ইসরায়েলি লিকুদ পার্টির এক নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের অভিযোগে গ্রেফতার বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এখনো জেলে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে তিনি। অবশ্য ওই সময় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিনে থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের এক মামলায় এখনো তার জামিন হয়নি।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে ইসরায়েলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেনদি এন সাফাদি ভারত সফর করেন।
সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেন সাফাদি। এতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে গ্রুপ ছবি তোলেন সবাই। ওই ছবিতে আসলাম চৌধুরীও ছিলেন। মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের খবর আসার পর থেকে বিএনপির এই নেতা নজরদারিতে ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ৭ মে তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে সতর্কবার্তা পাঠায় গোয়েন্দা সংস্থা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার পর গা ঢাকা দেন আসলাম চৌধুরী। এ ঘটনার কিছুদিন পর একই বছরের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারের পর ২৬ মে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রব্বানী। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সারা দেশে বিভিন্ন মামলায় তাকে কয়েকবার রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।
কারাগার থেকে তিনি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীও হয়েছিলেন। কিন্তু ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করলেও নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে আদালতে রায়ে প্রার্থীতা ফিরে পান।
আসলাম চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাছিমা আক্তার চৌধুরী বলেন, একজন মানুষ সব মামলায় জামিন পেয়ে যখন পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন বলে মানসিক প্রশান্তি খোঁজেন, ঠিক সেই সময় আরেকটি মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। একে একে ৮০টি মামলা দিয়ে আসলাম চৌধুরী ও তার পরিবারকে নিঃশেষ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।



