আজাদপুত্র ‘ডন সামাদ’ও ধানের শীষে নির্বাচন করবেন!

206

 

নিউজ ডেস্ক..
সুনামগঞ্জ-৩ আসন (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) থেকে পর-পর কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কার মনোনয়ন চেয়েছিলেন স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আ’লীগের জাতীয় মরহুম জননেতা আলহাজ্জ আব্দুস সামাদ আজাদের পুত্র আজিজুস সামাদ আজাদ ডন। গত ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছেন এবারো নৌকার মনোনয়ন থেকে তিনি বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলে কর্মী-সমর্থকদের চাপে নির্বাচন করবেনই সামাদপুত্র আজিজুস সামাদ আজাদ ডন এমনটিই এখন সুনামগঞ্জে সর্বত্রই আলোচনা সমালোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত নৌকাতে না উঠতে পেয়ে তরী ভেড়াতে পারেন ঐক্যফ্রন্টেও। হবিগঞ্জের রেজা কিবরিয়ার পথ ধরতে হাটতে পারেন তিনি এমন গুঞ্জনে সরব এখন সুনামগঞ্জের ভোটের মাঠ।

কোন বলয় থেকে নির্বাচন করবেন এ ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট কিছু জানাননি সামাদ পুত্র ডন। তবে তিনি জানান, ‘সময়ই বলে দেবে। তবে- সামনে নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।’ এদিকে আজ-কালের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন সামাদপুত্র ডন। অগ্রজ নজরুল ইসলাম ইতিমধ্যে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন। নজরুলের কাছ থেকেও আমন্ত্রণ আছে ডনের। ফলে রেজা কিবরিয়ার মতো ডন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী হলে হিসেব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। আর এনিয়ে সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে অবাক করার কিছুই নেই।

৭৫-পরবর্তী আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরেন আব্দুস সামাদ আজাদ। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন আবদুস সামাদ আজাদ। ২০০৫ সালে মারা যান বর্ষীয়ান জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ। বাবার মৃত্যুর পর বড় ছেলে আজিজুস সামাদ আজাদ ডন উপনির্বাচন করতে চাইলেও দলীয় অনুমতি না পাওয়ায় নির্বাচন করেননি তিনি। ২০০৮ সালে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় সাবেক যুগ্মসচিব আলহাজ্জ এম এ মান্নানকে। আজিজুস সামাদ আজাদ ডনকে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ২০১৪ সালেও এমএ মান্নানকে মনোনয়ন দেয়া হয় সুনামগঞ্জ-৩ আসনে। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী করা হয় এমএ মান্নানকে।

মন্ত্রী হওয়ার পর নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দুরত্ব হওয়ার কারণে এলাকায় গ্রহণযোগ্যতায় ভাটা পড়ে। এ কারণে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশে সাথে দুরত্বের সৃষ্টি হয় বলে জানান দলীয় বেশ কিছু নেতা-কর্মী। ডন পন্থি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আরো জানান, নির্বাচনী মাঠ গোছাতে থাকেন আজিজুস সামাদ ডন। দলীয় হাইকমান্ড থেকে আশ্বস্থ করা হয় এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু এবারো মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার নিশ্চিত ভাবনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সামাদপুত্র ডন অনুসারী নেতা কর্মীরা। অনেকেই বলেন, সকল জাতীয় নেতার সন্তানদের পদ পদবী দিলেও সামাদ আজাদের পরিবারকে বার বার অবজ্ঞা করা হচ্ছে। ১৪ বছর ধরে এলাকায় মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছেন আাজিজুস সামাদ ডন।

জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য সৈয়দ সাবির মিয়া বলেন, ‘সব জরিপে আজিজুস সামাদ ডন এগিয়ে থাকলেও মনোনয়ন না দেয়া কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। গ্রামের পর গ্রম হেঁটে ডন সামাদ সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন জনবিচ্ছিন্ন কেউ এসে ফল ভোগ করুক আমরা চাই না।’

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাজী আব্দুল্লা বলেন, ‘আজিজুস সামাদ আজাদ ডনকে নিয়ে আমরা মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে গিয়েছি। নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। দল মনোনয়ন না দিলেও নির্বাচন আমাদের করতে হবে। আজিজুস সামাদ ডন মনোনয়ন না পাওয়ায় অনেকেই আজ আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।’

জগন্নাথপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আবাব মিয়া বলেন, ‘স্বতন্ত্র হোক আর ঐক্যফ্রন্ট হোক নির্বাচন ছাড়া আমাদের আর কোনো গতি নেই।’ দক্ষিণ সুনামঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মার্কা ‘ডন’ । আজিজুস সামাদ ডনকে ভোট দেয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে আছে। নির্বাচন ভিন্ন অন্য কোনো পথ খোলা নেই।’

এ ব্যাপারে সামাদ পুত্র আজিজুস সামাদ ডন বলেন, মনোনয়ন ডিক্লারেশনের পর থেকে মানুষের চাপ বাড়ছে। সবার চাপে ইলেকশন করতে হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here