২১ বছরের আক্ষেপ ঘুচবে কি?

287

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০১৬ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে তীরে এসে তরী ডুবে বাংলাদেশের। শেষ ওভারের আক্ষেপটা এখনও দগদগে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর মনে। সেবার ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। ফাইনাল ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরে যায় আট উইকেটে।

চলতি বছর জানুয়ারিতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। কিন্তু এই সিরিজে বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়। গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ম্যাচের একেবারে শেষ বলে হেরে যায় বাংলাদেশ।

২০০৯ সাল থেকে অনেকবারই শিরোপার কাছাকাছি গিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই শিরোপা আর জেতা হয়নি। ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষমেশ দুই উইকেটে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালেও একই অবস্থা। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র দুই রানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। হারার পর সাকিবের সেই কান্নার দৃশ্যটা অনেক ক্রিকেট ভক্তেরই মনে থাকার কথা।

১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তারপর প্রায় ২১ বছর পেরিয়ে গেছে। শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। যদিও সম্প্রতি নারীদের এশিয়া কাপে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। কিন্তু যেই পুরুষ দল নিয়ে এতো মাতামাতি তাদের হাত ধরে কোনো শিরোপা আসছে না।

মাশরাফিদের সামনে আবারও সুযোগ এসেছে টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এবারের এশিয়া কাপেও ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটায়। এই ম্যাচ সামনে রেখে সকলের মনে একটাই প্রশ্ন যে, এবার শিরোপার আক্ষেপ ঘুচবে কি?

ছয়টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয় এবারের এশিয়া কাপ। প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় গ্রুপ পর্ব। বাংলাদেশ ছিল ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে অন্য দুইটি দল হলো আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার ফোরে ওঠে আফগানিস্তান। গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে সুপার ফোরে ওঠে বাংলাদেশ।

‘এ’ গ্রুপে ছিল ভারত, পাকিস্তান ও হংকং। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল হংকং। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার ফোরে ওঠে ভারত। গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে ‍সুপার ফোরে ওঠে পাকিস্তান।

শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারানোর মাধ্যমে এশিয়া কাপ মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরে যায় ১৩৭ রানে। সুপার ফোর পর্বে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে সাত উইকেটে হেরে যায়। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে তিন রানে জয় তুলে নেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এরপর পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে টাইগাররা।

এশিয়া কাপে এবার শুরুতেই একটা হোঁচট খায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই হাতের কব্জিতে ব্যথা পেয়ে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যান তামিম ইকবাল। এক ম্যাচ খেলেই তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। তামিম না থাকায় বেশ ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

তামিমের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে ইনজুরির কারণে শেষ দুই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আগেভাগেই তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। সুপার ফোরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেলা সাকিব আল হাসান ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবেন না।

গেল আসরে শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ এখনো বাংলাদেশের স্মৃতি পটে বিদ্যমান। সেই স্মৃতি ভুলে যাওয়ার দারুণ এক সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। চিত্রটা একেবারে ২০১৬ সালের মত। এশিয়া কাপের ফাইনাল- বাংলাদেশ বনাম ভারত। সেবার ছিলো টি-২০ ফরম্যাট, এবার ওয়ানডে ফরম্যাট।

এজন্য ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধই নিতে হবে বাংলাদেশকে। গেল আসরে শিরোপা জিততে না পারার প্রতিশোধ। তবে খেলায় ‘প্রতিশোধ’ বলতে কিছু নেই। তারপরও সেই ‘প্রতিশোধ’ নিতে গিয়ে যদি এশিয়া কাপের ট্রফি মাশরাফি হাতে ওঠে তবে প্রতিশোধই ভালো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here