শনিবার, ৯ মে ২০২৬

‘হয়রানি করা’ পুলিশ সদস্যদের তালিকা করতে বললেন আমীর খসরু

প্রকাশিত :

spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে আসার পথে যেসব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বাধা দিয়েছেন তাদের নামের তালিকা করতে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে গণসমাবেশ ঘিরে যেসব পুলিশ সদস্য বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হয়রানি করেছেন, তাদেরও নামের তালিকা করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রামের নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশ দেন তিনি। বুধবার নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে সার্বিক বিষয়ে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। এরপর বিএনপি নেতারা চট্টেশ্বরীর কসমোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান।

পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশকে চট্টগ্রামে এই সময়ে সবচেয়ে বড় সমাবেশ উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার জন্ম নিয়েছিল। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ গণবিরোধী শক্তি যারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, তারা এটাকে বাধাগ্রস্ত করার অব্যাহতভাবে চেষ্টা করেছে। সেজন্য দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের পক্ষ থেকে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, যারা সবকিছু উপেক্ষা করে গতকালের সমাবেশকে মহা মহাসমাবেশে পরিণত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম, এই মহাসমাবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের আন্দোলনে একটি মাইলফলক সৃষ্টি করবে। গতকালের এই মহাসমাবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বে সাড়া জেগেছে গতকাল।

আমীর খসরু বলেন, আমার নেত্রী গতকাল অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতি আমরা সবাই অনুভব করেছি। এর আগে ২০১২ সালে আমাদের নেত্রীর উপস্থিতিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠে সভা হয়েছিল। বিস্ময়ের বিষয়, অনেকের ধারণা বেগম খালেদা জিয়া যদি গতকাল সমাবেশে উপস্থিত থাকতেন, তাহলে সারা চট্টগ্রাম জনসভায় পরিণত হতো। যারা তিনটা, সোয়া তিনটার দিকে মিছিল নিয়ে এই সমাবেশে এসেছেন তারা কদমতলী অতিক্রম করতে পারেননি। ওদিকে টাইগারপাস ক্রস করতে পারেননি। সিআরবি জনসমুদ্র ছিল। রেললাইনের ওপরে জনগণের উপস্থিতি, এটা অবিশ্বাস্য। মাঠে যা লোক ছিল, মাঠের বাইরে তার চেয়ে বেশি লোক ছিল। অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয় মহাসমাবেশ চট্টগ্রামবাসী উপহার দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের সব নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কাল অসম্ভব গরম ছিল, এর মধ্যেও মিডিয়া যেভাবে তিনদিন ধরে কাভারেজ দিয়েছে, আমি দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, আরেকটা বিষয় যেটা বলা প্রয়োজন, এই যে রেজিম (এক প্রকার সরকার পরিবর্তন পদ্ধতি) ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যে সংস্কৃতি এই রেজিমের আছে সেটা যে আমরা প্রত্যাশা করিনি তা নয়। এদের রাজনীতি হচ্ছে বাধা দেওয়া। নিজেরা কিছু করতে পারে না, জনগণের কাছে যাওয়ার তো তাদের সুযোগ নেই, তারা তো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সুতরাং বাধাগ্রস্ত করেই তাদের ক্ষমতায় থাকতে হবে। গতকাল প্রতিফলন ঘটেছে সেটার, তার আগেরদিনও হয়েছে।

‘কিছু কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে রাতে রেইড করেছে, অনেককে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তীতে গতকাল আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী অনেক জায়গায় আক্রমণ চালিয়েছে। চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত করেছে, গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ বন্ধ করেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়েছে, আক্রমণ করেছে, গাড়ি ভাংচুর করেছে, আমাদের নেতাকর্মীদের অফিস ভাংচুর করেছে। বাধাগ্রস্ত করার জন্য যা যা করা দরকার তারা কিন্তু কোনোটাই বাদ রাখেনি।’

