প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ২৯৪ রান। দ্বিতীয় দিনে বাকি দুই উইকেটে রান চার শ’ অতিক্রম করবে, তা ভাবেনি কেউ। কিন্তু নবম উইকেটে রেকর্ড জুটিতে তাই সম্ভব করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও পেসার তাসকিন আহমেদ।
নবম উইকেটে দুজনে তোলেন ১৯১ রান। বাংলাদেশের হয়ে এই উইকেটে যা সর্বোচ্চ। আগেরটি ছিল ১৮৪ রানের, সেখানেও ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তার সাথে আবুল হোসেন, তিনিও পেসার। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুজনে করেছিলেন খুলনায়।
এবার হারারেতে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি ও তাসকিনের প্রথম টেস্ট ফিফটিতে অসাধারণ একটা দিন দেখা গেল। তাসকিন ফিরলেও বরাবর ১৫০ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ। যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। আগেরটি ছিল ১৪৬ রানের, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, ২০১৯ সালে হ্যামিল্টনে। ৭৫ রানে ফেরেন তাসকিন। ১২৬ ওভারে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪৬৮ রান।
প্রথম দিনের দুটি সেশন ছিল খুব হতাশাজনক। ১৩২ রানে বাংলাদেশ হারায় ৬ উইকেট। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন মাহমুদউল্লাহ ও লিটন। লিটন ৯৫ রানে আউট হলেও প্রথম দিন শেষে মাহমুদউল্লাহ ৫৪ রানে ও তাসকিন ১৩ রানে ছিলেন অপরাজিত। ৮৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ২৯৪ রান।
দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং নেমে দারুণ শুরু মাহমুদউল্লাহ ও তাসকিনের। উইকেট না পরায় অনেকটা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন জিম্বাবুয়েন পেসার মুজারাবানি ও নাউচি। একবার তাসকিনের সাথে হালকা লেগেই গেল মুজারাবানির। এর কিছুক্ষণ পর নাউচির সাথে রিয়াদের।
মেজাজ হারাননি রিয়াদ ও তাসকিন। খেলে গেছেন নিজেদের মতো। নবম উইকেটে দুজনে গড়েন রেকর্ড। তোলেন ১৯১ রান। এর মধ্যে ক্যারিয়ারের পঞ্চ সেঞ্চুরির দেখা পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৯৫ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান মাহমুদউল্লাহ।
প্রথম দিন শেষে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তাসকিন। দ্বিতীয় দিনে অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে খেলতে থাকেন তাসকিন। মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরির পর সিঙ্গেলস নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন তাসকিন। টেস্টে তাসকিনের আগের সর্বোচ্চ ছিল ৩৩ রান। মজার ব্যাপার হলো ক্যারিয়ারে বাকি ১২ ইনিংসে দুই অঙ্কের রান ছুতে পারেননি তাসকিন। জিম্বাবুয়েতে ব্যাট হাতে তাসকিন দেখালেন নিজের বিশেষত্ব।
নবম উইকেট বিচ্ছিন্ন হয় ৪৬১ রানে। ১৩৪ বলে ১১ চারে ক্যারিয়ার সেরা ৭৫ রানে শুম্বার বলে বোল্ড হন তাসকিন। এরপর মাঠে নামেন এবাদত হোসেন। ৮ বল খেলেও অবশ্য তিনি রানের খাতা খুলতে পারেননি। ২৭৮ বলে ১৫০ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার ইনিংসে আছে ১৭টি চার ও একটি ছক্কার মার। গোটা ইনিংসে ছক্কা একটিই।
বল হাতে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন মুজারাবানি। তিরিপানো, নাউচি নেন দুটি করে উইকেট। মিলটন শুম্বা ও এনগারাভা পান একটি করে উইকেটের দেখা।



