নগরের বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আবাসিক এলাকার বি ব্লকের ১ নং রোডের একটি বাসায় ঘরে দুই শিশু সন্তান রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও তিন লাগেজভর্তি কাপড়চোপড় নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন আসমা জলিল নামে এক গৃহবধূ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে আসমার স্বামী পরদিন বাকলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন নিখোঁজ গৃহবধূর। নিখোঁজ গৃহবধূ আসমা জলিলের বাড়ি ঢাকায়। তার জন্ম সৌদি আরবে। ১৬-১৭ বছর পর্যন্ত সেখানেই কেটেছে তার। ২০১১ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছৈয়দাবাদ গ্রামের হাজী দুদু মিয়া চৌধুরী বাড়ির সামশুল হকের পুত্র মোহসিনুল হকের সাথে আসমা জলিলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৮ বছর বয়সী কন্যা এবং ৫ বছর বয়সী ছেলেশিশু রয়েছে।
আসমা জলিলের স্বামী পাথর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোহসিনুল হক ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের মতো তিনি কর্মস্থল থেকে রাত ১১ টার দিকে বাসায় ফিরে দেখতে পান, তার স্ত্রী বাসায় নেই। পরে বাসার দারোয়ানের কাছে জানতে পারেন বিকাল ৩ টার দিকে তার স্ত্রী তিনটি লাগেজ নিয়ে বেরিয়ে যান। এসময় দারোয়ানকে লাগেজ মেরামত করতে যাচ্ছেন বলে জানান।
ঘটনার পর স্বামী মোহসিনুল হক সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও স্ত্রীর সন্ধান পাননি। জিডিতে তার স্ত্রী নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন স্বামী মোহসিনুল।
এদিক গত তিন দিনেও নিখোঁজ গৃহবধূ আসমার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে প্রকৃত ঘটনা কী, পরকীয়া প্রেমঘটিত কোনো বিষয় কিনা আমরা খতিয়ে দেখছি জানিয়র বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিদর্শন বড়ুয়া গনমাধ্যমকে বলেন, এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দীন গনমাধ্যমকে বলেন, নিখোঁজ গৃহবধূর স্বামী যে ছেলেটাকে সন্দেহ করছেন তার নাম সাদ্দাম। সাদ্দামের বাড়ি গাজীপুর। গতকাল তার নাম্বারটির অবস্থান রাজবাড়ি বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে। রাজবাড়ি যাওয়া আমাদের পক্ষে কঠিন।
তাই বলেছি, অভিযোগকারী যদি সেখানে যেতে চান, আমরা রাজবাড়ির এসপি স্যার ও থানার ওসিকে অনুরোধ করে সর্বাত্মক সহযোগিতার ব্যবস্থা করবো।
মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক, স্বেচ্ছায় চলে গেছেন। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের খুব বেশি কিছু করার নেই। তবুও সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। বলেন ওসি নেজাম উদ্দীন।
থানা সূত্র জানিয়েছে, কিছুদিন আগে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইংরেজিতে ‘মিউজিক প্রেজেন্টেশন’ দিয়েছিলেন গৃহবধূ আসমা জলিল। সেই অনুষ্ঠানে বাংলায় ‘প্রেজেন্টেশন’ দেন গাজীপুরের ছেলে সাদ্দাম (২২)। সেখানেই তাদের সাথে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা। পরবর্তীতে সেই ঘনিষ্ঠতা পরকীয়া পর্যন্ত গড়ায়। টেলিফোন ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে তাদের সাথে প্রায় কথা হতো। সাদ্দামের খরচের জন্য বিকাশে প্রায়সময় তিনি টাকা পাঠাতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে।



