মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা ও সমর্থকদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে। গত শনিবার তারাবির নামাজরে পর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে ২০-২৫ জনের একটি দল অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে এ হামলা করে। মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে দুই জনের মধ্যে মারামারিকে স্থানীয় রাজনীতিকে রূপ দিয়ে সন্ত্রাসীরা এ হামলা করে বলে অভিযোগ ভোক্তভূগিদের।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক এমরান হোসেন সোহেল জানান, গত শুক্রবার (১১ মে) ইছাখালী ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ী ইয়াছিনের সাথে দূর্গাপুর ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ীদের আসাদে টাকাপয়সা নিয়ে মারামারি হয়। ওই মারামারিকে কিছু সন্ত্রাসী স্থানীয় রাজনীতির গ্রæপিংয়ে রূপ দিয়ে শনিবার রাতে আনিসের নেতৃত্বে আদর্শ শাহ আরিফ, কামরুল, নাজিম মাসুদ, আসাদসহ প্রায় ২০-২৫জন ছাত্রলীগ নেতা আরিফুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় তারা আরিফুর রহমানের একটি মোটর সাইকেল জ¦ালিয়ে দেয় এবং একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আরিফুর রহমানের বাড়ি থেকে সন্ত্রাসীরা দুর্গাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মোসলিমের বাড়িতে হামলা চালায়। এরপর তারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক মাসুদেক দোকান ও বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার মাসুদ ও তার মা আহত হয়। পরে আওয়ামীলীগ সমর্থক দূর্গাপুর বাজার কমিটির সভাপতি আবুল হাশেম ও সাধারন সম্পাদক জাহেদ ও জামাল সওদাগরের দোকানের হামলা চালায় এবং তাদের শাসিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের মারামারির ঘটনাকে শিবিরের রাজনীতি ছেড়ে দলবদল করে আসা কিছু সন্ত্রাসী স্থানীয় রাজনীতিতে রূপ দিয়ে এলাকা অশান্ত করতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই সন্ত্রাসীরে আচার আচারণে এলাকার মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক বিরাজ করে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, ‘আমি যতটুকু জানি দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অভ্যান্তরীন কোন্দলের কারণে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রপিংয়ের ফল হচ্ছে নেতাকর্মী সমর্থকদের বাড়িতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা। এ ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখছি’।
জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সুজয় কুমার মজুমার জানান, শুক্রবারের মারামারির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং মান্নান নামে একজন আসামী গ্রেফতারও আছে। তবে শনিবারের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন মামলা করতে কেউ থানায় আসেনি।



