
মিরসরাই প্রতিনিধি
ডেভলপার কোম্পানী ইন্টারনালের এমডি একে এম এমতাজুল ইসলাম রূপকের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন মিরসরাইয়ের কাঠ ব্যবসায়ী হাজী মোঃ জামাল উদ্দিন। এই ঘটনায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এমতাজুল ইসলাম, আব্দুল আউয়াল ইমন ও আবুল কাশেম নামে ৩জনকে আসামী করে জোরারগঞ্জ থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী জামাল উদ্দিন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন সে। এমতাজুল ইসলাম চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র।
জানা গেছে, ডেভলপার কোম্পানি ইন্টারনালের এমডি কে এম এমতাজুল ইসলামকে গত ২ জানুয়ারি জোরারগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ছাড়াও ব্যাংক ঋণ, ফ্ল্যাট, জায়গা, বাগান বিক্রয়সহ নানান ধরণের অভিযোগে চট্টগ্রাামসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে ৯১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গত ৩১ জানুয়ারি প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাজুল ইসলামকে আরো একটি সাজাপ্রাপ্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের ৩য় যুগ্ম-দায়রা জজ আদালতের বিচারক বিলকিস আকতার।
ভূক্তভোগী কাঠ ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, ডেভলপার কোম্পানি ইন্টারনালের এমডি কে এম এমতাজুল ইসলাম প্রকাশ রূপক পরিচয়সুত্রে আমাকে তাদের দক্ষিণ চট্টগ্রাম বনবিভাগ মৌজা কালিপুর এর বাগান থেকে কাঠ কেনার প্রস্তাব করে। আমি তাঁর প্রস্তাবে রাজি হই। পরে কাঠ ক্রয় করার জন্য এমতাজুলের ব্যাংক একাউন্ট ও তাঁর কথামত মামলার ২ নং আসামী আব্দুল আউয়াল ইমন ও ৩ নং আসামী আবুল কাশেমকে নগদ তিন কিস্তিতে ৩০ লক্ষ ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। টাকা পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর সে আমাকে ৬ লক্ষ টাকা মূল্যের কাঠ দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। এরপর আর কোন কাঠ দেয়নি। বাগানের সব কাঠ সে অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আমি টাকা চাইলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। ব্যবসার সব টাকা হারিয়ে এখন আমি অনেকটা নিঃস্ব।
জানা গেছে, শুধু জামাল উদ্দিন নয়, এভাবে প্রতিদিন ইন্টারনাল থেকে ফ্ল্যাট কেনা এবং সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করা শত শত ভুক্তভোগীরা আদালতের বারান্দায় প্রতিকারের আশায় ঘুরছেন।
এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সুজয় কুমার মজুমদার জানান, কাঠ ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের দায়ের করা প্রতারনা মামলায় বিজ্ঞ আদালত আসামী তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেয়। ওই মামলায় আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে একদিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। বিজ্ঞ আদালত তাকে (আসামী) জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে।



