জিতলে দারুণ একটা সম্ভাবনা থাকত শেষ চারে যাওয়ার। কিন্তু গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের কাছে হেরে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই মিইয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে শনিবার চট্টগ্রামের কাছে ৩৬ রানে হেরে গেছে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। এখন বিকেলের ম্যাচে বরিশালের দিকে তাকিয়ে থাকবে রাজশাহী।
সেই ম্যাচে বরিশাল জিতলে, বাদ পড়ে যাবে রাজশাহী। আর বরিশাল হারলে নেট রান রেটের বিবেচনায় ঠিক হবে কে যাবে চতুর্থ দল হিসাবে প্লে অফে। তবে ৮ ম্যাচে সাত জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সগৌরবে তালিকায় শীর্ষে থেকে প্লে অফ নিশ্চিত করল দুরন্ত চট্টগ্রাম।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে চট্টগ্রাম। জবাবে রাজশাহীর ইনিংস শেষ হয় ৮ উইকেটে ১৩৯ রানে। ম্যাচ সেরা ৪ ওভারে ১৭ রানে তিন উইকেট নেয়া চট্টগ্রামের বোলার নাহিদুল ইসলাম।
জিততে হলে রাজশাহীর করতে হবে ১৭৬ রান। বড় টার্গেটে খেলতে নেমে শুরু থেকেই ধুকেছে দলটি। দুই ওপেনার কিছুই করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৪ রানে প্রথম বিদায় নেন ইমন। ১০ বলে ১১ রানে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দায়িত্বটা ছিল টপ অর্ডারসহ পরের ব্যাটসম্যানদের। নূরুল হাসান ও মেহেদী হাসান সেই দায়িত্ব কিছুটা পালন করলেও বাকিরা কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি চট্টগ্রামের বোলারদের সামনে।
২৮ বলে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন সোহান। দুটি চার, নেই ছক্কা। তিন ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করেন মেহেদী হাসান। রনি তালুকদার (১৬) ও ফজলে মাহমুদ (১৯) হতাশ করেছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। শেষের দিকে বল-রানের সমীকরণে ছিল ব্যাপক তফাত। সেই অঙ্ক মেলাতে যাননি লেজের সারির ব্যাটসম্যানরা। বরং উইকেট চেপে ধরে ২০ ওভার খেলাই ছিল তাদের লক্ষ্য। রাজশাহীর ইনিংস শেষ হয় ১৩৯ রানে সাত উইকেটে।
চট্টগ্রামের হয়ে বল হাতে সবাই দারুণ করেছেন। ৪ ওভারে ১৯ রানে তিন উইকেট নিয়ে আলোচনায় নাহিদুল ইসলাম। ২ ওভারে ১৭ রানে দুটি উইকেট নেন জিয়াউর রহমান। শরিফুল, রাকিবুল ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের হয়ে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। দুজনই করেন ঝলমলে ফিফটি। ফলে বাকি ব্যাটসম্যানদের উপর তেমন চাপ পড়েনি। ৪৮ বলে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন সৌম্য সরকার। তার ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা ও তিন চারের মার।
আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাস ৪৩ বলে খেলেন ৫৫ রানের দারুণ ক্লাসিক্যাল ইনিংস। পাঁচ চারের সাথে তিনি হাকান এক ছক্কা। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন (২) দ্রুত ফিরলেও ১৮ বলে তিন ছক্কা ও এক চারে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন শামসুর রহমান। ৪ বলে ৩ রানে মোসাদ্দেক ফেরেন সাজঘরে। ৭ বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন জিয়াউর রহমান।
বল হাতে রাজশাহীর হয়ে বেধড়ক মার খেয়েছেন প্রায় সবাই। তবে একটু ব্যতিক্রম আনিসুল ইসলাম ইমন। ৩.৩ ওভারে ২১ রানে তিনি নেন দুটি উইকেট। সবচেয়ে কম রান তিনিই দিয়েছেন।



