শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

হেরার আলো..

প্রকাশিত :

spot_img

পবিত্র আল কুরআনের পরিচয়ঃ
আভিধানিক অর্থ : আল-কুরআন ((اَلْقُرْانُ শব্দটি আরবি, যা قَرْأٌ কিংবা قَرْنٌ শব্দ থেকে উৎপন্ন। قَرْأٌ (পড়া) শব্দ থেকে আসলে قُرْاَنُ শব্দের অর্থ হয় অধিক পঠিত।আর قَرْنٌ (মিলিত থাকা) শব্দ থেকে আসলে قُرْاٰنُ শব্দের অর্থ হয়;পরিপূর্ণভাবে মিলিত ও সংযুক্ত।যেহেতু কুরআন মাজিদ সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ এবং এর আয়াত অর্থ ও বিষয়বস্তুর মাঝে পরিপূর্ণ মিল রয়েছে,তাই এর নাম اَلْقُرْاٰنُ।

কুরআনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নামঃ-
১/আল হুদা তথা পথপ্রদর্শক,
২/আল কিতাব তথা গ্রন্থ,
৩/আল ফুরকান তথা প্রার্থক্যকারী,
৪/আন নুর তথা আলো,
৫/আল কালাম তথা কথা বা বাণী,
৬/আল হিকমাহ তথা বিজ্ঞান,
৭/বুশরা তথা সু-সংবাদ,
৮/আল হাক্ব তথা মহাসত্য,
৯/আল ওহিয়্যু তথা প্রত্যাদেশ,
১০/আশ শিফাউ তথা রোগ উপশমকারী,
১১/আজ জিকর তথা উপদেশ।

পারিভাষিক পরিচয়ঃ
মানব জাতীর হেদায়াতের জন্য আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেস্তা হযরত জিবরাঈলের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মৌখিক নাযিল ও তা গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করা পবিত্র আসমানী কিতাবকে বুঝায়।আল্লাহ বলেন,এটা লোকদের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং আল্লাহ ভীরুদের জন্য পথপ্রদর্শক ও উপদেশ।
(সুরা আলে ইমরান আয়াত নং ১৩৮)

রাসুল (সাঃ)এর উপর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের আলোকে নবুয়তের দীর্ঘ ২৩বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কুরআন নাজিল হয়।সর্বপ্রথম কুরআনের সূরা আলাক্ব এর প্রথম পাঁচটি আয়াত নবী মুহাম্মাদকে পাঠ করান।

আল কুরআনের আয়াতের প্রকারভেদ
অর্থের দিক থেকে আয়াত ২প্রকারঃ-
১/মুহ্কামাত
২/মুতাশাবিহাত
হুকুমের দিক থেকে আয়াত ৩প্রকারঃ-
১/হালাল
২/হারাম
৩/আমছাল।

হেরার আলো
কুরআন সঙ্কলনের ইতিহাসঃ-
রাসূল সাঃ এর যুগ,
১./মুখস্থ করার মাধ্যমেঃহাফেজে কুরআনগণের মধ্যে প্রধানত ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, সালেম ইবনে মাকাল,মুয়ায ইবনে জাবাল,উবাই ইবনে কা’ব,যায়েদ বিন সাবিত, আবু যায়েদ, আবুদ দারদা “প্রমুখ।
২/লেখার মাধ্যমে :কাতেবে ওহিগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন আলী ইবনে আবু তালিব,মুয়াজ ইবনে জাবাল,উবাই ইবনে কা’ব,যায়েদ বিন সাবিত ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ “প্রমুখ।তারা পাথর,খেজুরের ডাল, চামড়া ইত্যাদির ওপর কুরআনের আয়াতসমূহ লিখে সংরক্ষণ করতেন।

হযরত আবু বকর (রা) এর যুগঃ-
ভন্ডনবী মুসায়লামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে সংঘটিত ইয়ামামার যুদ্ধে অসংখ্য হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করেন।এতে কুরআন বিলুপ্তির আশঙ্কায় হযরত ওমরের ” পরামর্শক্রমে খলিফা আবু বকর “হযরত যায়েদ বিন সাবিতের নেতৃত্বে কুরআন সঙ্কলন বোর্ড গঠন করেন।এ বোর্ডের সদস্যগণ কঠোর সাধনা করে আল-কুরআনের লিখিত বিভিন্ন অংশকে হাফেজে কুরআনের সাথে সমন্বয় করে একত্র করেন।যার নাম রাখা হয় মাসহাফে সিদ্দিকী। হযরত আবু বকরের ” মৃত্যুর পর এ কপিটি হযরত ওমরের কাছে এবং তাঁর ইন্তিকালের পর হযরত হাফসা “একে সংরক্ষনে রাখেন।
হযরত উসমান (রা) এর যুগঃ-
হযরত ওমর (রা) ও উসমান (রা) এর খেলাফতকালে ইসলামী রাষ্ট্রের বিস্তৃতি ঘটায় আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকেরা কুরআন মাজীদকে তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় পাঠ করতে থাকেন।এতে কুরআনের বিকৃতির আশঙ্কায় হযরত উসমান (রা) আল-কুরআনের বিকৃত অংশগুলো সংগ্রহ করে পুড়িয়ে দেন এবং মাসহাফে সিদ্দিকী এর অনুরূপ সাতটি কপি করে বিভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে দেন।আজ পর্যন্ত কুরআন মাজীদ সে অবয়বেই বিদ্যমান।এর মধ্যে কোনরূপ পরিবর্তন,পরিবর্ধন হয় নি।যার জন্কে আজও জামিউল কুরআন বা কুরআন সংরক্ষণকারী বলা হয়।