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, আমরা কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীদের বলেছিলাম, এদিক-সেদিক কর্ণপাত না করে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যান। যে ঢল চট্টগ্রামে নামবে কোনো বাধাবিপত্তি সেটা বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। মানুষ যদি সিদ্ধান্ত নেয়, দেশের জনগণ যদি সিদ্ধান্ত নেয়, কোনো শক্তি যে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না, গতকালের মহাসমাবেশ সেটা প্রমাণ করেছে। পুলিশের কিছু অংশ যারা বাধাগ্রস্ত করছে, বাড়িতে-বাড়িতে রেইড দিয়েছে, বাসগুলোতে বাধা দিয়েছে, ভয়ভীতি দেখিয়েছে, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই- বাংলাদেশের সংবিধানে সভা-সমিতিসহ যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, চাকরিতে ঢোকার সময় যে ওয়াদা করে তারা ঢুকেছিলেন, তারা যেন সেই ওয়াদাগুলো আবার পড়ে দেখেন। কারণ ওয়াদাগুলো তারা যদি পড়ে না দেখেন, একই কাজ করতে থাকেন, জনগণ সেটা মেনে নেবে না। সমস্ত পুলিশ বাহিনীর ওপর এ দায় এসে পড়বে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কিছু অতি উৎসাহী সদস্যের দায় পুরো পুলিশ বাহিনী কেন নেবে? র‌্যাবের কিছু সদস্যের কর্মকাণ্ডের জন্য র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলে এসেছে। ব্যক্তিগতভাবে এসেছে, প্রতিষ্ঠানের ওপর এসেছে। নিশ্চয় বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী চাইবে না, কিছু অতি উৎসাহী দলীয় আওয়ামী মার্কা সদস্যের দায় বহন করতে চাইবে না, যোগ করেন আমীর খসরু।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের তালিকা করছে। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এবং যারা এ কাজে থাকে, আমি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারাও তালিকা করেন এরা কারা, গতকাল যারা হামলা করেছে, আক্রমণ করেছে, আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করেছে, বাধাগ্রস্ত করেছে, আপনারাও তাদের তালিকা করুন। অতি উৎসাহী পুলিশ যারা দেশ, সংবিধান ও পুলিশের আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখছি। কারণ, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। এই যে মহাসমাবেশ হয়েছে, আমাকে একটি উদাহরণ দিতে পারবেন, বিএনপির একজন নেতাকর্মী উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছে কিংবা সহিংসতা করেছে। কেউ (উদাহরণ) দিতে পারবে না। আমাদের নেতাকর্মীদের যে ধৈর্য সেটাকে স্যালুট করতে হবে। তারা পূর্ণমাত্রার ধৈর্য রেখে এই মহাসমাবেশকে সফল করেছে। কিন্তু সহিংসতা এসেছে কাদের কাছ থেকে ? আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে। আমরা কোনোসময় সহিংস রাজনীতির দিকে যাবো না। এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। তারা দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে, আমরা দেশকে গণতন্ত্রের দিকে নিতে যেতে চাচ্ছি।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্বৈরাচারের যে এত শৃঙ্খল, এত বেড়া, সেই শৃঙ্খল ভেঙে চট্টগ্রামের জনগণ পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে উপস্থিত হয়েছে। কিন্তু এই শৃঙ্খল ভাঙতে গিয়ে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমাদের অনেক নেতাকর্মীর রক্ত ঝরেছে। অনেকে নিজের জীবন বিপন্ন করে এই সমাবেশকে সফল করেছেন।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া প্রকাশ্যে মাইকিং করে ঘোষণা দিয়েছেন, যারা বিএনপির সমাবেশে যাবে তাদের মিরসরাই ফিরতে দেওয়া হবে না। জাহাঙ্গীরের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে। অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের নামের তালিকা করা হবে। আমাদের ছাত্রদলের নেতা সাইফুলের পা কেটে ফেলতে হয়েছে, আমরা মামলা করেছি। আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে- যারা আমাদের গণতান্ত্রিক মিটিং-মিছিলে বিনা কারণে, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করবো। কোনো কারণ ছাড়া আমাদের নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে ভাংচুর করে, গণতান্ত্রিক মিছিল-সমাবেশে বাধা দেয়- আমরা এবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন প্রমুখ।

সর্বশেষ

মস্তান নগর ক্রীড়া সংঘের লং পিচ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত

মস্তান নগর ক্রীড়া সংঘের লং পিচ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত উক্ত খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত...

মিরসরাইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে নবনির্বাচিত এমপি নুরুল আমিনকে সংবর্ধনা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি মিরসরাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে নবনির্বাচিত সংসদ সংসদ নুরুল আমিনকে সংবর্ধনা, ইফতার ও...

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে বিএনপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই সংসদীয় আসনের নবনির্বাচিত এমপি নুরুল আমিন নির্দেশনায়, ৩ নং জোরারগঞ্জ...

মিরসরাইয়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ড বন্ধে এমপি নুরুল আমিনে কঠোর হুশিয়ারি

  নিজস্ব প্রতিনিধি মিরসরাই উপজেলায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ চোরাকারবার বন্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন নবনির্বাচিত...

আরও পড়ুন

মিরসরাইয়ে নীরিহ মানুষকে গ্রেফতার না করার অনুরোধ বিএনপি প্রার্থীর

  নিজস্ব প্রতিনিধি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন...

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বিএনপির দোয়া মাহফিল

মিরসরাই প্রতিনিধি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিরসরাইয়ে দোয়া...

যে নেতা নিজের ওয়ার্ডে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তার রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই: নুরুল আমিন 

    মিরসরাই প্রতিনিধি রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার মাধ্যম নয়; বরং জনগণের সেবা ও মানুষের...