হালিশহর শান্তিবাগে শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির শাখা। যেখানে করোনা পরীক্ষার জন্য ভিড় করেন বিদেশগামী যাত্রীরা। ল্যাবটিতে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে ‘প্রতারণার ফাঁদে না পড়া’র সতর্কবার্তা। অথচ এ ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করতে আসা বিদেশগামীরা পান উড়ো ফোন। ফোনে কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট নেগেটিভ করতে টাকা খোঁজে একটি চক্র। আর এতেই বিপাকে পড়েন বিদেশগামীরা।
এ ঘটনা নিত্য ঘটছে শেভরনে। অবশ্য ল্যাব কর্তৃপক্ষ অন্যসব ল্যাবেও এমন ঘটনা ঘটে বলে জানায়। শেভরন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মহানগর নিউজের প্রতিবেদক খবর নেন ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল এবং মা ও শিশু হাসপাতালে। তবে এ দুইটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য থেকে শেভরন কর্তৃপক্ষের তথ্য মিথ্যা প্রতীয়মান হয়।
মো. হানিফ নামের এক দুবাইযাত্রী সম্প্রতি কোভিড টেস্ট করান। টেস্ট করার পর বিকাল ৩টায় তার কাছে কল করে ১৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তিনি এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি ফ্লাইটের টাকা নষ্ট না হওয়ার কথা জানিয়ে ফোন কলে দেওয়া বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠান। কথা অনুযায়ী, তার কাছে নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি তা নিয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোভিড পরীক্ষা করান। সেখানেও নেগেটিভ আসে। এরপর তিনি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোভিড পরীক্ষা করলে সেখানেও কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট পান।
সাইফুল ইসলাম নামে এক ভুক্তেভাগীর ভাই জানান, ‘শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বড়পোল চট্টগ্রাম শাখার যত দুর্নীতি। গত ১ ফেব্রুয়ারি সকালে আমার বড় ভাই (বিদেশযাত্রী) করোনা টেস্টের জন্য স্যাম্পল দিয়ে আসেন। ২৫০০ টাকা নিয়েছে। বিকাল ৩টায় ফোন আসে। বলে- আপনার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ। ১৫০০০ টাকা দিলে নেগেটিভ করে দিব। পরে বিকাশ নম্বর পাঠায়। টাকা দিলে রিপোর্ট দিবে। টাকা না দিলে রিপোর্ট পজেটিভ দিবে। পরে আমার ভাই টাকা পাঠালে রিপোর্ট দেয়। পরের দিন ঢাকা বিমানবন্দর পিসিআর ল্যাবে টেস্টে নেগেটিভ আসে। পরেরদিন দুবাই বিমান বন্দরেও নেগেটিভ আসে। এই হলো শেভরন ডায়গনস্টিক সেন্টারের দুর্নীতি।’
এ নিয়ে প্রবাসী মো. হানিফ বলেন, ‘শেভরনের কেউ যদি জড়িত না থাকে তাহলে বিদেশগামীদের ফোন নম্বর অন্যদের কাছে যাওয়ার কথা না। শেভরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশ্যই এর সাথে জড়িত। না হলে, তারা (প্রতারকচক্র) প্রবাসীদের ফোন নম্বর কিভাবে পায়! আর যেই জড়িত থাক না কেন, তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি খুঁজে বের করার দায়িত্ব শেভরন কর্তৃপক্ষেরও।’
জানা যায়, শেভরন কর্তৃপক্ষের পক্ষে মো. রাশেদুল হাসান গত বছরের ৩১ আগস্ট একটি সাধারণ ডায়রি করেন। ডায়রিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনটি দেশীয় সিম নম্বর ব্যবহার করে এক বা একাধিক প্রতারকচক্র দুইমাস ধরে টাকা দাবি করে প্রতারণা করছে। তবে এই চক্রকে খোঁজার ব্যাপারে শেভরন কর্তৃপক্ষের মাঝে বিশেষ কোনো তোড়জোড় পরিলক্ষিত হয়নি। সতর্কবার্তার ব্যানার ঝুলিয়েই তারা শেষ করেছে তাদের দায়িত্ব।
এ নিয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘শেভরন কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আমরা এখনও পাইনি। তারা যদি কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে অভিযোগ করে থাকে, তাহলে অভিযোগপত্রে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ না থাকায় তা মামলা হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’



