বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ কেউ হেরে গেলে যে তাদের সব কিছু শেষ হয়ে যায় না, বরং আরও ক্ষুরধার হয়ে ওঠে সেটা আবারও প্রমাণ করলো আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ২০১০ সালে স্পেন নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়েছিলো সুইজারল্যান্ডের কাছে। এরপর বাকি সব ক’টি ম্যাচ জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয়েছিলো তারা।
১৯৯০ বিশ্বকাপের কথাই ধরুন। দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। প্রবল পরাক্রমশালী তখন। আর সেবার প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিলো আফ্রিকান দেশ ক্যামেরুন। কিন্তু কী আশ্চর্য, নবাগত ক্যামেরুনের কাছেই কি না হেরে গেলে ম্যারাডোনার দল!
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলো আর্জেন্টাইনরা। ফাইনালটা বিতর্কিত না হলে হয়তো কাপটা আবারও উঠতো ম্যারাডোনার হাতে।
এবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা। মেসির পেনাল্টি গোলে প্রথমেই এগিয়ে গিয়েছিলো আর্জেন্টাইনরা। কিন্তু শেষে কী হলো, সালেম আর সেহরি আর সালেম আল দাওসারির গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিলো সৌদি আরব।
বিস্ময় দিয়েই যেন শুরু হলো বিশ্বকাপ। ফুটবলের ইতিহাসে যা সবচেয়ে সেরা অঘটন। মেসি নিজে পর্যন্ত বলেছিলেন, আমরা শেষ হয়ে গেছি। সে জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। দলটির কোচ স্কালোনি বলেছেন, সৌদির বিপক্ষে হার তার চোখ খুলে দিয়েছে। ভুলগুলো কোথায় তা খুঁজে পেয়েছেন।
পরের ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে সেই ভুল মেরামত করে দল মাঠে নামালেন। মেসি এবং ফার্নান্দেজের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো আর্জেন্টাইনরা। শেষ ম্যাচে লেওয়ানডস্কির পোল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই উঠে যায় দ্বিতীয় রাউন্ডে। যেখানে পেয়েছে তারা অস্ট্রেলিয়াকে। এই ম্যাচে ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে কিছুটা। অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষকের ভুলে আলভারেজের দ্বিতীয় গোলটা না হলে তো বিপদেই পড়তে হতো মেসিদের।
কোয়ার্টার ফাইনালে মোলিনার গোলে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয় গোলটি মেসি করেন এক বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে। শেষ মুহূর্তে ওয়েগহোস্ট দুটি গোল করলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। বিতর্কিত পেনাল্টিটা না দিলে সেদিনই মেসিদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যেতো। টাইব্রেকারে জিতে সেমিতে ওঠে আর্জেন্টিনা।
সেমিতে আজ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে, এই ম্যাচের শুরুটা খুবই বাজে ছিলো আর্জেন্টাইনদের জন্য। কিন্তু হঠাৎ করেই বিতর্কিত পেনাল্টি দিলেন রেফারি। মেসি গোল করলেন। এরপরই পাল্টে যায় খেলার চিত্র। পরের দুই গোল ছিল অসাধারণ। কিন্তু পেনাল্টির বাঁশিটা না বাজলে খেরার চিত্র ভিন্নও হতে পারতো।



