সরকার দেশকে অস্থিতিশীল করার নতুন ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, `এই সরকার বাংলাদেশকে শেষ করে দিয়েছে, ধবংস করে দিয়েছে। এখন দেখেন নতুন করে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শনিবার কুষ্টিয়াতে আমাদের বিএনপির অফিস ভাংচুরের করে আবার সন্ধ্যার পরে আমাদের সাধারণ সম্পাদক তার যে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।’
‘এটা একটা গভীর চক্রান্তের নীল নকশার অংশ। বাংলাদেশে তারা আবার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, বাংলাদেশে তারা আজকে আবারো উদোর-পিন্ডি বুদোড় ঘাড়ে চাপিয়ে গণতন্ত্রের সৈনিকদেরকে তারা পিছনে ফেলে দিতে চায়, নির্যাতন করতে চায়। এখন এই সময়ে যত অপকর্ম এটা আপনারা ছাড়া কে করতে পারেন-আপনারাই করতে পারেন। সেটা আপনারা তৈরি করছেন আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্য।’
জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ‘স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি’ দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। নব্বইয়ে সালের ৬ ডিসেম্বর সামরিক শাসক এইচএম এরশাদ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করেন। এ দিনটিকে বিএনপি ‘স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে।
‘ডাক আসছে, তৈরি হতে হবে’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমাদের জাতিকে ত্রাণ করতে হবে, বের করে আনতে হবে। আমি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে একটা কথা বলতে চাই, আমাদের গ্রামের মানুষেরাও কিন্তু শক্তি হারায়নি, সাহস হারায়নি। আপনি গ্রামে যাবেন, তাদের জিজ্ঞাসা করবে। সবাই বলছে যে, কবে পরিবর্তন হবে, কবে ডাক আসবে?”
‘সেই ডাক আসছে। আমাদেরকে তৈরি হতে হবে।এই আবদ্ধ ঘরের মধ্যে নয়, উন্মুক্ত আকাশের মধ্যে, রাজপথে আমাদের বীর সৈনিকেরা যেভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন, যেভাবে সমস্ত অন্যায়কে পরাজিত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, অসুন্দরকে পরাজিত করে সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকে আমাদের তরুন জেনারেশনকে সেভাবে এগুতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী কারাগারে, আমাদের নেতা তিনি অনেক দূরে। আমরা সুভাগ্যবান যে, আমাদের নেতা(তারেক রহমান) দূরে থেকেও সারাক্ষন দলকে গড়ে তোলবার জন্য, দলকে সংগঠিত করবার জন্য কাজ করছেন। আর আমাদের নেত্রী এই নিরবে থেকেও, এই নিরবতায় আমাদেরকে শক্তি যোগাচ্ছে।’
‘আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে, তরুনরাই বদলায়, যুবকরাই বদলায়, সমাজ পরিবর্তন করে। আজকে মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন আপনাদেরকেই আনতে হবে। এই ৬ ডিসেম্বর আমাদের আমান উল্লাহ আমান সাহেবরা যে সাহস ও মেধা দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের তরুনরাও মেধা ও সাহস দিয়ে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করবেন।’



