মিরসরাই প্রতিনিধি
আগামী ১১ নভেম্বর মিরসরাই উপজেলার ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতীকে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও এখানকার জনগন ইউনিয়নে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখতে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টারকে পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে ও মিরসরাই’র আগামীর কান্ডারী মাহবুব রহমান রুহেল এর পরামর্শে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের শেখের তালুক গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতার নাম মরহুম জহুরুল হক। তিলে তিলে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠা এই মানুষটি অসহায় ব্যক্তিদের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন।

চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর মাষ্টারের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হওয়ার খুশি এলাকার জনসাধারণ। মঘাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ আলা উদ্দিন বলেন, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মধ্যে জাহাঙ্গীর চেয়াম্যানের আমলে সর্বোচ্চ উন্নয়ন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ও মাদক নির্মূলে সবচেয়ে কার্যকরি ভূমিকা পালন করেন তিনি। করোনাকালে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন সব সময়। সরকারি সকল প্রদক্ষেপ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন মাষ্টার বলেন, আমার আমলে দৃশ্যমান যে উন্নয়নগুলো হয়েছে কিংবা আমি কতটুকু সফল সেটা বিবেচনা করবে জনগণ। উন্নয়ন করেছেন আমার প্রিয় নেতা, আমি শুধু তদারকি করেছি। আগামীতে আমার প্রিয় নেতা সাবেক সফল মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং উনার সুযোগ্য সন্তান বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেল ভাই আমাকে এবং আমার কর্মকে মূল্যায়ন করে যদি আবার দলীয় মনোনয়ন দেয় তাহলে ইউনিয়নে যে কাজ গুলো বাকি সেগুলো সমাপ্ত করে মঘাদিয়া ইউনিয়কে বাংলাদেশের বুকে একটি রোল মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো। অভাব, দরিদ্রতা, মাদক, অপসংস্কৃতি এসব অন্ধকার দূর করব। আমি যতদিন এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকব ততদিন এ সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে নিজেকে উজাড় করে দিব। এছাড়া আমার প্রিয় নেতা ও উনার পরিবারের জন্য নিজের জীবনও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত রয়েছি।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন রয়েছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার কঠোর পরিশ্রম, সাহস, সততা, ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা নিয়ে ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ড সঠিক ও সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। সরকারের বরাদ্দকৃত ইউনিয়নের জন্য পাওয়া টিআর, কাবিখা, চল্লিশ দিন, ইত্যাদি কর্মসূচীসহ প্রতিটি কাজ সঠিক ও সুন্দর ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অপরাধ অনেকাংশে কমে গেছে।করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে ইউনিয়নের অসহায়, দুস্থ্য, হতদরিদ্র, দিন মজুর, খেটে- খাওয়া কর্মহীন মানুষের পাশে থেকে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সামগ্রী দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সর্বদা তাদের পাশে ছিলেন। নির্বাচনকালীন সময়ে সাধারণ জনগনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে একজন সফল ও জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে সবশ্রেনীর মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাহাঙ্গীর মাষ্টার ২০১৬
সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর পাল্টে যায় মঘাদিয়া ইউনিয়নের দৃশ্যপট। একটি জরাজীর্ণ এবং মাদকাসক্ত জনপদকে রাঙিয়ে তুলেছেন শান্তির জনপদে। গত ৫ বছরে মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৯টি ওর্য়াডের দৃশ্যমান বহু উন্নয়ন করেছেন। যিনি শিক্ষা,স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়কে করে তুলেন তথ্য এবং প্রযুক্তি নির্ভর। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ নানা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অবদানের জন্য বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি। নারীর আর্থিক কর্মসংস্থানের জন্য ব্যক্তিগত অর্থায়নে অসহায় দরিদ্র মা বোনদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও বিভিন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান। মঘাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওর্য়াডের গ্রামীণ সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয় তার আমলে। শিক্ষা ক্ষেত্র সুদূর প্রসারী ভূমিকা পালন করেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে তিনি বৈশ্বিক মহামারী করোনার সময় মাঠে থেকে করোনা মোকাবিলায় ‘করোনা যোদ্ধা’ হিসেবে উপজেলার মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

এছাড়া তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক পড়ালেখার খরচ চালিয়ে আসছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন নোয়াপাড়া জামে মসজিদ, শরীয়তপাড়া ফোরকানিয়া মাদরাসা, বহদ্দারগ্রাম ফোরকানিয়া মাদরাসা সহ একাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।



