টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ এলাকা ডুবে গেছে। রোববার সারাদিন বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। রোববার রাতভর বৃষ্টিতে সেটি আরো চরম আকার ধারণ করেছে। নগরের নিম্নাঞ্চলের সড়কগুলোর ওপর উঠে গেছে কোমর-পানি। সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি না হলেও জলাবদ্ধতায় সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।
এদিকে, সামনের সড়ক থেকে বাড়ির উঠান ছাড়িয়ে হাঁটু সমান পানি ঢুকে গেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিমের বাসায়।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর বহদ্দারহাটে মেয়রের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দু’ তলার বাড়ির সামনের সড়ক থেকে বাড়ির উঠান পর্যন্ত হাঁটুর ওপর পানি। সেই পানি ঢুকে গেছে বাড়ির নিচ তলার মেয়রের শয়নকক্ষে। তবে পানির কারণে এখন মেয়র দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে থাকছেন বলে জানিয়েছেন বাড়ির দুই নিরাপত্তাকর্মী।
তারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে মেয়র বাড়ির নিচ তলার একটি কক্ষে ঘুমান। তবে কদিন ধরে সেখানে হাঁটু সমান পানি হওয়ায় আর ঘুমাতে পারছেন না। এখন আপাতত দ্বিতীয় তলায় থাকছেন।
দুপুরে মেয়রের প্রতিক্রিয়া নিতে তার বাড়িতে ভিড় করেছেন সাংবাদিকেরা। তবে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, পানির কারণে নিচে নামা সম্ভব হচ্ছে না। মেয়র দ্বিতীয় তলায় ঘুমাচ্ছেন।
টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা ছাড়া বলতে গেলে এখন সবখানেই জলাবদ্ধতা। নগরীর বাকলিয়া, মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ছোটপুল, বড়পোল, আগ্রাবাদ ব্যাপারীপাড়া, মহুরিপাড়া, সিডিএ আবাসিক, আতুরার ডিপো, চকবাজার, বায়েজিদ, ইপিজেড ও পতেঙ্গার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে আছে। সেই সাথে জোয়ারের পানি একত্রিত হয়ে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব এলাকার বেশিরভাগ বাড়ির নিচতলায় পানি প্রবেশ করেছে।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম চট্টগ্রাম কাগজকে বলেন, রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২১৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।