আর বর্তমানে পুরো বিশ্বে তার লিপিবদ্ধ করা কুরআন প্রচলিত রয়েছে।অধ্যাপক ফ্রান্সিস এডওয়ার্ড পিটার্স এর তথ্যমতে,কুরআন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে,ভুলভ্রান্তি যোগ না হওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত রক্ষণশীলতা ও সর্বাধিক সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
আল মানার গ্রন্থকার বলেন,কুরআন হচ্ছে সে গ্রন্থ যা রাসুল (সাঃ) এর উপর অবতীর্ণ যাকে মাসহাফ সমূহে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং সন্দেহমুক্ত প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে রাসুল থেকে বর্ণিত হয়েছে।

কুরআনের আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্যঃ আল-কুরআনের আলোচ্য বিষয় হল মানবজাতি। কেননা মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণ ও অকল্যাণের সঠিক পরিচয়ই আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল-কুরআনের উদ্দেশ্য হল মানবজাতিকে আল্লাহপ্রদত্ত জীবনব্যবস্থার দিকে পথপ্রদর্শন, যাতে দুনিয়াতে নিজের জীবনকে কল্যাণময় করতে পারে এবং পরকালেও শান্তিময় জীবনের অধিকারী হতে পারে।

কুরআন ঐশী গ্রন্থ হওয়ার অকাট্য প্রমাণঃ
কুরআন যে আল্লাহ তায়ালারই বাণী এবং এটি মানুষের পক্ষে তৈরি করা আদৌ সম্ভব নয়।এর অসংখ্য প্রমাণ স্বয়ংকুরআনেই আছে।
যথা,কয়েকটি প্রমাণ নিম্নরূপ,

১/কুরআনের ভাষাগত ও সাহিত্যিক মান।
২/কুরআনের আলোচ্য বিষয়সমূহ।
৩/প্রাগৈতিহাসিক ঘটনাবলির যথাযথ বর্ণনা।
৪/ভবিষ্যৎ ঘটনাবলি সম্পর্কে নির্ভুল সংবাদ দান।
৫/মানব জীবনের জন্য সুদূরপ্রসারী মৌলিক ব্যবস্থা দান।
৬/বিশ্বলোক ও ঊর্ধ্বজগৎ সম্পর্কে নির্ভুল তথ্যভিত্তিক বর্ণনা।
৭/কুরআনের অভিনব হেফাজত ব্যবস্থা।
৮/কুরআনের ভাষা ও সকল বিষয়ের মধ্য আশ্চর্যজনক সামঞ্জস্য।

প্রকারভেদ ও বৈশিষ্টঃ
কুরআনের সুরাসমূহকে ২ভাগে ভাগ করা হয়েছে
১/মাক্কি সুরা
২/মাদানী সুরা
মাক্কি সুরাঃ যে সমস্ত সুরা রাসুল সাঃ এর মাক্কি হিজরতের পূর্বে নাজিল হয়েছে ।
মাদানী সুরাঃ যে সমস্ত সুরা রাসুল সাঃ এর মাদানি জীবনে অর্থাৎ হিজরতের পরে নাজিল হয়েছে।
মাক্কি সূরার বৈশিষ্ট
১/সাধারণত সুরা ও আয়াতগুলো ছোট ছোট ও ছন্দময়।
২/তাওহিদ,রিসালাত ও আখিরাত সংক্রান্ত আলোচনা।
৩/অধিকাংশ ক্ষেত্রে يَا اَيُّهَا اَلنَّاسُ (হে মানবজাতি) বলে সম্বোধন।
৪/মাক্কি সুরা ব্যক্তিগঠনে হিদায়াতপূর্ণ
৫/কুরআন সত্যতার প্রমাণ ও ঈমান আকিদার আলোচনা।
৬/মানুষের ঘুমন্ত বিবেক ও নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করে চিন্তাশক্তিকে সত্য গ্রহণে উদ্ধুদ্ধ করা।
৭/ভবিষ্যতকালিন ক্রিয়ার শুরুতে س ও سوف শব্দের ব্যবহার বেশি।
মাদানী সুরার বৈশিষ্ট্যঃ-
১/সাধারণত সুরা ও আয়াতগুলো বড় ও গদ্যময়।
২/অধিকাংশ ক্ষেত্রে يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا (হে ঈমানদারগণ) বলে সম্বোধন।
৩/সামাজিক বিধি বিধান,ফৌজদারি আইন,উত্তরাধিকারী আইন,বিয়ে তালাক ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা।
৪/যুদ্ধ,সন্ধি,গনিমত,কর ইত্যাদির বিবরণ।
৫/ইবাদত,আহকামে শরিয়ত ও হালাল-হারামের বর্ণনা
৬/মুনাফিক ও কাফিরদের সাথে আচরণ সংক্রান্ত আলোচনা।
৭/জাকাত ও ওশরের নিয়ম কানুন আলোচনা।

