মিরসরাই আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান

865

নিজস্ব প্রতিনিধি

দুয়ারে কড়া নাড়ছে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার ঘোষনা দেয়ার পর থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে মিরসরাইয়ে বেশ গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবী বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে যিনি রাজপথে অগ্রভাবে থেকে আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাকে মনোনয়ন দেয়া হোক।
সেক্ষেত্রে অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চেয়ে মনোনয়ন দৌড়ে অনেক এগিয়ে আছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য নুরুল আমিন চেয়ারম্যান।

মনোয়ন পেতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দলের তৃণমুল থেকে হাইকমান্ড পর্যন্ত যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। ইউপি সদস্য থেকে তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নুরুল আমিন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের রেষানলে পড়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর ৬ মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। রাজনৈতিক মামলার কারণে তিনি বহিস্কৃত হয়েছেন।

জানা গেছে, নুরুল আমিন ১৯৯৮ সালে উপজেলার ৫ নম্বর ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৩-২০১১ পর্যন্ত ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮-২০১২ পর্যন্ত ওসমানপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও একই বছর কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের এখন সাংসদ হওয়ার স্বপ্ন।

তৃনমূল নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দলের একেবারে ওয়ার্ডের সমর্থকের খোঁজ খবর পর্যন্ত রাখেন আমিন চেয়ারম্যান। তাদের সুখে দুঃখে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন দীর্ঘ সময় ধরে। বিগত আওয়ামী দুঃসাশনে তাকে কাছে পেয়েছেন তারা। হামলা, মামলা, কারাগারে তিনি সব সময় এগিয়ে এসেছেন।আমরা চাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উনাকে মনোনয়ন দেয়া হোক। কারণ উনি কর্মী-সমর্থকদের দুঃখ দূর্দশায় পাশে থাকেন।

ব্যক্তিগত জীবনে এই সদালাপি মানুষটির কাছে কোন অহংকার নেই। অতি সহজে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষকে আপন করে নিতে পারেন।যার সাথে এক পরিচয় হয়েছে তাকে আর ২য়বার পরিচয় করে দিতে হয় না।তাই এমন ব্যক্তি মনোনয়ন পেলে দলের পাশপাশি সাধারণ মানুষ,সমাজের অনেক উপকার হবে।

জানা গেছে, নুরুল আমিন চেয়ারম্যাকে ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ কেন্দ্রীয় নেতারা ভালোভাবে চেনেন এবং তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী নিজাম উদ্দিন বলেন, মিরসরাই বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারী আমিন চেয়ারম্যান। উপজেলা বিএনপি যখন নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে ঠিক তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। গত ১০ বছরে সকল আন্দোলন সংগ্রাম হামলা, মামলায় অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। নেতা-কর্মীদের সুখে, দুঃখে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, জনগনের ভোটে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও সরকারের প্রতিহিংসার কারণে মাত্র ৬ মাসের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেন নি। আমরা চাইবো দলের হাইকমান্ড বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে কার অবদান ছিলো সে বিষয়টি বিবেচনা করে নুরুল আমিন চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন দেবে এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন।

 

নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়োন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। কারন মামলার সংখ্যাই বলে দেবে দলের দুঃসময়ে রাজপথে কে ছিলো। আমার বিষয়ে কেন্দ্র জানে। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আমি তিনবার কারাবরণ করেছি। আমার বিরুদ্ধে ২৮টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। আমি মনে করি দল সবকিছু বিবেচনা করে আগামী নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেবে।

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here