জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছিল, ঠিক তখনই ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত বর্বর হামলা জাতির মেরুদণ্ডে শীতল স্রোত বইয়ে দিয়েছে। এ হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক চর্চা, জনগণের ভোটাধিকার এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর অন্ধকারের শক্তির ঔদ্ধত্য। আমরা এই কাপুরুষোচিত ও ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা করছি এবং অবিলম্বে এর নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানাচ্ছি।
শরিফ ওসমান হাদির মতো একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর দিনের আলোয় এমন হামলা প্রমাণ করে, দেশে এখনো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির প্রাথমিক শর্ত নিরাপত্তা ও ভীতিমুক্ত রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ অনুপস্থিত। যারা মনে করে, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মাঠছাড়া করে একতরফা নির্বাচন পার করে দেবে, এই হামলা তাদের বর্বরোচিত মনস্তত্ত্বের প্রকাশ। প্রশ্ন জাগে, জুলাই অভ্যুত্থানের একটি পরিচিত মুখ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তাহলে সাধারণ ভোটাররা কীভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সাহস দেখাবেন? নির্বাচন কমিশন, যারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্বে অধিষ্ঠিত, এ পরিস্থিতিতে তাদের নীরবতা হতাশাজনক। নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের মৌলিক দায়িত্ব। যদি আরও প্রার্থী এভাবে হামলার শিকার হন, তাহলে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া একটি প্রহসনে পরিণত হবে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক দুষ্কৃতকারীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি যেন তাদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে না পারে। এক্ষেত্রে ব্যর্থতা কেবল শরিফ ওসমান হাদির প্রতি অবিচার হবে না, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকেও করবে প্রশ্নবিদ্ধ। রাষ্ট্রের উচিত, নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভীতি ও সন্ত্রাসের এই বিষাক্ত বীজ উপড়ে ফেলা। অন্যথায় নির্বাচন নিয়ে জনগণের নিরাপত্তাজনিত ভীতি কাটবে না।



