নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরসরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন ৩নং জোরারগঞ্জ। এই ইউনিয়নের জনগন শিক্ষা, সংস্কৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক সচেতনও। আগামী ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে চায়ের কাপে ঝড় উঠেছে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। কে পাচ্ছেন জোরারগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন। তাই ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরারগঞ্জে একাধিক প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপও শুরু হয়েছে। তবে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সফল মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত, উদীয়মান রাজনীতিবিদ রেজাউল করিম মাষ্টার। তিনি ২০১৯ সালে ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। সমাজসেবক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুনাবলীর পরিচায়ক, কর্মীবান্ধব, মানবিক নেতা হিসেবে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

জানা গেছে, মানবসেবার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে মানবতার কল্যাণে সমাজের প্রতিটি স্তরে আলোচিত হয়েছেন মিরসরাই উপজেলার ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মকবুল আহম্মদ কল্যান পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব রেজাউল করিম মাষ্টার।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও মানব সেবায় আত্ম-উৎসর্গ করেছেন নিজেকে। এবার দলীয় প্রতিকে নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে জগণের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এলাকার উন্নয়ন এলাকার মানুষের পাশে থাকা আমার সাধ। আর আমি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার দল আওয়ামী লীগ ও নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনায় আগামী দিনগুলোতেও অবিচল থাকবো।
করোনার শুরু থেকে চার ধাপে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি গ্রামে সব পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী সহয়তা দিয়েছেন। অনেক পরিবারে রাতের আঁধারে চুপিসারে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে মানবতাবাদী একজন নেতার দৃষ্টান্ত রেখেছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এর আগ্রাসনে শীতের শুরুতে শিশু কিশোররা স্কুল কলেজে যেতে না পেরে যেন কোন প্রকার সামাজিক ব্যধিগ্রস্থ হতে না পারে । কোনভাবেই যেন নেশাগ্রস্থ হতে না পারে সেজন্য জোরারগঞ্জের অন্তত ২৫ টি এলাকায় গ্রামে গ্রামে শিশু কিশোরদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরণ করেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে আয়োজন করেছেন ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন সহ নানা ধরনের খেলা-ধুলা।

রেজাউল করিম মাষ্টার জানান, আমি মানুষের সেবা করতে চাই। সারা জীবন গরিব-দুঃখী, অসহায় ও সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেব। মহামারী করোনা ভাইরাসে লকডাউনের সময় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে কর্মহীন মানুষের মাঝে দফায় দফায় খাদ্য ও সুরক্ষা সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। এছাড়া মকবুল আহম্মদ কল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে দুঃস্থ, অসহায় এবং গরীব মেয়েদের বিয়ের সময় সহযোগিতা করে আসছি। আমি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর দ্রুত ওয়ার্ড কমিটি ও ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে তৃণমূল আওয়ামীলীগকে আরো শক্তিশালী করেছি। এছাড়াও অসহায় ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের আর্থিক ও মানসিক শক্তি জোগাতে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাদের অভিভাবক সাবেক সফল মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র মিরসরাইয়ের আগামীর কর্ণধার মাহবুব রহমান রুহেল ভাই যদি আমাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেন তাহলে ইনশাল্লাহ আমি নৌকাকে বিজয়ী করবো।

জানা গেছে, রেজাউল করিম মাষ্টার ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ও মিরসরাইয়ের মাটি-মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক সফল মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে ভালোবেসে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী রাজনীতি করে যাচ্ছেন। পদ পদবীর জন্য রাজনীতি করেননি। তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকৎপরতায় এলাকার গন মানুষের মধ্যমনি হয়ে উঠেছেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও দাবী উঠেছে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।

তাঁর আন্তরিকতা, উদারতা, ভালোবাসা ও সহযোগীতার কারণে অন্য দলের রাজনীতির আদর্শের লোকজনও আওয়ামীলীগকে সমর্থন করছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর প্রমাণ মিলেছেন। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মস্তাননগর সোনাপাহাড়ের ওই এলাকার মানুষের মধ্যে এখন ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে।

জানা গেছে, শিক্ষা প্রসারের জন্য ২০০০ সালে মস্তাননগর এলাকায় পৈতৃক জায়গায় শাহ কালা (রঃ) প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন রাবেয়া খাতুন নূরানী তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসা। ওইসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
তিনি জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন। মকবুল আহম্মদ কল্যান পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জোরারগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, চট্টগ্রামস্থ মিরসরাই সমিতির দাতা সদস্য, মিরসরাই প্রেসক্লাবের দাতা সদস্য, সামাজিক সংগঠন সততা সংঘের প্রধান পৃষ্টপোষক ও উপদেষ্টা, ফারদিন এগ্রো গ্রুপ‘র চেয়ারম্যান।



