মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস : যাদের ঝুঁকি বেশি, চিকিৎসকরা যা বলছেন

প্রকাশিত :

spot_img

 

ভারতে প্রথম ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে এটি মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ঢাকায়ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগী শনাক্ত হয়েছে। এবার শনাক্ত হলো চট্টগ্রামে। এবার চট্টগ্রামে শনাক্ত হয়েছেনকরোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া এক নারী মিউকরমাইকোসিসে (ব্ল্যাক ফাঙ্গাস) আক্রান্ত হয়েছেন। সিটিস্ক্যান রিপোর্টের পর বায়োপসি রিপোর্টে ওই নারী ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। চিকিৎসকরা বলছেন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

করোনা পরিস্থিতিতে সম্প্রতি শঙ্কা বাড়িয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় মিউকরমাইকোসিস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা যে কেবলই করোনার কারণে হবে সেটা নিশ্চিত নয়। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আমাদের পরিবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পরিবেশে যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকে এসব ছত্রাক। মানুষ প্রতিনিয়তই মুখোমুখি হয় এসব ছত্রাকের। কিন্তু বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য এসব ছত্রাক ক্ষতিকর নয়। কারণ সুস্থ দেহে রয়েছে শক্তিশালী রোগ-প্রতিরোধী ব্যবস্থা।

তবে যাদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে বা যাদের ডায়াবেটিসের মতো ক্রনিক রোগ রয়েছে বা যেসব মানুষ রোগ-প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে দমিয়ে রাখে এমন চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে এই ছত্রাকের প্রভাব ভয়াবহ। তবে এটা খুব রেয়ার ডিজিজ আখ্যা দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে মৃত্যুঝুঁকি ৫০ শতাংশ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির কারণে এসব রোগীর কালো ছত্রাকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অনেক বেশি। এ রকম ঝোপ বুঝে কোপ মারার বৈশিষ্ট্যের কারণে কালো ছত্রাককে সুযোগসন্ধানী অণুজীবও বলা হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন কোভিড পরিস্থিতিতে যাদের স্টেরয়েড ব্যবহার করতে হয়, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম অথবা যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সত্যিকার অর্থেই বিপদের কারণ হতে পারে।

করোনার আগে থেকেই আমাদের আশেপাশের পরিবেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (মেডিকেল বায়োটেকনোলজি) ডা. মারুফুর রহমান অপুন জানান, এই ফাঙ্গাসের স্পোর বাতাসে, মাটিতে ও অন্যান্য জৈব পদার্থে থাকে। নিঃশ্বাসের মাধ্যম এটি মানুষের শরীরে ঢোকে। আমাদের অনেকেই হয়তো এভাবে এই ফাঙ্গাসের সংস্পর্শে এসেছি। কিন্তু কিছু হয়নি আমাদের, কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয় না।

তবে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (সিভিয়ার ইমিউনো সাপ্রেশন) খুবই দুর্বল তাদের এটা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত এবং অপরিমিত স্টেরয়েড সেবন করছেন তাদের জন্য এটা ঝুঁকিপূর্ণ’-বলেন তিনি।

সিডিসি কি বলছে

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বা সিডিসি বলছে, যেসব জায়গায় অনেক বেশি ধুলোবালি রয়েছে সেসব জায়গা এড়িয়ে চলা। যদি সেসব জায়গা এড়িয়ে চলা সম্ভব না হয়, তাহলে এন ৯৫ মাস্ক ব্যবহার করা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেসব স্থাপনা পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলোর সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। এসব জায়গা থেকে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।

শরীরের চামড়ায় যাতে কোনো ইনফেকশন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা। কোথাও কেটে গেলে কিংবা চামড়া উঠে গেলে সেটি যাতে ধুলো-ময়লার সংস্পর্শে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

রোগীকে অক্সিজেন দেবার সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

সিডিসি বলছে, এসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলেই যে মিউকোরমাইকোসিস সংক্রমণ এড়ানো যাবে সেটি এখনো পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। তবে সতর্কতার বিকল্প নেই।

যারা করোনায় সংক্রমিত হন, তাদের সুস্থ করতে স্টেরয়েড চিকিৎসার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণের যোগসূত্র রয়েছে। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের এই ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার ১২ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা দেয়।

ভারতের চিকিৎসকরা কি বলছেন

অপরিচ্ছন্নতা, কোভিড চিকিৎসায় স্টেরয়েডের ব্যবহারের মতো বেশ কয়েকটি কারণের কথা বলছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। কিন্তু ভারতের বাইরেও প্রায় একই পদ্ধতিতে কোভিডের চিকিৎসা হয়। তার পরেও অন্যত্র ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের তেমন বাড়াবাড়ি হচ্ছে না কেন?

