মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘বীর নিবাস’ পাচ্ছেন ২৭০জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গরীব ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের এসব ঘর দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ের ২২১টি ঘরের কাজ অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের বাকি ৪৯টি ঘরের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ের ২২১টি ঘরের মধ্যে কাজ শেষে বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২৭টি ঘর উদ্বোধন করা হয়েছে। আরো ৩০টি ঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি ঘরের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় মিরসরাইয়ের ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার ২৭০জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এগুলোর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২১১টি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৯টি ঘর দেয়া হবে। প্রতিটি ঘরের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। ৭ কক্ষ বিশিষ্ট বীর নিবাসে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। বুধবার সকালে দুর্গাপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম, ভগবান মাষ্টার, মো. আলমগীর ও আবুল কাশেমকে এবং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনকে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কবির আহম্মদ, দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ আরজু, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাফিয়া এন্টার প্রাইজের সত্ত্বাধিকারী নুরুল হুদা রুবায়েত প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়া দুর্গাপুর ইউনিয়নের অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম বলেন, দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল পাকা ঘরে ঘুমাবো। কিন্তু স্বাদ থাকলেও সাধ্য না থাকায় পাকা দালান গড়তে পারিনি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কবির আহম্মদ বলেন, মিরসরাইয়ে ২৭০ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ‘বীর নিবাস’ পাবে। ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ের ২২১টি ঘরের কাজ নির্মাণ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত কাজ শেষে ২৭টি ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরো প্রায় ৩০টি ঘরের কাজ শেষ পর্যায়ে হয়েছে।
এবিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন বলেন, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় ২৭জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্য ঘরগুলোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পর্যাক্রমে সবগুলো ঘর কাজ শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝিয়ে দেয়া হবে।



