সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার ভয়াল রূপ, উদ্ধারে সেনাবাহিনী

34

 

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে এই বন্যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সিলেটের সবকয়টি উপজেলার গ্রামের প্রতিটি ঘরে এখন হাঁটু থেকে কোমর পানি। এমন অবস্থায় বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী নামানো হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ মজিবর রহমান জানান, সিলেটের সদর উপজেলার কিছু অংশ, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও ‍সুনামগঞ্জে বন্যায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

এদিকে সিলেটের জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, লামাকাজী, বিশ্বনাথ এবং ওসমানীনগরসহ সবকটি এলাকায় পানিতে টইটুম্বুর করছে। অনেক জায়গায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার বেশ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেইসাথে সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, পিয়াইন নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়াতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়রা বলছে, কিছুদিন আগের বন্যা ২০০৪ সালের সালের বন্যাকে অতিক্রম করেছে। আর এবারের বন্যা ১৯৮৮ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। পূর্ব থেকেই প্লাবিত হওয়া এলাকায় পানি আরো বাড়ছে। বন্যায় পুরো সিলেটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত মাসের বন্যায় দক্ষিণ সুরমা, উপশহরসহ কয়েকটি এলাকার বিদ্যুতের সাব স্টেশন পানিতে তলিতে যাওয়ায় বন্ধ করা হয়েছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। কিন্তু এবারের বন্যায় পুরো সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কুমারগাঁও ১৩২-৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কুমারগাঁও ১৩২-৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের এক্সেন প্রকৌশলী সুরঞ্জিত সিং বলেন, ইতোমধ্যেই উপকেন্দ্রের সুইচ ইয়ার্ডে পানি প্রবেশ করেছে। যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে এটা চলমান থাকলে কন্ট্রোল রুমে পানি প্রবেশ করতে বেশি সময় লাগবে না। যদি কন্ট্রোল রুমে পানি প্রবেশ করে তাহলে এই গ্রিড উপকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হবে। এতে করে পুরো সিলেট বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here