উচ্চশিক্ষার রূপান্তর ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: একটি উন্নয়নের রোডম্যাপ
– ইঞ্জিনিয়ার তাওসিফ ইমরাজ শিহান
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির যে ধারা গত তিন দশকে বিকশিত হয়েছে, তার শিকড় সন্ধানে গেলে ১৯৯২ সালের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি জাতির মেরুদণ্ড যে শিক্ষা ব্যবস্থা, তার আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর ভিত্তি রচিত হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে। আজ আমরা যে উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় শিক্ষার আলো পৌঁছে যাওয়ার কথা বলি, তার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল বিএনপি সরকারের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমেই।
১৯৯২ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। সেদিন মহান জাতীয় সংসদে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিল’ পাসের মাধ্যমে দেশে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ দেশেই বিশ্বমানের শিক্ষার পথ সুগম করার সেই সিদ্ধান্তটি ছিল সময়োপযোগী এবং সাহসী। এর ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে আর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশের মাটিতে পাড়ি দিতে হয়নি, বরং দেশেই তৈরি হয়েছে দক্ষ জনশক্তি।
একই বছরের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়’। আজ যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত এবং ৩০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। মফস্বল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার আওতায় এনে বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছিলেন যে, উচ্চশিক্ষা কেবল নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির একচেটিয়া অধিকার নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। উন্নয়নের এই দর্শনটিই শহীদ জিয়ার ‘আধুনিক বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নের সার্থক প্রতিফলন।
বর্তমানে শহীদ জিয়ার দেশপ্রেম আর বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়নমুখী রাজনীতির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আগামীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। তিনি কেবল ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক রোডম্যাপ নিয়ে এগিয়ে চলছেন। বিএনপির প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার কার্ড’ কর্মসূচী কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি প্রতিটি পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি বৈপ্লবিক হাতিয়ার। প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার এই পরিকল্পনাটি আগামীর বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তার স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।
শিক্ষাখাতে যেমন ১৯৯২ সালের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের সুফল আমরা আজ তিন দশক ধরে ভোগ করছি, ঠিক একইভাবে তারেক রহমানের পরিকল্পিত এই জনকল্যাণমূলক পলিসিগুলোর সুফল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একটি উন্নত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ উপহার দেবে। জাতীয় সংকটকালে জিয়া পরিবার ও বিএনপি বরাবরই ত্রাণকর্তার ভূমিকা পালন করেছে। ইতিহাসের সত্য এটাই যে, যখনই দেশ নীতিগত দিকভ্রান্তিতে পড়েছে, বিএনপি তার সঠিক সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি স্থিতিশীল এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। অতীতের সাফল্যের ধারাবাহিকতা আর আগামীর আধুনিক পরিকল্পনার সমন্বয়ে বিএনপিই পারবে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে। আস্থা রাখুন সত্যের পথে, বিশ্বাস রাখুন তারেক রহমানের নেতৃত্বে।




