বিশেষ প্রতিনিধি
করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, মিরসরাই উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত একটি নাম। শুধু মিরসরাই নয়, চট্টগ্রামের ইউপি চেয়ারম্যানদের আইডল বললে বেশি বলা হবে না। এই জনপ্রতিনিধি থেকে অন্যদের অনেক কিছু শেখার আছে। মানুষকে সহযে আপন করে নেয়া, মানুষের আপদে বিপদে নিজেকে উজাড় করে দেন তিনি। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালেও ব্যতিক্রম নন তিনি। ক্লান্তিহীন ছুটে চলছেন পথে প্রান্তরে। ভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে প্রথমে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ১২ হাজার মাস্ক, সাবান ও ২০ হাজার লিফলেট বিতরণ করেছেন। ব্লিচিং ফাউডার মিশিয়ে বিভিন্ন সড়কে স্পে ছিটিয়েছেন। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে সবাই যখন নিরাপদে ঘরে রয়েছেন ঠিক তখন তিনি করোনার ঝুঁকি নিয়ে পথে পান্তরে ছুটে চলছেন। সরকারি নির্দেশনায় করোনা প্রতিরোধে ঘরবন্দি শ্রমজীবি মানুষ যখন কর্মহীন, খেটে খাওয়া অসহায় দরিদ্র মানুষ যখন খাবারের কষ্ট করছেন তখন তিনি খাদ্যের ব্যবস্থা করছেন। এই পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

রোদ-বৃষ্টি অপেক্ষা করে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এনায়েত হোসেন নয়ন। করোনার প্রার্দুভাবে কর্মহীন মানুষ গুলোর পক্ষে সম্ভব হয়নি রমজানে সেহেরির খাবার আর ইফতার সামগ্রী কিনে রাখার। তখনি প্রচন্ড বৃষ্টি ও বজ্রপাত উপেক্ষা ট্রাক ভর্তি মুরগী আর খাদ্য সামগ্রী নিয়ে অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ছুটে গেলেন চেয়ারম্যান নয়ন।
সর্বশেষ করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিন অলিনগর গ্রামে বসবাসরত প্রায় ৬০০ পরিবারের মাঝে ১ টি করে মুরগী ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহীদ উল্লাহ, আজাদ উদ্দিন, ফেয়ার আহমদ মিন্টু ও আওয়ামীলীগ নেতা জহুরুল হক কোম্পানী।

জানা গেছে, সাবেক সফল মন্ত্রী, আওয়ামীলীগের প্রেসিড়িয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে ও তারুন্যের অহংকার আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেলের পরামর্শে তিনি এইসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অলিনগরের অবস্থিত আবাসন প্রকল্পটিসহ পুরো এলাকাটিতে অনেক পরিবার বসবাস করে থাকেন। সব মানুষই দিনমজুর। যা আয় করে তা দিয়ে চলে যায় দিন। অধিকাংশ পরিবারের উপার্জনম ব্যক্তিরা কেউ রাজমেন্ত্রী,কেউ কাঠমিস্ত্রী পেশায় নিয়োজিত আবার কেউ রিক্সচালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। প্রতিবছর রমজানের প্রথম সেহেরী আর ইফতারে থাকতো একটু বাড়তি আয়োজন। এই বছর করোনার প্রভাব আর কর্মহীন হয়ে থাকার ফলে অভাব, দুইটাই আঁকড়ে ধরেছে এখানে বসবাসরত মানুষগুলোকে।এসময় খাবার সামগ্রী পেয়ে আবেগেআল্পুত পরিবারগুলো। আবাসন প্রকল্পে বসবাসরত খালেদা বেগম জানান, করোনার প্রভাবে তার স্বামী বেকার এই দিকে পরিবারটিতে সদস্য সংখ্যা ৫জন। নয়ন চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগের ফলে সেহেরীর খাবার আর ইফতার সামগ্রী পেয়ে বেশ খুশি তারা।

রুবেল নামে একজন বললেন একইু কথা,ভাই বোন মিলিয়ে রুবেলের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬। বাবা রিক্সা চালাতো, সে নিয়োজিত ছিলো রাজমেস্ত্রী পেশায়। লকডাউন পরিস্থিতে কর্মহীন বাবা ছেলে দুইজনই।রমজানের আগের দিন এভাবে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে খুশি তারা। চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন,পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতে পরিবারগুলোর মাঝে হাসি ফুটাতে আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যতই বৃষ্টি হোক সন্ধ্যার আগে পরিবার গুলোর মাঝে স্ব শরীরে আমাকে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। কারণ মুরগী আর খাদ্যসামগ্রী পেলে প্রথম রমজানের সেহেরী তারা ভালো ভাবে করতে পারবে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো বলেন, গত দেড়মাসে ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি। খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রেখেছি। আমার প্রিয় নেতা সাবেক সফল মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে এবং তারুন্যের অহংকার মিরসরাই’র আগামীর কর্ণধার মাহবুব রহমান রুহেল ভাইয়ের পরামর্শে যতদিন বেঁচে থাকবো সাধারণ মানুষের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেবো ইনশাআল্লাহ।



