মিরসরাই প্রতিনিধি:::
মিরসরাইয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ৫ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে আটককৃতদের নাম প্রকাশে অনিহা প্রকাশ করেছেন জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, আগামী ৫ অক্টোবর বিএনপির ১৫ দিনের কর্মসূচির মধ্যে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ উপলক্ষ্যে মিরসরাইয়ে একটি পথসভা করার কথা রয়েছে। তারই প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান উপজেলার ৫ নম্বর ওচমানপুর ইউনিয়ন এলাকায় একটি সভা শেষে সবাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন। এসময় আজমপুর এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে বলে বিএনপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে। এতে তাদের ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করে বিএনপি। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দাবি শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় ওচমানপুর ইউনিয়ন এলাকার আজমপুর বাজারে বিএনপির লোকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ওচমানপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসান, মিরাজ, আরেফিন, সাঈদ খান দুখু ও রাফিসহ ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
এদিকে উপজেলা নিহত জাহিদ হোসেন রুমনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। ছাত্রলীগের দাবী সে ছাত্রলীগের কর্মী। বিএনপির দাবী সে কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ করিম রানা নিহত জাহিদুল ইসলাম রুমনকে ছাত্রলীগের কর্মী দাবী করে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা রুমনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তাকে পিটিয়ে পুকুরের ফেলে দেওয়া হয়। রুমন ওচমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।

হামলার ঘটনায় যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আহতরা হলেন- ওচমানপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসান (২৮), মিজানুর রহমান (৩২), ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শহীদ খান দুখু (৩৫), আব্দুল্লাহ্ আল মামুন (২৮), মাহেদুল আলম রাকিব (২৫)। আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ হাসানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন- হানিফ, জিয়াউদ্দিন জিয়া, সালাউদ্দিন বাবু, নুর হোসেন বাদশা, মিঠু, আরিফ মাইনুদ্দিন, রানা, মোজাম্মেল হোসেন, মাসুদ কালা, মোহাম্মদ তারেক, রাজু, রাকিব হোসেন, মোহাম্মদ নাসির সাইফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, জিলানী মিঝি, জামশেদ আলম।

মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহিনুল ইসলাম স্বপন বলেন, শুক্রবার বিকেলে হামলার পর রাত ৮টার দিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে সবকিছু তছনছ করে ফেলে। এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। তিনি আরো বলেন, নিহত রুমন কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয়। আওয়ামী লীগের লোকজন লাশ নিয়ে অপরাজনীতি করছে।
নিহত জাহিদ হোসেন রুমনের মামা ইউনুছ নবী প্রকাশ হোনা, আমার ভাগিনা নানার বাড়িতে থেকে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। এরপর আর পড়াশোনা করেনি। শুক্রবার দুপক্ষের সংঘেের্ষর সময় তাকে মেরে পানিতে ফেলে দেয়। সে কোন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত কিনা সে বিষয়ে তিনি সঠিক জানেন না।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার খোন্দকার নোমান সায়েরী বলেন, আহত ৫জনকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। জাহিদ হোসেন রুম (১৬) নামের একজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে মনে হচ্ছে। আহতদের মধ্যে হাসান নামের একজনের অবস্থা আশংকাজনক। তাকে চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) মনিরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও একাধিক আহত হয়েছে। হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে বিএনপির ৫জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ওই এলাকায় অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে বিএনপি নেতা নুরুল আমিনের বাড়িতে হামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।



