মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর নতুন মোড়কে, বসছে নতুন তারিখ!

183

আমদানি করা খেজুরের মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর আগেই। রমজান সামনে রেখে সেই খেজুর ফের প্যাকেটজাত করে বসানো হচ্ছে নতুন মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। আর সেসব খেজুর ইতোমধ্যে বাজারজাত করা হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজারে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দিনভর রাজধানীর পাইকারি ফলের আড়ৎ বাদামতলীর মেসার্স মৌসুমী ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র‌্যাব-১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রায় চার হাজার কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর জব্দ করা হয়। এ অপরাধে তিন ম্যানেজারকে কারাদণ্ডসহ জরিমানা করা হয় ২৬ লাখ টাকা।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, প্রথমে মৌসুমী ট্রেডার্সের দু’টি গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে পচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর মজুদ পাওয়া যায়। সেসব খেজুর নতুন প্যাকেটে মেয়াদউত্তীর্ণের তারিখ বসিয়ে মদীনা থেকে আমদানি করা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো।

খেজুরগুলোতে দুই দফা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বসানো হয় জানিয়ে তিনি বলেন, খেজুরের মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালে। এরপর নতুন করে লাগানো স্টিকারের মেয়াদও শেষ হয় ২০১৮ সালে। এবার নতুন করে প্যাকেট করে ২০২০ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত মেয়াদ বসানো হচ্ছিলো।

পরে বাদামতলীর মৌসুমি ট্রেডার্সের শোরুম ও কোল্ড স্টোরেজে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে সেসব খেজুর।

এ অপরাধে মৌসুমী ট্রেডার্সের তিন ম্যানেজার ফারুক, তানভীর ও শফিকুলকে দুই বছর করে কারাদণ্ডসহ প্রতিষ্ঠানটিকে ২৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৪ টন বা ৪ হাজার কেজি খেজুর। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটির কোল্ড স্টোরেজ, গুদাম ও শোরুম সিলগালা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক হাজি তারেক আহম্মেদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন জানিয়ে সারওয়ার আলম বলেন, রমজান টার্গেট করে ভেজাল, মানহীন খেজুর বাজারজাত করা হচ্ছিলো। যেসব দোকান এই প্রতিষ্ঠান থেকে খেজুর কিনে বাজারে বিক্রি করছে আমরা তাদের নাম সংগ্রহের চেষ্টা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here