নাক-কান-গলার চিকিৎসক বা ইএনটি চিরজিৎ দত্ত বলছেন, পরিবেশ একটা কারণ হতে পারে। ‘একটি সংক্রমণ কতটা বাড়বে, তা অনেক সময়েই নির্ভর করে পরিবেশের উপর। সেখানকার মাটি, এমনকি সেখানে কী ধরনের গাছপালা জন্মায়— সেগুলিও অনেক সময়েই একটি সংক্রমণের নির্ণায়কের কাজ করে

করোনা না হলে কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হতে পারে

ভারতের বেশ কয়েকটা রাজ্য এই রোগকে মহামারি বলে ঘোষণা করেছে ইতিমধ্যেই। মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই এই নিয়ে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যাদের করোনা হয়নি, তাদেরও কি এই রোগ হওয়া সম্ভব? চিকিৎসকদের মতে, সম্ভব। যে কোনও ব্যক্তির রক্তে শর্করা মাত্রা খুব বেশি থাকলে, তাকে সতর্ক হতে হবে।

নাক-কান-গলার চিকিৎসক অর্জুন দাশগুপ্ত এই বিষয়ে বললেন, ‘যে কোনও ডায়াবেটিক রোগীর যদি অন্য কোনও গুরুতর অসুখ হয়, তা হলে এই রোগ হওয়া সম্ভব। কোভিড হওয়ার আগেও আমি ৪ থেকে ৫ জন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগীর চিকিৎসা করেছিলাম। কিন্তু সেটা বহু আগে। এই রোগ তেমন দেখা যেত না। তবে কোভিড আসার পর থেকে দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের ঝুকি বেশি।’

চিকিৎসক ভি কে পল এ বিষয়ে জানিয়েছেন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস এবং অন্য কোনও গুরুতর রোগ একসঙ্গে হলে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। সেটা কোভিড হোক বা নিউমোনিয়া। ‘রক্তে শর্করার মাত্রা যদি ৭০০-৮০০ ছুঁয়ে যায়, তা হলে আমরা সেটাকে ডাক্তারি ভাষায় কিটোঅ্যাসিডোসিস বলে থাকি। সে রকম পরিস্থিতিতে বাচ্চা বা বড়, যে কোনও বয়সের মানুষের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হতে পারে। তার ওপর কোভিডের চিকিৎসায় প্রচুর পরিমাণে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হচ্ছে রোগীদের ওপর। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হওয়ার পিছনে সেটাও একটা বড় কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এক কথায় বলতে গেলে, কোভিড ছাড়াও এই রোগ হওয়া সম্ভব’ বললেন ভি কে পল।

সর্বশেষ

Casino Mallorca tragaperras: registro paso a paso y guía práctica

¿Qué es Casino Mallorca y por qué enfocarse en sus tragaperras?Registro paso a paso...

Best Non-GamStop Casinos in the UK

Best Non-GamStop Casinos in the UK ...

भारत में 1 X Bet – मोबाइल गेमिंग और उपयोगकर्ता अनुभव

भारत में 1 X Bet - मोबाइल गेमिंग और उपयोगकर्ता अनुभव ...

Mostbet लॉगिन – भारत में सुरक्षित अकाउंट एक्सेस और प्रबंधन

Mostbet लॉगिन - भारत में सुरक्षित अकाउंट एक्सेस और प्रबंधन ...

আরও পড়ুন

ঠান্ডাজনিত রোগে আড়াই মাসে ৯৯ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক সারাদেশে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত অসুখসহ শীতকালীন বিভিন্ন রোগ বেড়েছে। চলমান শীতঋতুতে ঠান্ডাজনিত...

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৩ নারীর মৃত্যু

  চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক দিনে নগরীর তিন নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন শিউলি...

বুস্টার ডোজ দিবস কাল : দেয়া হবে ৭৫ লাখ টিকা

  করোনা সংক্রমণ রোধে আগামীকাল দেশব্যাপী বুস্টার ডোজ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এক দিনে...