বরিশাল নগরীর শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিমকে (৩০) গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার নিহতের বাবা ইউনুচ মুন্সি এই মামলা দায়ের করেন। পরে বেলা আড়াইটায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নেন।
মামলায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন মাহিকে প্রধান ও তার সঙ্গীয় দুই কনস্টেবলকে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে পুলিশের গঠন করা তদন্ত টিম সদস্যরা রেজাউল করিমের বাসায় গিয়েছেন তদন্ত করার জন্য।
এ ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন মাহিকে ক্লোজড করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ থেকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ খবর নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন খান।
তিনি জানান, প্রশাসনিক কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের তদন্ত চলায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
গত ২ জানুয়ারি শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে রেজাউল ইসলাম অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই মৃত্যু পুলিশের নির্যাতনে বলে রেজাউলের পরিবার ও এলাকাবাসী দাবি করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে অপমৃত্যু মামলা করা হলেও রেজাউলের বাবা ছেলে হত্যার বিচার পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা করেছেন।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। পুলিশের নির্যাতন ও হেফাজতে রেজাউলের মৃত্যু হয়েছে। তারা দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা করেছেন। আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
এদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান উপপুলিশ কমিশনার মো: মোক্তার হোসেন বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।



