জীবনের নিষ্ঠুর চলার পথে কিছু লুকায়িত সত্য
হাসপাতালের ডক্টরস রুমে বসে রুগীর discharge paper লিখছি।
এমন সময় ……
– আমার রুগী কি আজকেই মারা যাবে?
– মাথা তুলে তাকিয়ে দেখি ৩৫-৪০ বছরের এক লোক দাঁড়িয়ে আছে।
অবাক হয়ে বললাম……কি বললেন?
– আমি ২২ নম্বর বেডের রুগীর লোক। জানতে চাচ্ছি, আমার রুগী কি আজকেই মারা যাবে, নাকি আরও কয়েকদিন টিকবে।
– রুগী কখন মারা যাবে সেটাতো আমি বলতে পারবো না। ওটা আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। আচ্ছা আপনি রুগীর কি হন?
– আমি উনার ছেলে।
– ছেলে হয়ে জানতে চাচ্ছেন, মা আজকেই মারা যাবে কিনা!!!!
– ক্যান্সারের রুগী। অবস্থা দেখে মনে হলো খুব একটা ভালো না। আর আমাকেও একটা কাজে দেশের বাইরে যেতে হবে। তাই জিজ্ঞেস করলাম।
– এমন সময় রুমে এক ইন্টার্ন ডাক্তার ঢুকে বললো ……. ভাইয়া, ২২ নম্বর বেডের রুগীর জন্য রক্ত ম্যানেজ করতে পেরেছি। আমার এক আত্মীয়কে অনেক রিকোয়েস্ট করে রক্ত দিতে রাজি করিয়েছি।
– আমি হেসে দিয়ে বললাম …… কেউ অন্যের মাকে আরও একটা দিন বাঁচানোর জন্য রক্ত ম্যানেজ করে। আর কেউ নিজের মা কবে মারা যাবে তার জন্য অস্থির হয়ে থাকে।
..
..
– কিছুক্ষণ পর সিস্টার কল দিয়ে বললো …… স্যার, ২২ নম্বর বেডের রুগীর অবস্থা ভালো না। এক্ষুণি আসেন।
– আমি দৌড়ে গেলাম।
– মহিলা বিড় বিড় করে শুধু বলছে …… আমার বাজান কোই?
– আমি সিস্টারকে বললাম …… উনার ছেলে কোথায়? উনাকে ডাক দেন।
– ছেলেতো চলে গেছে। তার নাকি কি কাজ আছে। কাল সকালে আসবে।
– আমি মহিলার পাশে বসে হাতটা ধরলাম। মহিলা আমার হাত শক্ত করে ধরে বললো …… বাজান আইছোস? কোই ছিলি এতোক্ষণ?
– আমিতো তোমার পাশেই ছিলাম মা। তুমি কোনো টেনশন করো না। আমি আছি তোমার পাশে।
– ২-৩ মিনিট পর মহিলার হাত আমার হাতের মধ্যে নিথর হয়ে পড়ে রইলো। আমি তার হাতের মধ্যে থেকে আমার হাতটা সরিয়ে নিলাম।
– সিস্টারকে জিজ্ঞেস করলাম …… কেমন অভিনয় করলাম? আমার এই অভিনয়ের জন্য আমাকে অস্কার দেয়া উচিৎ না?
– সিস্টার কাঁদছে।
– আমার চোখ দুটোতেও দেখি কেমন আদ্রতা জমা হচ্ছে। দ্রুত পায়ে ২২ নম্বর বেড থেকে সরে এলাম !!
অধ্যাপক ডাঃ কাজী মাযহারুল ইসলাম দোলন এর ফেসবুক থেকে



