নিজস্ব প্রতিবেদক >>
চট্টগ্রামে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কমতে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ। চলতি মাসে করোনা সংক্রমণ আরও কমেছে। সংক্রমণ কমায় মৃত্যুও কমেছে। চট্টগ্রামে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৬ জনের। করোনা সংক্রমণ হার ২ শতাংশ। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন লকডাউন, গণটিকাদানের কারণে সংক্রমণ কমছে। এছাড়া করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ায় অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। সেকারণেও কমছে সংক্রমণ।
চিকিৎসকরা বলছেন টিকা নিলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসনকে নজরদারির কথা বলছেন অনেকেই। না হলে আবারও বাড়বে সংক্রমণ। ইতিমধ্যে বিনোদনকেন্দ্রসহ নানা পর্যটনস্পটে মানুষের ভিড় বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনেকের অনীহা দেখা গেছে। এছাড়া সামাজিক অনুষ্ঠান, বিয়েতে মানুষের লোকসমাগম বাড়ছে। গণপরিবহনে গাদাগাদি করে মানুষ চলাচল করছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়। আক্রান্তের হার ২ দশমিক ২ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রামের দশ ল্যাবে ১ হাজার ২৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নতুন ২৬ বাহকের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ২২ জন এবং তিন উপজেলার ৪ জন। ফলে এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১ হাজার ৫১৬ জনে দাঁড়ালো। সংক্রমিতদের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৭৩ হাজার ৫৪০ জন ও গ্রামের ২৭ হাজার ৯৭৬ জন।
গতকাল করোনায় নগরীতে ৩ জনের মৃত্যু হয়। জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৯ জন হয়েছে। এর মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৭১১ জন ও গ্রামের ৫৭৮ জন। করোনামুক্ত হয়েছেন ৮৬ জন। ফলে জেলায় মোট আরোগ্য লাভকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৮৬ হাজার ৫০৫ জনে।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৪৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে গ্রামের ২ জনসহ ৯ জনের রেজাল্ট পজিটিভ আসে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ১৮৫ জনের নমুনার মধ্যে শহরের ৪ ও গ্রামের ২ জন জীবাণুবাহক চিহ্নিত হন। ৯ জনের এন্টিজেন টেস্টে একজনও আক্রান্ত মিলেনি। জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল-এ পরীক্ষিত ৪ টি নমুনায় শহরের ১ টিতে ভাইরাসের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।
বেসরকারি ল্যাবরেটরির মধ্যে শেভরনে ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা হলে শহরের ৪ টি, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ১১৭ নমুনা পরীক্ষায় শহরের ৪ টি, মেডিকেল সেন্টারে ১০ টি নমুনায় শহরের একটি, এপিক হেলথ কেয়ারে ৩৪ নমুনার মধ্যে শহরের একটিতে ভাইরাস শনাক্ত হয়। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ৩৯ টি এবং ল্যাব এইডে ২ টি নমুনা পরীক্ষা করে একটিতে করোনার জীবাণু মিলেনি।