আমরা মানুষেরা এক জীবনের সব পর্বে সফলতার জন্য যা চাই তার সবই সাজানো রয়েছে একটা গাইড লাইনে যার নাম কুরআন।সুস্থ, সুন্দর,সুখী ও পরিতৃপ্ত জীবনের জন্য যা প্রয়োজন কুরআনের পাতায় পাতায় রয়েছে তারই নির্দেশনা।
ব্যক্তি,পরিবার,ভালোবাসা,হাসি,কান্না,সুখ,দুঃখ,সমাজ,দেশ,রাজনীতি,খাওয়া দাওয়া,শিক্ষা,চিকিৎসা,বাসস্থান এসব মিলিয়ে আমাদের জীবন।তাই সমস্যা শরীরের হোক বা মনের,যৌবিক চাহিদা হোক বা অর্থনৈতিক জটিলতা,পণ্যের আসক্তি হোক বা প্রবৃত্তির দাসত্ব,ব্যক্তির অসততা হোক বা সামাজিক অবিচার,পার্থিব সুখ হোক বা পরকালীন পরিত্রাণ,সবই একই সূত্রে গাঁথা।একটাকে আরেকটা থেকে আলাদা করা যায় না,আর কুরআন এসব চিরায়ত সত্যগুলোকে প্রকাশ করেছে সুস্পষ্টভাবে।
আসল সমস্যা হলো আমরা যারা মুসলমান বা খুবই সচেতন মুসলমান বলে নিজেকে দাবী করি অথবা মানুষ যাদেরকে খুবই সচেতন মুসলমান মনে করে
তারা আসলেই ব্যক্তি জীবন,লেনদেন,উঠা বসা,পারিবারিকসহ সকল কিছুতে কুরআনকে মোটেও অনুসরণ করি না?হয় তো সমসাময়িক জাহেলিয়াতে ভরা এই সমাজে পুরোপুরি কুরআনকে মানতে পারছি না কিন্তু চেষ্টাই বা কতটুকু করছি!আশা করি আমরা আমাদের পরিচয় ও অতীত ইতিহাসকে মূল্যায়ন করতে পারলে আবার সফলতা ও বিজয় আমাদের কড়া নাড়বে।
মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সংস্পর্শে এসে জাহেলী
যুগের লোকেরা তাদের পিতৃপুরুষের হাজার বছরের কুসংস্কার পৌত্তলিকাতার বৃত্ত ভেঙ্গে লাভ করে মুক্ত বিশ্বাস ও সঠিক জীবনদৃষ্টি।এরপর নিজের ও মানুষের মুক্তির জন্য কোন ত্যাগ বা সংগ্রামে তারা পিছপা হয় নি।

অবিদ্যা,হিংসা,সন্ত্রাস,রক্তপাত,জুলুম শোষন নারী নির্যাতন তথা কন্যা সন্তানকে জীবন্ত মাটি চাপা দেওয়ার মত বর্বরতায় নিমজ্জিত মানুষগুলো কুরআন তথা ইসলামের ছায়ায় এসে পরিনত হয়েছিল সত্য ও ন্যায়ের মূর্ত প্রতীকে।

প্রথম আয়াত নাজিল হওয়ার ৫০বছরের মধ্যে কুরআনের অনুসারীরা তদানীন্তন পরাশক্তি রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যবাদকে নিশ্চিহ্ন করে পরিনত হয় এক দূর্দমনীয় আদর্শিক জাতিসত্তায়।

ওমরের ইসলাম গ্রহন কুরআনেরই মুজেযাঃ-
রাসুল (সাঃ) যখন নবুয়ত লাভ করেন,তখন হযরত ওমরের (রা) বয়স ছিল সাতাশ বছর।ইসলাম খুবই দ্রুত গতিতে তার পরিবারে ছড়িয়ে পরে,ওমরের ভগ্নিপতি সাঈদ প্রথমেই ইসলাম গ্রহন করেন।তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তার বোন ফাতেমাও মুসলমান হয়ে যান।ওমর (রা) এর পরিবারে আরো এক প্রভাবশালী ব্যক্তি নঈম বিন আবদুল্লাহও ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেন।প্রথম প্রথম তিনি জানতেই পারেননি যে,ওমরের পরিবারে এইভাবে ইসলামের বিস্তার ঘটছে।যখনই জানতে পারলেন,ক্রোধে অধীর এবং ইসলাম গ্রহণকারীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন।ওমরের পরিবারের এক দাসী লুবাইনাকে ইসলাম গ্রহন করার কারনে তিনি পেটাতে পেটাতে ক্লান্ত হয়ে যেতেন।বিশ্রাম নিয়ে নতুন উদ্যোগে আবার পেটাতেন।

