সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সরকার পতন পর্যন্ত ঢাকায় থাকার নির্দেশ

প্রকাশিত :

spot_img

 

 

রাজধানীতে এক দফার মহাসমাবেশে লাখো জনতার ঢল নামিয়ে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ঢাকায় অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সেই নির্বাচন হতেও দেয়া হবে না। মহাসমাবেশ থেকে আজ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রবেশমুখে ৫ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে ও দেশের বাইরে আপনাদের এখন আর কোনো সমর্থন নেই। সময় থাকতে পদত্যাগ করুন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্রকামী মানুষ ঘরে ফিরে যাবে না।’

মির্জা ফখরুল কর্মসূচি ঘোষণার আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অডিওতে ৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন। তিনি সমাবেশের জনসমুদ্রে সরকারের পদত্যাগে এক দফার আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ে প্রস্তুত রয়েছেন কি না হাত তুলে দেখানোর অনুরোধ জানালে পুরো সমাবেশস্থলের মানুষ হাত তুলে সমর্থন জানায়।

 

নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল বেলা ২টায় শুরু হয় মহাসমাবেশ, শেষ হয় সাড়ে ৬টায়। কার্যালয়ের সামনে ৯টি ট্রাককে উত্তরমুখী করে তৈরি করা হয় অস্থায়ী মঞ্চ। সমাবেশের ব্যানারে এক দিকে খালেদা জিয়া ও অন্য দিকে জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি রেখে লেখা হয়, ‘যুগপৎ ধারার বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের এক দফার মহাসমাবেশ’। মহাসমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় বেলা ২টায় জুমার নামাজের পরে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের শিল্পীরা গণসঙ্গীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে রাখেন।
সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। সাদা, নীল, লাল, সবুজ ও হলুদ টুপি মাথায় হাজার হাজার নেতাকর্মী মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে স্লোগান দেন ‘এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনা এখনই যাবি’, ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। মানুষের ভিড় ও চাপ বাড়তে থাকায় সকাল থেকেই নয়াপল্টনের দুই পাশের সড়কই যান চলাচল পুলিশ বন্ধ করে দেয়। সমাবেশ শুরুর পর দুই দফায় প্রবল বৃষ্টিতে ভিজেই সমাবেশস্থলে থাকেন নেতাকর্মীরা ।

এখনো সময় আছে পদত্যাগ করুন : মির্জা ফখরুল
সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারকে এখনো বলছি, যদি ভালো চান, দেশের মঙ্গল চান তাহলে এখনো সময় আছে আমাদের যে এক দফা দাবি তা মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন। তা না হলে ফয়সালা কোথায় হবে স্লোগান তুলেন বিএনপি মহাসচিব। এই সময় নেতাকর্মীরা সমস্বরে বলেন, ‘রাজপথে, রাজপথে’।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রশাসনকে বলতে চাই আপনারা এই ভয়াবহ একটা দলীয় সরকারের বেআইনি আদেশ-নির্দেশে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমরা জানি যে, আপনারা সবাই এ দেশের মঙ্গল চান, আপনারা এই দেশের কল্যাণ চান। আপনারা শপথ নিয়েছেন যে, এ দেশের স্বার্থে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করবেন। আমরাও আপনাদের কাছে সেটাই চাই। আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই সমাবেশ থেকে গ্রেফতার বন্ধ করুন, বেআইনি গ্রেফতার বন্ধ করুন, হয়রানি বন্ধ করুন এবং যারা কারাগারে আছে তাদের ছেড়ে দিন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তি এবং তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের ফরমায়েশি সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

কর্মসূচি ঘোষণার আগে মহাসমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন একটা বড় চমক আছে। অপেক্ষা করুন। সেই চমক হচ্ছে আপনাদের প্রিয় নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তিনি আজকে আপনাদের সামনে অডিওতে কথা বলবেন। এই সময়ে নেতাকর্মীরা তুমুল করতালি দিয়ে তার বক্তব্য শোনার সময় ছিলেন পিনপতন নিরবতায়। তারেক রহমানের বক্তব্যের পরে বিএনপি মহাসচিব শনিবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে ৫ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যুগপৎ ধারায় যে আন্দোলন করেছি সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্মসূচি ঘোষণা করছি। বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী, বর্তমান ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ এবং বিদ্যমান অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচনকালীন নির্বাচন গঠন করে অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা, বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি, তারেক রহমানসহ সব মিথ্যা গায়েবি মামলা প্রত্যাহার ও ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং সংবিধান, রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে ঢাকা মহানগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন হবে। তিনি বলেন, আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশা করব যে প্রশাসন এই কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। আমরা এটাও আশা করব, কালকে (আজ) যে ছুটির দিন আছে, সেই কারণে সব দলকে একসাথে রেখে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের এই কর্মসূচিটা পালন করব। প্রশাসন ও সরকার যাতে সহযোগিতা করে এই আশা আমি করছি।

