মিরসরাই প্রতিনিধি
গুলি করে বিএনপির কর্মী মকবুলকে হত্যার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রবিবার দুপুরে ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর (গোয়েন্দা) পুলিশ। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাচান মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপর দিকে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর পল্টন মডেল থানায় মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনা সহ ২৫৬ জন এজহারনামীয় ও অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-৪৮) দায়ের করেন। মামলায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ৪৮ নাম্বার আসামী।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বলে জানা গেছে।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নামে আরো যত মামলা :
২০২২ সালের ১১ মার্চ বারইয়ারহাট পৌর এলাকায় খান সিটি সেন্টারের সামনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ জিপসনের উপর হামলার ঘটনায় গত ৬ অক্টোবর ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামি করে জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করেন ইফতেখার মাহমুদ জিপসন।
২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মিরসরাই উপজেলা বিএনপি অফিস ভাংচুরের ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এস.এম হারুন বাদি হয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে এজহারনামীয় ৯০ জনের নামে মিরসরাই থানায় মামলা দায়ের করেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে হামলার ঘটনায় গত ১৮ অক্টোরব ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে জোরারগঞ্জ থানায় বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী বাদী হয়ে মামলা (নং-১২) দায়ের করেন।
২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে ৩৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত ২৫-৩০ জনের নামে গত ২০ অক্টোবর মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাঈন উদ্দিন লিটন।
বিগত ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ঢাকা মহানগরের দক্ষিনের সদস্য ইশরাক হোসেনের গাড়ী বহরে হামলার ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে ১২৬ জন এজাহারনামী ও অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনের নামে গত ২৪ অক্টোবর রাতে ফেনী সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মিরসরাই থানায় (মামলা নং-১৮) দায়ের করেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সম্প্রতি মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।