শেষ পর্যন্ত একদিন সবচেয়ে ভয়ংকর সিদ্ধান্তটাই নিয়ে ফেললেন।সেটি হলো,এই আন্দোলনের মূল আহ্বায়ককেই খতম করে ফেলতে হবে।বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়,এই সময় আবু জাহেল রাসুল (সাঃ) কে যে হত্যা করতে পারবে তাকে দু’শো উট পুরষ্কার দেয়ার কথা ঘোষনা করে রেখেছিল এবং সেই পুরষ্কার পাওয়াই ছিল এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য।কিন্তু হযরত ওমরের (রা) মেজাজের সাথে এই ধরনের লোভের শিকার হওয়াটা বেমানান।মনে হয়,তিনি এ কাজটাকে একটা পৈত্রিক ধর্মের সেবা মনে করেই করতে চেয়েছিলেন।যাই হোক,তিনি তলোয়ার নিয়ে রওনা দিলেন।পথিমধ্যে নঈম বিন আবদুল্লাহর সাথে সাক্ষাত হওয়ায় বাধা পেলেন।নঈম বললেন,‘আগে নিজের বোন ভগ্নিপতির খোঁজ নাও,তারপর আর যেখানে যেতে চাও যেও’।ওমর রাঃ তৎক্ষণাৎ ফিরলেন এবং বোনের বাড়ী অভিমুখে চললেন।সেখানে যখন পৌঁছলেন,তখন বোন ফাতেমা কোরআন পড়ছিলেন।পায়ের শব্দ কানে আসা মাত্রই চুপ করে গেলেন এবং কোরআনের পাতা গুলো লুকিয়ে ফেললেন।হযরত ওমর (রাঃ) ঘরে ঢুকেই জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি পড়ছিলে?বোন নিরুত্তর রইলেন।ওমর (রাঃ) বললেন আমি জেনে ফেলেছি, তোমরা উভয়ই ধর্মত্যাগী হয়েছ।তবে দেখাচ্ছি মজা। এই বলে ভগ্নিপতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন।বোন স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও পিটালেন। বোনের দেহ রক্তাক্ত হয়ে গেল।কিন্তু অশ্রুভরা চোখে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দৃপ্ত কন্ঠে ফাতেমা বললেন,‘ওমর!যা ইচ্ছে করতে পার।কিন্তু আমাদের পক্ষে ইসলাম ত্যাগ করা সম্ভব নয়।’

ক্ষতবিক্ষত দেহ,রক্তাক্ত পোশাক পরিচ্ছদ,চোখ ভরা অশ্রু ও আবেগভরা মন নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক নারী।শুধু নারী নয়-সহোদরা বোন।আর তার মুখে এমন তেজোদীপ্ত কথা!ভেবে দেখুন,অবলা নারীর মধ্যেও ইসলাম কেমন নতুন প্রেরনা সঞ্চারিত করেছিল।এহেন মর্মস্পর্শী দৃশ্যের সামনে ওমরের দুর্ধর্ষ শক্তিও হার মানলো।তার ইস্পাত কঠিন সংকল্পের বজ্র আঁটুনি মাঝপথেই ফস্কা গিরোয় পরিনত হলো। বললেন,‘আচ্ছা তোমরা যা পড়ছিলে,আমাকে একটু শোনাও তো।’ফাতেমা গিয়ে কোরআনের লুকিয়ে রাখা পাতাগুলো নিয়ে এলেন।পড়তে পড়তে যখন একটা কথা সামনে এলো,অমনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন ‘আশহাদু আল-লাইলাহা ইলাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।’ঈমান আনার পর ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্র হযরত আরকামের বাড়ী অভিমুখে রওনা হলেন।সেখানে গিয়ে রসূল সাঃ এর হাতে বায়য়াত করলেন।এই ঘটনায় সেখানে উপস্থিত মুসলমানগণ আনন্দের আতিশয্যে এমন জোরে “আল্লাহু আকবার”ধ্বনি দিলেন যে,মক্কার গোটা পরিবেশ গুঞ্জরিত হয়ে উঠলো।ইসলামী আন্দোলনের পতাকাবাহীরা সেখান থেকে বেরুলেন এবং সমগ্র মক্কা নগরীতে ছড়িয়ে পড়লেন।তারা অনুভব করলেন যে তাদের শক্তি বেড়ে গেছে।হযরত ওমরের (রাঃ) ঈমান আনার অব্যবহিত পর থেকেই কাবা শরীফে সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে জামায়াতে নামাজ পড়া শুরু হলো।

