

ফুলগাছগুলোকে বিভিন্ন আকৃতি দিয়ে দর্শকদের আনন্দ দেয়া হয়
ইতোমধ্যে মিরাকল গার্ডেনের ফুলের তৈরি ঘড়ি গিনেস বুকে নাম লেখিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুলের ঘড়ি হিসেবে।

৪ কোটি ৫০ লাখ ফুলের গাছ নিয়ে যাত্রা শুরু করা দুবাই মিরাকেল গার্ডেনে বর্তমানে ফুল গাছের সংখ্যা ১৫ কোটি। নানা রঙের ফুল দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সাজে নানা ধরনের আকৃতিতে ফুলগুলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফুলগাছগুলোকে বিভিন্ন আকৃতি দিয়ে দর্শকদের আনন্দ দেয়া হয়। পুরনো নানা মডেলের গাড়ি, বরফের ঘর, পিরামিড, চলমান পানির টেপ, ফুল দিয়ে তৈরি ময়ূরপঙ্খী, প্রজাপতি, ফুলের জাহাজ, ফুলের বিছানা, ফুলের পাহাড়, ফুলের ঘোড়ার গাড়ি, ফুলের বাড়ি, ফুলের ঘর, ফুলের সাগর, ফুলের দোলনা, ফুলের সবচেয়ে বড় দেয়াল, ফুলের ঝর্ণধারা মানবাকৃতি সহ বিভিন্ন আকৃতি দেয়া হয়েছে যা ঋতুভিত্তিক রং বদলায়।

ফুল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আরব আমিরাতের জাতীয় পাখির আকৃতি। কলস থেকে পানির মতো করে ফুল ঝড়ছে এমনও অনেক চোখ জুড়ানো দৃশ্য চোখে পড়ে বাগানটিতে। এছাড়া ফুলের দুর্গ, মিকি মাউস, রয়েছে ফুল দিয়ে সাজানো এমিরেটস এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস A380 যা সত্যিই দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

শিশুরা হারিয়ে যায় ফুলের রাজ্যে

বাগানে খাঁচায় রাখা হয়েছে নানা ধরনের পাখি। এসব পাখির কিচির-মিচির শব্দ দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেয়। দিনের বেলায় বাগানটির সৌন্দর্য যেমন সবার মন কাড়ে, ঠিক তেমনিভাবে চমৎকার আলোকসজ্জা আর মিউজিক রাতের বেলায়ও বাগানটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

পর্যটকদের সুবিধার জন্য রয়েছে উন্মুক্ত পার্কিং, ভিআইপি পার্কিং, বসার জায়গা, নামাজের জায়গা, টয়লেট, ফার্স্ট এইড, বয়স্ক ও অক্ষম দর্শকদের জন্য রয়েছে গাড়ি।

নয়নাভিরাম এ বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে টিকেটের মুল্য রাখা হয়েছে বড়দের জন্য ৫০ দিরহাম, বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১২০০ টাকা আর ছোটদের জন্য ৩০ দিরহাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭০০ টাকা। ২ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশ ফ্রি। ‘মিরাকল গার্ডেন’ চালু করার প্রথম দিকে বড়দের প্রবেশ মুল্য ২০ দিরহাম আর ৫ বছরের কম বয়সী ছোটদের জন্য ফ্রি থাকলেও দর্শনার্থীদের চাপ বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর প্রবেশ মুল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here