বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জে রাজনীতিতে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়ের বর্ণনা দিয়ে কোম্পানীগগেঞ্জর ইউএনও ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তার কার্যক্রমে বাধা প্রদান ও তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে বলেছেন যে তাদের কর্মকাণ্ডে পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে তার মান-সম্মানে আঘাত লেগেছে। তিনি বলেন যে আমি শুধু বলব, যারা এ সকল ঘটনা ও অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের বিচার জনতার আদালত এবং আল্লাহর আদালতে একদিন হবে ইনশাআল্লাহ।
সোমবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে কাদের মির্জা স্বাক্ষরিত বসুরহাট পৌরসভার প্যাডে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তার প্রেস বিজ্ঞপ্তটি পাঠকের জন্য উপস্থাপন করা হলো
আমি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অত্যন্ত দুঃখের সহিত জানাচ্ছি যে গতকাল (২৮ মার্চ) বিকাল ৩.০০ ঘটিকার সময় করোনাকালীন সময়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌর এলাকায় করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বিশেষ অবদান রাখায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সেলিম ও ৪ জন মাঠ পর্যায়ের কর্মীকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা যথাসময়ে পৌরসভা কার্যালয়ের সম্মুখে উপস্থিত হয়। কিন্তু পৌর কার্যালয়ের সম্মুখে ডিউটিরত পুলিশ ইন্সপেক্টর জনাব সামসুদ্দিন ও এডিশনাল এসপি জনাব শামীম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সেলিমকে পৌরসভা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। তৎক্ষনাৎ আমি ডাঃ সাহেবকে পৌরসভা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করি। আমার অনুরোধ উপেক্ষা করে ডাঃ মোঃ সেলিমকে প্রবেশ করতে দেয় নাই এবং উল্টো তারা আমাকে লাঞ্ছিত করে।
আজ সোমবার (২৯ মার্চ) আমার দলের গ্রেফতারকৃত ৩ জন কর্মীকে কোর্টে জামিন শুনানীতে উপস্থিত করার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাদেরকে কোর্টে হাজির করা হয়নি। বর্তমানে জেলে আমাদের ৯ জন নিরীহ নেতাকর্মী আছেন। তাদের উপর জেলে অনেক অত্যাচার করা হচ্ছে। তাদের আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় লোকজন দেখা করতে গেলে তাদেরকে দেখা করতে দেয় না। অথচ প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাদের পক্ষের গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের দেখতে গেলে তাদেরকে ভিআইপি হিসেবে দেখা করতে দেয়া হয়।
৯ মার্চ-এর সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে আমার ৫ জন নেতাকর্মী নোয়াখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিল। সিভিল সার্জন নোয়াখালীকে অনেক অনুরোধ করার পরও তাদের সুচিকিৎসা করা হয়নি। বর্তমানে তারা ঢাকা ও নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছে।
কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আমার নির্মিত আইসোলেশন সেন্টার ভেঙ্গে অস্ত্রধারীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে এবং তার উপজেলা চত্বরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের একত্র করে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয়ে হামলা চালায়। এই ইউএনও আমার দলের একজন সহ-সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন মির্জার কাছে কেন যান এবং একজন সাংবাদিককে বলেছেন, মির্জা তো দূরের কথা ওবায়দুল কাদেরের কথাও আমি শুনব না।
গতকাল পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ৩টি মোটর সাইকেল নিয়ে যায়। এর মধ্যে ১টির বৈধ কাগজপত্র ছিল ২টির বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কোম্পানীগঞ্জে চলাচলকারী মটরসাইকেলের মধ্যে প্রায় ৯০% অবৈধ। এ সকল অবৈধ মটর সাইকেল কোম্পানীগঞ্জ থানার সহযোগিতায় চলাচল করে। কোম্পানীগঞ্জের দুর্নীতিবাজ ওসি, মাদক সম্রাট দুর্নীতিবাজ ওসি (তদন্ত) এবং কোম্পানীগঞ্জ থানার গোলঘরের সালিশ বাণিজ্যের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া এসআই মাহফুজ কোম্পানীগঞ্জের সকল অপকর্মের সাথে জড়িত।
উপরোক্ত কারণসমূহে আমি পৌরসভার একজন নির্বাচিত মেয়র হিসেবে আমার সম্মানে আঘাত লেগেছে। আমি শুধু বলব, যারা এ সকল ঘটনা ও অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের বিচার জনতার আদালত এবং আল্লাহর আদালতে একদিন হবে ইনশাআল্লাহ।