হযরত ওমর (রাঃ) মক্কার যুবকদের মধ্যে স্বীয় মেধা ও আবেগ উদ্দীপনার জন্য বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।তার আচার ব্যবহার ছিল আন্তরিকতা ও নিষ্ঠায় পরিপূর্ণ।জাহেলিয়াতের যুগে তিনি ইসলামের সাথে যে শত্রুতা পোষণ করতেন,তাও কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ দ্বারা তাড়িত হয়ে নয় বরং ওটাকে ন্যায়সঙ্গত মনে করে আন্তরিকতার সাথেই করতেন।তারপর যখন প্রকৃত সত্য তাঁর কাছে উদঘাটিত হলো এবং বিবেকের উপর থেকে পর্দা সরে গেলো,তখন পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে ইসলামের পতাকা উঁচু করে তুলে ধরলেন।বিরোধিতা করার সময় তার ধরন যদিও অতিমাত্রায় উগ্র ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল,কিন্তু তার প্রখর মেধা ও নির্মল বিবেক সবসময়ই একটু একটু করে সত্যের আলো গ্রহন করেছে।মক্কার পরিবেশে সংঘটিত প্রতিটি ঘটনা তাঁর অন্তরাত্মাকে প্রভাবিত,আলোড়িত ও ইসলাম গ্রহনের জন্য প্রস্তুত করতে থাকে।একদিকে ইসলামের দাওয়াতের খবরাখবর প্রতিনিয়ত কানে আসতে থাকে।অপরদিকে এর বিরোধীদের হীন মানসিকতাও তার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। তারপর একদিকে তিনি রাসুল (সাঃ) ও তার সাথীদের নির্মল ও সৎ চরিত্র এবং অন্যদিকে ইসলাম বিরোধীদের চরিত্রের কলুষিত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকগুলো প্রত্যক্ষ করতে থাকেন।প্রতিনিয়ত এই তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ মক্কার সচেতন ও জাগ্রত বিবেকের অধিকারী এই যুবককে ক্রমাগত প্রভাবিত ও আলোড়িত করতে থাকে।তবে পরিস্থিতির এই দুটো পরস্পর বিরোধী সাধারন দৃশ্য ছাড়াও কয়েকটা বিশেষ ঘটনাও তাঁর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

উদাহরন স্বরূপ,উম্মে আবদুল্লাহ বিনতে আবি হাশমা আবিসিনিয়ায় হিজরত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।এসময় একদিন হযরত ওমর তাদের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘উম্মে আবদুল্লাহ,মনে হচ্ছে মক্কা ছেড়ে কোথাও চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন’।উম্মে আবদুল্লাহ বললেন,‘হা, তাই যাচ্ছি।তোমরা আমাদেরকে অনেক কষ্ট দিয়েছ এবং আমাদের উপর অনেক নির্যাতন চালিয়েছ। এখন আল্লাহ আমাদেরকে বাঁচার জন্য একটা পথ খুলে দিয়েছেন।ওমর বললেনঃআল্লাহ আপনাদের সাথী হোন।উম্মে আবদুল্লাহ বলেন, ঐ সময় ওমর কে যেরূপ দুঃখভারাক্রান্ত দেখাচ্ছিল, তেমন আমি আর কখনো দেখিনি।আমাদের দেশান্তরী হওয়ার প্রস্তুতি দেখে তিনি গভীর মর্মবেদনা অনুভব করেন।উম্মে আবদুল্লাহ তাঁর স্বামী আমের বিন রবীয়াকে যখন ওমরের এই মর্মবেদনার কথা জানালেন,তখন আমের জিজ্ঞেস করলেন,ওমরের এই ভাবান্তর দেখে কি তুমি তাঁর ইসলাম গ্রহনের আশা পোষণ করছ? উম্মে আবদুল্লাহ বললেন, হাঁ।আমের বললেন,তুমি যাকে দেখেছ,সে যখন ইসলাম গ্রহন করবে, তখন খাত্তাবের গাধাও ইসলাম গ্রহন করবে (খাত্তাব হযরত ওমরের পিতার নাম)।উম্মে আব্দুল্লাহ বলেন,ইসলামের ব্যাপারে ওমরের নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতার কারনে এ ধরনের হতাশা জন্মে গিয়েছিল।

কিন্তু এই ঘটনা যে হযরত ওমরের বিবেকে এক জোরালো কষাঘাত হেনে থাকবেনা,তা কে বলতে পারে?অনুরূপভাবে অন্য একটা বর্ণনা থেকে জানা যায় যে,রাসুল (সাঃ) এর কোরআন পাঠ শুনে তাঁর মন প্রভাবিত হয়েছিল।এ সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য নিম্নরুপঃ

‘আমি ইসলাম থেকে অনেক দূরে ছিলাম। জাহেলিয়াতের যুগে মদে আসক্ত ছিলাম এবং খুব বেশী পরিমাণে মদ খেতাম। হাযওয়ারাতে [তৎকালে এটা মক্কার একটা বাজার ছিল। বর্তমানে এই যমিনটুকু মসজিদুল হারেমের অন্তর্ভুক্ত] আমাদের মদের আসর বসতো এবং সেখানে কুরায়েশ বন্ধুরা জমায়েত হতো।এক রাতে আমি নিজের সতীর্থদের আকর্ষনে ঐ আসরে উপস্থিত হই। সতীর্থদের সেখানে অনেক খোজাখুজি করি। কিন্তু কাউকে পাইনি। পরে এক মদ বিক্রেতার কথা মনে পড়লো এবং ভাবলাম ওখানে গিয়ে মদ খাবো। কিন্তু তাকেও পেলাম না। তারপর ভাবলাম কা’বা শরীফে চলে যাই এবং ওখানে ষাট সত্তর বার তাওয়াফ করে নেই। সেখানে গিয়ে দেখলাম, রসূল সাঃ নামায পড়ছেন। তিনি রুকনে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মাঝখানে (বাইতুল মাকদাস অভিমূখে) দাঁড়িয়েছিলেন। সহসা মনে ইচ্ছা জাগলো, এই লোকটা কি পড়ে আজ একটু শোনাই যাকনা। কা’বার গেলাফের ভেতরে ঢুকে আস্তে আস্তে একেবারে কাছে গিয়ে শুনতে লাগলাম। আমার ও রাসুল (সাঃ) এর মাঝে কেবল কা’বার গিলাফ ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। আমি যখন কোরআন শুনলাম, তখন আমার মনটা গলে গেলো।চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। ঠিক সেই মূহুর্তেই আমার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করলো।

