নিজস্ব প্রতিবেদক >>
জনভোগান্তি নিরসনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে থাকা ৪৪টি সরকারি অফিস একই কম্পাউন্ডে নিয়ে আসার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কালুরঘাটে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পাশে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে ৭৬ একর জায়গায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পে স্থানান্তরিত হওয়া অধিকাংশ অফিস-আদালত বর্তমানে পরীর পাহাড়ে অবস্থিত। অফিস-আদালতগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর পরীর পাহাড়কে ঘোষণা করা হবে হেরিটেজ স্পট।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, নগরের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র পরীর পাহাড় থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জনশক্তি কার্যালয়, এডিএম কোর্ট, রেকর্ড রুমসহ সরকারের বিভিন্ন অফিস স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পরীর পাহাড়কে হেরিটেজ ঘোষণা করতে সরকারি অফিস সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সরকারি অফিস সরিয়ে কালুরঘাটের প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, এডিএম কোর্ট, রেকর্ড রুম, সার্কিট হাউজ, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, শপিং মল, মাল্টি স্টোরেজ কার পার্কিং, লেকসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। আনুমানিক এক বছর পর এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, মানুষের ভোগান্তি কমাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারি অফিসে মানুষের ভোগান্তি কমাতে এক জায়গায় ৪৪টি অফিসের কার্যক্রম চলবে। এতে মানুষের ভোগান্তি কমবে। এছাড়া কাজেও গতি আসবে। এলাকাটিতে শপিং মল থেকে শুরু করে নানা কিছু ওখানে নির্মিত হবে। এটিকে পরিকল্পিত একটি শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া পরীর পাহাড়কে হেরিটেজ ঘোষণা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামে আসছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সার্কিট হাউজে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ এবং ডিজাইন উপস্থাপনের কথা রয়েছে। কর্ণফুলী পাড়ের ওই স্থানটির নান্দনিকতা রক্ষা করে অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। আগামী বছরের আগস্ট মাস নাগাদ প্রকল্পটির অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ হওয়ার কথা রয়েছে। তিন বছরের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর চট্টগ্রামের সব সরকারি অফিস এখানে স্থানান্তরিত হবে।
এ প্রকল্প প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলওয়ার মজুমদার বলেন, ‘আমরা আরো বিশ বছর আগে থেকে পরীর পাহাড় রক্ষার জন্য আন্দোলন করছি। এরপরেও পরীর পাহাড়ে একে একে বেশ কয়েকটি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এখন যদি স্থাপনাগুলো পরীর পাহাড় থেকে সরানো হয় তাহলে পরীর পাহাড়কে রক্ষা করা সম্ভব।’
এ প্রকল্পে পরিকল্পনার জটিলতা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবগুলো সরকারি অফিস যদি একই জায়গায় চলে যায় তাহলে মানুষের ভোগান্তি না কমে আরো বেড়ে যেতে পারে। সরকারি অফিসের কাজে সাধারণ মানুষ যদি একটা স্থানে ভিড় করে তাতে যানজটের সৃষ্টি হবে। তাই যেসব সরকারি অফিসের নিজস্ব ভবন নেই, তাদেরকে ওখানে স্থানান্তর করে বাকি সব অফিসকে ডিপার্টমেন্ট ওয়াইজ তিন চারটি জায়গায় নিয়ে গেলে তা আরো বেশি পরিকল্পিত হবে বলে মনে করি।



