জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ বাংলাদেশের

291

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের মধ্য দিয়ে ফয়সালা হয়ে গিয়েছিলো বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজের। হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য নিয়ে আজ শুক্রবার ( ২৬ অক্টোবর) মাঠে নামে টাইগার বাহিনী। পূর্ণ হলো সে লক্ষ্য। দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়েকে আবারো হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ করার এই দিনে গড়া হলো আরেক কীর্তি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় উইকেট জুটির রেকর্ড গড়লেন সৌম্য এবং ইমরুল।

জিম্বাবুয়ের দেয়া ২৮৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ওপেনার লিটন দাস কোন রান না করেই ফেরত যান। ওয়ান ডাউনে নামা সৌম্য সরকার এবং ইমরুল কায়েস মিলে রানের ফুলঝুরিতে মেতে উঠেন। গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের মাতিয়ে রাখে এই জুটি।

দেশের মাটিতে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন ইমরুল কায়েস এবং সৌম্য সরকার। এরআগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২০৭ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদ উল্লাহ। শুধু দ্বিতীয় উইকেট জুটি নয় আর মাত্র ৫ রান করতে পারলে  সৌম্য এবং ইমরুল গড়তে পারতেন আরেক কীর্তি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট জুটির রেকর্ডটি ছিলো ২২৪ রানের। দলীয় ২২০ রানের মাথায় সৌম্য সরকার আউট হওয়ার কারনে গড়া হলোনা সেই কীর্তি।

সেঞ্চুরি করে সৌম্য সরকারের বিদায়ের কিছুক্ষণ পরই ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি উদযাপন করলেন ইমরুল কায়েস।  ৯৯ বল মোকাবেলা করে ৯ চার এবং ১ ছক্কায় ১০০ রান পূর্ণ হয় তার।

সিরিজের ১ম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ১০ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন।  সেদিন সেঞ্চুরি হলে আজ টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি উদযাপনের উপলক্ষ চলে আসতো নিঃসন্দেহে। আউট হওয়ার আগে তিনি ১১৫ রান সংগ্রহ করেন। ১০ চার আর ২ ছক্কার সাজান তার ইনিংস। ৪২ ওভারে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। মুশফিকুর রহিম ২৮ এবং মিঠুন ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

সাত উইকেটে জয়। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ সৌম্য সরকার এবং ম্যান অব দ্যা সিরিজ ইমরুল কায়েস।

জিম্বাবুয়ের উইলিয়মস, মাসাকাজ্জা এবং জারভিস ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাড়ায় ২৮৭ রান।

শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের উইকেটে হানা দিতে থাকে বাংলাদেশি বোলাররা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে সেফাস ঝুয়াওকে বোল্ড করে শূন্য হাতে ফেরান সাইফউদ্দিন। (৬/১)। এরপর শিকারে যোগ দেন আবু হায়দার রনি। তার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ২ রানে ফেরেন হ্যামিলটন মাসাকাদজা (৬/২)।

তবে তৃতীয় উইকেটে ব্র্যান্ডন টেইলর আর শেন উইলিয়ামস মিলে জিম্বাবুয়ের ইনিংস বড় করতে থাকেন। এরপর জিম্বাবুয়ের উইকেট ভাঙেন স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু (১৩৮/৩)। তার করা ২৭তম ওভারের চতুর্থ বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৭২ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭৫ রান করা ব্র্যান্ডন টেইলর। আউট হওয়ার আগে উইলিয়ামসের সঙ্গে ১৩২ রানের জুটি গড়েন এই ব্যাটসম্যান।

চতুর্থ উইকেটে উইলিয়ামসের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে যোগ দেন সিকান্দার রাজা। দু’জন মিলে বড় করতে থাকেন জিম্বাবুয়ের ইনিংস। এই জুটিও ভাঙেন নাজমুল ইসলাম অপু (২২২/৪)। ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে তার বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫১ বলে ৪০ রান করা সিকান্দার রাজা। তবে ৪৪তম ওভারের শেষ বলে শতক তুলে নেন শেন উইলিয়ামস। ১২৪ বল খরচায় ৭টি চারে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতকটি তুলে নেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

এরপর পিটার মুরকে সঙ্গী করে বাংলাদেশি বোলারদের হতাশ করতে থাকেন উইলিয়ামস। দু’জনের জুটি থেকে আসে ৬২ রান। এরপর ৫০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রাউআউট করে পিটার মুরকে ২৮ রানে ফেরান আরিফুল হক (২৮৪/৫)। জিম্বাবুয়ের শেন উইলিয়ামস ১২৯ এবং এলটন চিগম্বুরা ১ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট তোলেন নাজমুল হাসান অপু। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আবু হায়দার রনি ১টি করে উইকেট নেন।

সূত্র সিভয়েস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here