আর কোনো অনুমতি নয় : মির্জা আব্বাস
মহাসমাবেশ আহ্বানের জন্য দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মহাসমাবেশের সভাপতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, পাখিরও বাসা আছে, পোঁকামাকড়েরও থাকার জায়গায় আছে। কিন্তু এই মহাসমাবেশে আসা আপনারা কোথায় খাওয়া-দাওয়া করেছেন আমি জানি না। কোথায় ছিলেন কেমন ছিলেন সেটাও দেখতে পাইনি। তবে আপনারা সাহসের পরিচয় দিয়েছেন এত নিপীড়ন-নির্যাতন-গ্রেফতারের পরও আপনারা এই মহাসমাবেশে এসেছেন এজন্য আপনাদের সাধুবাদ জানাই। আপনাদের হোটেলে থাকতে দেয়নি, গ্রেফতার করেছে, নির্যাতন করেছে। এসব করে কিছু লাভ হবে না। তিনি বলেন, এই সরকারের সময় শেষ। এদের কয়েকজন তল্পিবাহক যেভাবে সকাল-বিকেল প্রলাপ বকছেন, আবোল-তাবোল কথা বলছেন তাতে তাদের শেষ রক্ষা হবে না। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজপথে আন্দোলনে থাকার আহ্বান জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, পরবর্তী কোনো কর্মসূচির জন্য আমরা আর কোনো অনুমতি চাইব না। এবারো চাইনি, শুধু অবহিত করেছি।

ক্ষমতা না ছাড়লে ১৮ কোটি মানুষই মারা যাবে : গয়েশ্বর
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সম্পদ লুটেরা, ভূমিদস্যুরা আজ বলছে, আগামীতে দরকার শেখ হাসিনার সরকার। আর যারা গণতন্ত্রকামী, যাদের মাঝে দেশপ্রেম আছে তারা এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন, অনেকে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়লে লক্ষাধিক লোক মারা যাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতা না ছাড়লে তো দেশের ১৮ কোটি মানুষই মারা যাবে। অতএব, ক্ষমতা ছেড়ে জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন, নিজেরা মুক্তি পান, দেশ ও জাতিকে মুক্তি দেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, বিএনপি মানুষের দল। এখানে কোনো কুকুর নেই। সুতরাং অবিলম্বে জনগণের দাবি মেনে নেন। পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। গণতন্ত্রের পথে যাবেন, না গণতন্ত্রের পথের বাইরে যাবেন বেছে নেন। তিনি বলেন, চীন ও ভারত আপনাকে টাকা দিতে পারে। কিন্তু ভোট দেবে জনগণ। কারণ তারাই দেশের মালিক। সুতরাং দেশে হাসিনার চেয়ে খুনি ও বড় জঙ্গি কেউ নাই। সে চুরিতে এক্সপার্ট। ভোট ডাকাতিতে এক্সপার্ট। তিনি বলেন, যে দেশের আদালত প্রধানমন্ত্রীর হাতের মুঠোয়, যে দেশের প্রশাসন এক ব্যক্তির হাতে জিম্মি, যে দেশের গণতন্ত্র একজনের জন্য জিম্মি তা থেকে উদ্ধার হতে হলে প্রয়োজন রাজপথ। এই রাজপথ ছাড়া যাবে না। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সব শক্তির উৎস কর্মীরা। আপনারা আমাদের নতুন মুক্তিযোদ্ধা। আপনারা যারা ঢাকায় আছেন তারা ঢাকায়ই থাকবেন। এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরে যাবেন না।

দেশের মানুষ অনাস্থা দিয়েছে : ড. মঈন খান
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আওয়ামী লীগকে সারা দেশের মানুষ অনাস্থা দিয়েছে। এরা আমাদের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে অনেক বাধা দিয়েছে। কিন্তু ঠেকাতে পারে নাই। ঢাকায় যাতে আমরা সমাবেশ করতে না পারি সে জন্য অনেক ষড়যন্ত্র করেছে, কিন্তু জনগণের শক্তির কাছে তারা মাথা নত করেছে। তিনি বলেন, জনগণের রাজনীতির কাছে বাকশালী শক্তি কখনোই টিকতে পারে না। পুলিশ দিয়ে, জলকামান নিয়ে মানুষকে দমাতে পারবে না। এখনো সময় আছে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেন। অতীতেও আপনারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, টিকতে পারেন নাই। এবারো পারবেন না। দেশে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এটা আজ আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রত্যয়।