এই বর্ণনার অবশিষ্টাংশে বলা হয়েছে,ওমর রাঃ তখনই রাসুল (সাঃ) এর সাথে চলে যান এবং ইসলাম গ্রহন করেন।তবে প্রকৃত পক্ষে তার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে পূর্বোক্ত বর্ণনাই সঠিক।তার বোনের ঈমান, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দেখেই তাঁর মন মগজ ইসলাম গ্রহণের দিকে চূড়ান্তভাবে ধাবিত হয়।ওমরের (রাঃ) নিজের বর্ননার এই অংশটা খুবই গুরুত্ববহ যে তিনি রাসুল (সাঃ) এর কাছ থেকে কোরআন শ্রবণ করতে গিয়েছেন। এবং নিজ কানে শোনা কোরআনের আয়াত তার অন্তরে ঈমানের বীজ বপন করেছে।এক নাগাড়ে বছরের পর বছর ধরে চলা থাকা দ্বন্দ্ব সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এরূপ ঘটনা ঘটা খুবই স্বাভাবিক।ওমরের মত ব্যক্তিত্ব ইসলামের দাওয়াত নিজ কানে না শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন এটা হয় কেমন করে?

কোরআনের বিরোধিতায় লিপ্ত আরো অনেকে, এমনকি বড় বড় নেতারাও পর্যন্ত কৌতুহলের বশে গোপনে ছুটে আসতো আকাশ থেকে নেমে আসা এই সুমধুর তান শুনতে। অথচ প্রকাশ্য মজলিসে তারাই আবার বলতো,আমাদের কান বধির।একবার গভীর রাতে রসূল সাঃ যখন নিজ ঘরে বসে কোরআন পড়ছিলেন, তখন আবু সুফিয়ান,আবু জাহেল ও আখনাস বিন শুরাইক লুকিয়ে লুকিয়ে রাসুল সাঃ এর ঘরের আশে পাশে সমবেত হয়ে শুনছিল।পরে বাড়ী ফেরার সময় ঘটনাক্রমে তারা পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে পড়ে।তখন একে অপরকে এই বলে অপবাদ দিতে থাকে যে,এ রকম করা উচিৎ নয়।নচেৎ স্বল্পবুদ্ধির সাধারণ লোকেরা যদি দেখে ফেলে,তাহলে তাদের মনে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।এ কথা বলে তারা চলে গেল।পরেরদিন তারা আবারো আসলো এবং আবারো আগের মতন ভৎসনা ও উপদেশ বিনিময় হলো।তৃতীয় রাতে আবারো এই ঘটনা ঘটলো এবং শেষ পর্যন্ত খুবই জোরদার প্রতিজ্ঞা করা হলো যে,ভবিষ্যতে এমন কাজ আর কিছুতেই হবেনা। তবে প্রাসঙ্গিক ভাবে পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ হলো যে,মুহাম্মাদ সাঃ এর কাছ থেকে শোনা বাণী সম্পর্কে কার কি মত?প্রত্যেকেই কিছু না কিছু বললো। সবার শেষে আবু জাহল উত্তেজিত কন্ঠে বললো,বনু আবদ মানাফের সাথে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময়ই ছিল। তারা আতিথেয়তা করলে আমরাও করতাম,তারা রক্তপণ দিলে আমরাও দিতাম, তারা দানশীলতা করলে আমরাও করতাম।এভাবে আমরা তাদের সমকক্ষ হয়ে গিয়েছিলাম।কোন ব্যাপারেই পেছনে পড়িনি।হঠাৎ এখন তারা বলতে আরম্ভ করেছে যে, তাদের গোত্রে নবী এসেছে।এটা আমরা কেমন করে মেনে নেই?এই ক্ষেত্রে তো আমরা তাদের সমকক্ষতা দাবি করতে পারছিনা।কাজেই আল্লাহর কসম, আমরা তাঁর উপর ঈমানও আনতে পারিনা, তাঁকে সমর্থনও করতে পারিনা।

ঐ সময় ইসলাম সম্পর্কে সর্ব সাধারণের মনে ব্যাপক কৌতুহল ও জেগেছিল এবং যা হযরত ওমরকেও কখনো কখনো রাসুল সাঃ এর কাছে নিজ কানে আল্লাহর বাণী শোনার জন্য টেনে নিয়ে গিয়েছিল।তা অনুধাবন করার জন্যই এই ঘটনাটা প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করলাম।তথ্যসূত্র সীরাতে ইবনে হিশাম।

