মিরসরাই প্রতিনিধি
প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে ব্যাপক গনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসীম।
মাদক, সন্ত্রাসমুক্ত স্মার্ট করেরহাট বির্নিমান ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে চশমা প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এছাড়া দলীয় নেতা-কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা আলাদাভাবে গনসংযোগ করছেন। আগামী ২৭ জুলাই শনিবার ইভিএম এর মাধ্যমে ইউনিয়নটিতে উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন আরো দুজন।

জানা গেছে, সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসীম দীর্ঘ ৩০ বছর ধরেব্যক্তিগত উদ্যোগে করেরহাট ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করেছেন বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড। ইউনিয়নের বদ্দ ভবানীতে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণ, ছত্তরুয়া আব্দুল বারেক জামে মসজিদ নির্মাণ, জিলতলী জামে মসজিদের অজুখানা নির্মাণ, দক্ষিণ গেড়ামাড়া জামে মসজিদের অজুখানা নির্মাণ, করেরহাট শ্রী শ্রী কালী মন্দির এর মূল গেইট নির্মাণ, ছত্তরুয়া পাল পাড়া শ্রী শ্রী কালী মন্দির এর ভবন নির্মাণ, দক্ষিণ অলিনগর সংযোগ সড়ক দ্বীপের টিলা রাস্তার উপর কালভার্ট নির্মাণ, গেড়ামাড়া গুচ্ছগ্রাম সড়কের কালভার্ট নির্মাণ, পশ্চিমজোয়ার রশিদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেইট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মাঠে মাটি ভরাট, গেড়ামাড়া গুচ্ছগ্রাম সড়কের কালভার্ট নির্মাণ, দক্ষিণ অলিনগর মরইগ্যা টিলা সড়কের কালভার্ট নির্মাণ, দক্ষিণ অলিনগর সংযোগ সড়কের কালভার্ট নির্মাণ, বায়তুন মামুর জামে মসজিদ সড়কের কালভার্ট নির্মাণ করেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানেরও। তিনি পশ্চিম জোয়ার রশিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংস্থা উদয়ন ক্লাব ও অভিযান ক্লাবের উপদেষ্টা এবং মিরসরাই এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মোহাম্মদ সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসিম বলেন, আমি ছাত্র জীবন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। একটানা চারবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। রাজনৈতিক কারণে জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলনে প্রথম সারিতে নেতৃত্ব প্রদান করে বহুবার হামলা-মামলার স্বীকার হয়েছি। কখনো সংগঠনের সাথে বেঈমানী করিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেলের দলীয় প্রতিটি নির্দেশনা পালন করেছি। জনপ্রতিনিধি না হয়েও আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে করেরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছি। আগামী ২৭ জুলাই ভোটে নির্বাচিত হলে করেরহাট ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাসমুক্ত স্মার্ট ইউনিয়নে রূপান্তরের কাজ করবো। সড়ক নির্মাণের ফলে ভেঙ্গে ফেলা করেরহাট বাজারকে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করে নতুন শেট নির্মাণ করবো। বয়স্ক, বিধবা ভাতা, ভিজিডি কার্ড বাড়ানো সহ অসহায়-অস্বচ্ছল হতদরিদ্রদের উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করবো। গ্রামীণ সড়ক তথা যোগাযোগ খাতে উন্নয়নের পাশাপাশি করেরহাটকে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত করবো।

করেরহাট ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩০ হাজার ৬৪ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৭২ জন, মহিলা ভোটার ১৩ হাজার ৯৯১ জন, হিজড়া ভোটার ১ জন। ১৪৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ইউনিয়নটি ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।
গত ৮ মে অনুষ্ঠিত হওয়া মিরসরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন পদত্যাগ করায় এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ শুন্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।