সরকারের অবস্থান দেশেও নেই, বিদেশেও নেই : আমীর খসরু
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আজকের এই মহাসমাবেশের পর এই অবৈধ সরকারের আর বৈধতা নেই। এ সরকারের অবস্থান দেশেও নেই, বিদেশেও নেই। এদের ডানে-বামে কেউ নেই। তিনি বলেন, আজ সারা পৃথিবী বাংলাদেশের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ১৩ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যান বলে দিয়েছেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়, তারা জাতিসঙ্ঘের অধীনে নির্বাচন চেয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাও একই কথা বলেছেন। কিন্তু সরকার বেহায়ার মতো ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এরা আবারো একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু এ দেশে তা আর হবে না, বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই মুহূর্তে এখানে (নয়া পল্টন এলাকায়) ইন্টারনেট নাই। বিএনপির যখন সমাবেশ হয় তখন ইন্টারনেট থাকে না। যারা এই ইন্টারনেট বন্ধের পেছনে কাজ করছেন তারা ভোট চোরদের দালাল হিসেবে কাজ করছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ভোট চোরের দালালরা সাবধান হয়ে যান। আপনারা ভোট চোরের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছেন, আপনারা ভোট চুরির প্রকল্পে কাজ করছেন। সাবধান, সাবধান। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা জাতীয় বেইমান হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবেন।
তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে আমরা জেল থেকে মুক্ত করব, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনব, তবে কারো দয়ায় নয়। জনগণ মুক্ত করে আনবে। আগামীতে ঝড় তুফান, সব বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটানো হবে।

এবার সফল হবোই : নজরুল ইসলাম খান
বৃষ্টিতে ভিজে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এই প্রবল বৃষ্টির মধ্যে নেতাকর্মীরা আজ মহাসমাবেশে যোগ দিয়েছেন। আমরা এবার সফল হবোই।

বিশ্ববিবেক জেগে উঠেছে : রিজভী
বিশ্ববিবেক আজ আওয়ামী লীগের অবিচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ১৩ জন কংগ্রেসম্যান গণতন্ত্রহীনতার অভিযোগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্যাংশনের কথা বলেছেন। এটি দেশ ও জাতির জন্য লজ্জার। আজ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে গোটা জাতি এক হয়েছে। রিজভী বলেন, অনেক বাধা দিয়েছে। রাজধানীর সব প্রবেশপথে নেতাকর্মীদের মহাসমাবেশে আসতে বাধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনস্রোত ঠেকাতে পারেননি। পারবেন না। পদ্মা মেঘনা যমুনার ঢেউয়ের মানুষ এসেছে। তিনি বলেন, সরকার দেশকে শেষ করে দিচ্ছে। আজ দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। এ সরকারকে বিদায় না করতে পারলে দেশের সার্বভৌমত্ব থাকবে না।

মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সঞ্চালনায় মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদিন ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হারুনুর রশীদ, আবদুস সালাম আজাদ, মাহবুবে রহমান শামীম, আসাদুল হাবিব দুলু, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, মোস্তাক মিয়া, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানি, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, মহানগর উত্তরের আমিনুল হক, দক্ষিণের তানভীর আহমেদ রবিন প্রমুখ।

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ‘এক দফা’ দাবিতে বিএনপিসহ সমমনা জোট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঢাকায় বিকেলে যুগপৎভাবে আলাদা আলাদাভাবে এই মহাসমাবেশ-সমাবেশ করেছে।
গত ১২ জুলাই শুরু হওয়া এক দফার আন্দোলনের এটি দ্বিতীয় কর্মসূচি। এর আগে ১৮ ও ১৯ জুলাই সারা দেশে মহানগর ও জেলায় পদযাত্রা করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

সর্বশেষ

মস্তান নগর ক্রীড়া সংঘের লং পিচ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত

মস্তান নগর ক্রীড়া সংঘের লং পিচ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত উক্ত খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত...

মিরসরাইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে নবনির্বাচিত এমপি নুরুল আমিনকে সংবর্ধনা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি মিরসরাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে নবনির্বাচিত সংসদ সংসদ নুরুল আমিনকে সংবর্ধনা, ইফতার ও...

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে বিএনপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই সংসদীয় আসনের নবনির্বাচিত এমপি নুরুল আমিন নির্দেশনায়, ৩ নং জোরারগঞ্জ...

মিরসরাইয়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ড বন্ধে এমপি নুরুল আমিনে কঠোর হুশিয়ারি

  নিজস্ব প্রতিনিধি মিরসরাই উপজেলায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ চোরাকারবার বন্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন নবনির্বাচিত...

আরও পড়ুন

মিরসরাইয়ে নীরিহ মানুষকে গ্রেফতার না করার অনুরোধ বিএনপি প্রার্থীর

  নিজস্ব প্রতিনিধি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন...

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বিএনপির দোয়া মাহফিল

মিরসরাই প্রতিনিধি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিরসরাইয়ে দোয়া...

যে নেতা নিজের ওয়ার্ডে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তার রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই: নুরুল আমিন 

    মিরসরাই প্রতিনিধি রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার মাধ্যম নয়; বরং জনগণের সেবা ও মানুষের...