ইতিহাস সাক্ষী!কুরআন ছাড়া আর কোন গ্রন্থই প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে মানুষের হৃদয়ে এত আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে নি।এত দ্রুত মানুষ ও সমাজকে বদলে দিতে পারে নি।ধর্মান্ধতা ও পাশবিকতার পরিবর্তে ধর্ম,মানবিকতা ও মুক্তকথার এই স্রোত প্রবাহিত হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্মে,যুগের পর যুগান্তরে,শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রবাহিত হতেই থাকবে।
কুরআনের অনুসারীরা যখন শিল্প,সাহিত্য ও জ্ঞানবিজ্ঞানে অবগাহন করছিল তখন মানবতা ডুবে ছিল অজ্ঞতা ও ধর্মাদ্ধতার অন্ধকার যুগে।কুরআনের পথ অনুসরণ করা লোকদের দ্বারাই আলোকোজ্জ্বল সভ্যতা বিভিন্নভাবে ইউরোপের দেশে পৌঁছে যায়।দুনিয়া জুড়ে সূচনা হয় মানবতার মুক্তির জয়গান।নতুন করে শুরু হয় জ্ঞানবিজ্ঞানন চর্চার স্রোত,এগোতে থাকে বিজ্ঞান।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়,কুরআন যে মানবিকতা,জ্ঞাননচর্চা ও মুক্তবুদ্ধিরর শিক্ষা দিয়েছে তারই ফল্গুধারায় লালিত হয়ে বিশ্ব প্রবেশ করেছিল বর্তমান বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগে।

প্রতিটি মানুষ বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই একটি মৌলিক প্রশ্নের জবাব জানতে চায়।তা হলো,দুনিয়াতে আমি কিভাবে ভালো থাকবো?মৃত্যুর পর আর কোন জীবন আছে কি?১৪শত বছর আগ থেকে কুরআন থেকে যত মানুষ এই এই প্রশ্নের বোধগম্য জবাব পেয়েছে আর কোন ধর্মগ্রন্থ থেকে তারা তা পায় নি।কুরআন তাই মানুষের কাছে অনুভূত হয়েছে পরন করুণাময়ের করুণার এক উজ্জল নিদর্শনরুপে।

কুরআন নিঃসন্দেহে আল্লাহর কালাম অর্থাৎ বাণী বা কথা।এটা বিশ্বাস না করলে কেউ মুমিন হতে পারবে না।নাজিল হয়েছে আরবী ভাষায়,এর শব্দবিন্যাস,ছন্দ,সৌন্দর্য,ব্যঞ্জনা,এর অন্তর্নিহিত শক্তি ও গভীরতা অতুলনীয়।তাই আজ পর্যন্ত করআনের সবচেয়ে ছোট সুরা আল কাউসার এর সমান একটা সুরাও কেউ রচনা করতে পারে নি।ভন্ড নবী মুসায়লামাতুল কাজ্জাব তার সময়ের লোকদেরকে বলেছিল তার প্রতি আল্লাহ কুরআনের মত একটা সুরা নাজিল করেছে তবে সেটা শুনে তার লোকেরা তাকে আরো বেশি সন্দেহ ও অবিশ্বাস করা শুরু করেছিল।এখনো পর্যন্ত কুরআনের প্রথম তিনটি অক্ষর আলিফ,লাম,মীম’র অর্থ দুনিয়ার কোন পন্ডিত বের করতে পারে নি কিয়ামত পর্যন্ত পারবেও না।
কুরআনের অনুসারীরা যখন শিল্প,সাহিত্য ও জ্ঞানবিজ্ঞানে অবগাহন করছিল তখন মানবতা ডুবে ছিল অজ্ঞতা ও ধর্মাদ্ধতার অন্ধকার যুগে।কুরআনের পথ অনুসরণ করা লোকদের দ্বারাই আলোকোজ্জ্বল সভ্যতা বিভিন্নভাবে ইউরোপের দেশে পৌঁছে যায়।দুনিয়া জুড়ে সূচনা হয় মানবতার মুক্তির জয়গান।নতুন করে শুরু হয় জ্ঞানবিজ্ঞানন চর্চার স্রোত,এগোতে থাকে বিজ্ঞান।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়,কুরআন যে মানবিকতা,জ্ঞাননচর্চা ও মুক্তবুদ্ধিরর শিক্ষা দিয়েছে তারই ফল্গুধারায় লালিত হয়ে বিশ্ব প্রবেশ করেছিল বর্তমান বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগে।

প্রতিটি মানুষ বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই একটি মৌলিক প্রশ্নের জবাব জানতে চায়।তা হলো,দুনিয়াতে আমি কিভাবে ভালো থাকবো?মৃত্যুর পর আর কোন জীবন আছে কি?১৪শত বছর আগ থেকে কুরআন থেকে যত মানুষ এই এই প্রশ্নের বোধগম্য জবাব পেয়েছে আর কোন ধর্মগ্রন্থ থেকে তারা তা পায় নি।কুরআন তাই মানুষের কাছে অনুভূত হয়েছে পরন করুণাময়ের করুণার এক উজ্জল নিদর্শনরুপে।

