​নেট থেকে নায়ক

356

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মাশরাফি বিন মুর্র্তজা আউট হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসলেন সবাই। হ্যাটট্রিকের দ্বারপ্রান্তে থাকা ‘অচেনা’ এ অফস্পিনার কি পারবেন হ্যাটট্রিক করতে? সবার চোখ তখন একদিকে। ক্যামেরার লেন্সও যেন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ঢাকা ডায়নামাইটসের ২২ বছর বয়সী বোলারের দিকে! তিনি পেরেছেন। ১৮তম ওভারের শেষ বলে ফরহাদ রেজাকে আউট করে হ্যাটট্রিক করেছেন। এর সুবাদে বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে মাশরাফি-সাকিবের লড়াইকে ছাপিয়ে গতকাল সব আলো কেড়ে নেন আলিস আল ইসলাম। হ্যাটট্রিক হওয়ার পর আলিস আল ইসলামের প্রোফাইল ঘাটা শুরু করলেন সংবাদকর্মীরা! মজার ব্যাপার হলো, তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার সম্পর্কে সেখানে কিছুই লেখা নেই। থাকবে কিভাবে? প্রথমবার যে মাঠে নামলেন আল ইসলাম নামের এ তরুণ বোলার।

ছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার। সেখান থেকে ঢাকার একাদশে সুযোগ পেলেন। প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত; হ্যাটট্রিক করলেন। ৪ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হওয়া ঢাকার এ অফস্পিনার সংবাদ সম্মেলনে জানালেন তার একাদশে সুযোগ পাওয়ার গল্প। বললেন, ‘আমি ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার ছিলাম। নেটে বোলিং করার সময় সুজন (ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ) স্যার আমাকে দেখেন। ওনার বিশ্বাস হয় যে আমি ভালো করতে পারব। তার পর আমাকে দলে নেওয়া হয়। টিম ম্যানেজমেন্ট, খেলোয়াড়রা আমাকে সাপোর্ট করেন। এভাবেই আমি সেরা একাদশে জায়গা পাই।’

একাদশে থাকবেন কখন জানলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আলিস বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানতে পারি খেলব। স্যার আমাকে ডেকে বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে। এতো বড় স্টেডিয়ামে, এতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম খেলা নার্ভাসেরই বিষয়। আমি প্রথমে নার্ভাসই ছিলাম, তবে তার পরও ভালো হয়েছে।’

১৮তম ওভারে হ্যাটট্রিক করেছেন আলিস। তার শিকার মিঠুন, মাশরাফি ও ফরহাদ রেজা। এর আগে তৃতীয় বলে হাওয়েলের ফিরতি ক্যাচ মিস করেন তিনি। ওই ওভারে সাকিব আল হাসান তাকে টোটকা দিয়েছিলেন। কি বলেছিলেন ঢাকার অধিনায়ক? আলিস বলেন, সাকিব ভাই শুধু বলছিলেন যে, ভালো হচ্ছে। তুই তোর ভালো জায়গায় বল করতে থাক। সত্যি বলতে কি হ্যাটট্রিক করা যায় না, হ্যাটট্রিক হয়ে যায়।’ চার উইকেট শিকার করলেও বলেছেন, মাশরাফির উইকেটকে সবার ওপরে রাখবেন।’

আলিস আল ইসলাম তার উঠে আসার গল্প জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করি কাঁঠালবাগান গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাবের হয়ে। তার পর কয়েক বছর সেকেন্ড ডিভিশন খেলার পর ফাস্ট ডিভিশনে খেলি। তার পর বিপিএল।’ সাভারের বলিয়ারপুর থেকে উঠে আসা এ অফস্পিনার জানান, প্রথমবার মাঠে নামায় তিনি অনেক নার্ভাস ছিলেন। বলেন, ‘বিপিএলে এটা আমার প্রথম ম্যাচ। খোলাসা করে বলতে গেলে মিরপুর স্টেডিয়ামেই এটা আমার প্রথম ম্যাচ। আমি আসলে অনেক নার্ভাস ছিলাম। তবে ক্যাচ দুটি ড্রপ করার পর দলের সবাই আমাকে সাপোর্ট করেছে। সবাই অনেক সাহস দিয়েছেন। তাতে আমার মনে হয়েছে যদি ভালো জায়গায় বল করতে পারি তা হলে ভালো কিছু হতে পারে। আমি শুধু ভালো জায়াগায় বল করতে চেয়েছি।’

শেষ ওভারে জয়ের জন্য রংপুরের দরকার ছিল ১৪ রান। সাকিব বোলিংয়ে পাঠান আলিসকে। শফিউল প্রথম দুই বলে চার মারেন। তবে আলিস জানান, তার মধ্যে বিশ্বাস ছিল। বলেন, ‘প্রথম দুটি বল স্ট্যাম্পের বাইরে করেছি। যেটা শফিউল ভাই ভালো পেয়েছে। তার পর ভাবলাম স্ট্যাম্পের মধ্যে করি। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। মনে হচ্ছিল পারব।’ আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ডালপালা গুঞ্জন মেলেছে। চাকার বলা হচ্ছে তাকে! আলিস অবশ্য বললেন, তার বোলিং অ্যাকশন কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। এ দিকে আলিসের প্রশংসা করেছেন রংপুর ও ঢাকার অধিনায়ক মাশরাফি ও সাকিব। মাশরাফি বলেন, ‘সে ভালো করেছে। বৈচিত্র্য আছে ওর বোলিংয়ে।’ সাকিব বলেন, ‘শুরুতেই ও নিজের মান দেখিয়ে দিতে পেরেছে। এটা সৌভাগ্যের ব্যাপার।’ অন্যদিকে আলিসের বোলিং অ্যাকশন ত্রুটিপূর্ণ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছে রংপুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here