রায় ঘোষণার পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া

281

নিজস্ব প্রতিবেদক
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে দুইভাবে এগোবে বিএনপি। আজ বুধবার রায় ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মীর্জা ফখরুল বলেন, ‘এই রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং এর নিন্দা জানাচ্ছি। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। এর বিরুদ্ধে আমরা দুইভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আইনি পদক্ষেপ নেবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাকে (তারেক রহমানকে) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো যে, এদেশে কোনো নাগরিকের আর সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধণের জন্য কোনো তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন না করা হলেও তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যকিছু বলার নেই।’

বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে আজ।

রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আজ বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের ফাঁসি ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ’ নেতাকর্মী।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এ সংক্রান্ত হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এর অধিকতর তদন্ত করে। এরপর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here