কুরআন নিঃসন্দেহে আল্লাহর কালাম অর্থাৎ বাণী বা কথা।এটা বিশ্বাস না করলে কেউ মুমিন হতে পারবে না।নাজিল হয়েছে আরবী ভাষায়,এর শব্দবিন্যাস,ছন্দ,সৌন্দর্য,ব্যঞ্জনা,এর অন্তর্নিহিত শক্তি ও গভীরতা অতুলনীয়।তাই আজ পর্যন্ত করআনের সবচেয়ে ছোট সুরা আল কাউসার এর সমান একটা সুরাও কেউ রচনা করতে পারে নি।ভন্ড নবী মুসায়লামাতুল কাজ্জাব তার সময়ের লোকদেরকে বলেছিল তার প্রতি আল্লাহ কুরআনের মত একটা সুরা নাজিল করেছে তবে সেটা শুনে তার লোকেরা তাকে আরো বেশি সন্দেহ ও অবিশ্বাস করা শুরু করেছিল।এখনো পর্যন্ত কুরআনের প্রথম তিনটি অক্ষর আলিফ,লাম,মীম’র অর্থ দুনিয়ার কোন পন্ডিত বের করতে পারে নি কিয়ামত পর্যন্ত পারবেও না।

মানব সমাজ আন্তরিকতা নিয়ে কুরআনের মর্মবাণী অনুধাবন করতে চাইলে যে কোন মানুষের পক্ষে তা সহজে সম্ভব।কারন কুরআনে আল্লাহ বলেন হুদাল্লিন্নাস অর্থাৎ সকল মানুষের জন্য এটা পথ প্রদর্শক এবং সবাইকে হেদায়াতের পথে আসার চূড়ান্ত গাইড লাইন।আমি নিজে একজন সাধারন মানুষ হিসেবে আল কুরআনকে যত বুঝার চেষ্টা করেছি ততই মজা পেয়েছি।
পাশাপাশি বিশ্মিত ও চমকিতও হয়েছি।

আবেগে আপ্লুত হয়ে কুরআনকে যতটুকু সম্ভব বুঝে এর বাণীরগুলোর চির নতুনত্বগুলোকে উপলদ্ধি করার প্রয়াস চালাচ্ছি।আমি দেখতেছি ও বুঝতে পারতেছি জাহেলিয়াতে ছেয়ে যাওয়া এই সমাজের মানুষের প্রতিটি জিজ্ঞাসার জবাব আল কুরআনের প্রতিটি আয়াতে আয়াতে বিরাজমান।স্পষ্ট অনুভব করেছি ১৪শত বছর আগে অধঃপতিত প অজ্ঞতারর অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষগুলো এই কুরআনের মর্মার্থ অনুধাবন ও অনুসরণ করে নিজেদেরকে কিভাবে পৃথিবীর সেরা মানুষে রুপান্তরিত করেছিল,পুরো দুনিয়াতে আলোকোজ্জ্বল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল।

একইভাবে যে কোন বঞ্চিত অবহেলিত মানুষ যদি কুআনের মর্মবাণীকে অনুধাবন করে তা অনুসরণ করে তাহলে সে মানুষও সফলতার মুখ সহজে দেখতে পারবে।আর এই মানুষগুলো হবে ভবিষ্যৎ আলোকোজ্জ্বল সমাজ ও সভ্যতার নির্মাতা।দুনিয়ার মানুষেরা মুক্তি পাবে জুলুম,শোষন,নির্যাতন,লুটপাট,হিংসা বিবাদ,পরাধীনতা ও দাসত্বের কবল থেকে।

লেখকঃ হাফেজ আশরাফ উদ্দীন
ওমান প্রবাসী

সর্বশেষ

মস্তান নগর ক্রীড়া সংঘের লং পিচ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত

মস্তান নগর ক্রীড়া সংঘের লং পিচ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত উক্ত খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত...

মিরসরাইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে নবনির্বাচিত এমপি নুরুল আমিনকে সংবর্ধনা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি মিরসরাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে নবনির্বাচিত সংসদ সংসদ নুরুল আমিনকে সংবর্ধনা, ইফতার ও...

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে বিএনপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই সংসদীয় আসনের নবনির্বাচিত এমপি নুরুল আমিন নির্দেশনায়, ৩ নং জোরারগঞ্জ...

মিরসরাইয়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ড বন্ধে এমপি নুরুল আমিনে কঠোর হুশিয়ারি

  নিজস্ব প্রতিনিধি মিরসরাই উপজেলায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ চোরাকারবার বন্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন নবনির্বাচিত...

আরও পড়ুন

পবিত্র শবে মেরাজ ১৬ জানুয়ারি

  নিজস্ব প্রতিবেদক বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে সোমবার...

মিরসরাইয়ে মাওলানা মোহাম্মদ ছেরাজুল ইসলাম (রহঃ) এর জীবনী নিয়ে আলোচনা

মিরসরাই প্রতিনিধি ::: মিরসরাইয়ের মিঠানালা সুফিয়া নুরিয়া ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ, হাজার হাজার আলেমের ওস্তাদ,...

এক মসজিদে ৫০ বছর খতমে তারাবির ইমামতি করছেন হাফেজ মাহফুজ

  যেকোনো পেশা বা কাজে অর্ধশত বৎসর অতিক্রান্ত করা বিশেষ কিছু! এ মহেন্দ্রক্ষণকে উদযাপন করা...